১ (আশার জাহাজ)
এখানে অনন্ত নীল সাগরের ঢেউ ভাঙা জলে
আশার জাহাজগুলো পাড়ি দেয় সময়ের পথ
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে মণি মুক্তার ভান্ডার তলে
ডুব দিয়ে তুলে নিতে কতবার নিয়েছি শপথ
কতবার নিরাশার বুক চিরে ফেলে এই আমি
বাতাসের বুকে এক উড়িয়েছি জাহাজের পাল
সহযাত্রী নাবিকেরা বার বার এই পাগলামী
করতে করেছে মানা তবুও ছাড়িনি জেনো হাল
নিরাশার মাঝে আমি আশার আলেয়া খুঁজে খুঁজে
দুঃস্বপ্নের মাঝে এক স্বপ্নময় জাল বুনে বুনে
হয়তো নিরাশ হবো হয়তো দুচোখ যাবে বুজে
হয়তো সব হারাবো নিঃস্ব হবো সব জেনে শুনে
তবুও খেলবো খেলা যেটুকু কুলায় ক্ষীণ বলে
এখানে অনন্তনীল সাগরের ঢেউ ভাঙা জলে।
২ (স্বপ্নের জাল)
নকশী কাঁথার বুকে হাজারো শখের ফুল তুলে
সঙ্গীতের সুর অথবা নাটকের সংলাপ শুনে
জীবন কি থাকে কভু মরণের স্পর্শকেই ভুলে
মায়াবী চাঁদোয়া রাতে ঐ স্বপ্নের জাল বুনে বুনে!
মাটিকে দেখলে শুধু মনে হয় শস্য ফলা ভূঁই
চোখে কি পড়ে না তার বুক ভরা স্মৃতির কবর
সেখানে আপনি নেই, নেই কোনো তুমি আর তুই
সেখানে সবাই থাকে কেউ কারো রাখে না খবর।
তাই বলে স্বপ্ন দেখা মন কি ভুলবে চিরদিন
চোখ কি ভুলবে দেখা তারাজ্বলা আকাশের বুক?
যেমন ধূসর আছে, আছে ঠিক তেমনি রঙিন,
যেমন বিরহ আছে তেমনি থাকবে জেনো সুখ
ফুলের পাপড়ি দেখে কাঁটার আঘাত যাবো ভুলে
নকশী কাঁথার বুকে হাজারো শখের ফুল তুলে।
৩ (নদী নিরবধি)
এখানে পাহাড় হতে নেমে এসে এক ঝর্ণাধারা
সিক্ত করে উপত্যকা; পাথরের বুকে জাগে প্রাণ
নদী হয়ে বয়ে যায় সাগরের ডাকে দিতে সাড়া
বুকের পাঁজর ফুঁড়ে বের হয় প্রশান্তির গান।
কল কল ছল ছল বয়ে যায় আপন গতিতে
পিছন ফেরে না নদী যদিও পাহাড় ওঠে কেঁদে
নেমে আসে ঝর্ণা এক পাথরের বুকে প্রাণ দিতে
মোহনা মিলন সুখে নদী ও সাগর রাখে বেধে।
পাহাড় সুদূর থেকে দেখে তার আশার জোয়ার
ছুঁয়েছে অনন্তনীল ঢেউ ভাঙা সাগর হৃদয়,
সাগর মিটায় তার স্বপ্ন এক পাহাড় ছোঁয়ার
বুকে যার থাকে আশা তার কাছে মামুলী বিজয়।
আমিও রক্তে আমার গড়ে নেব এমন সে নদী
ছোটে যে পাহাড় হতে ক্লান্তিহীন সাগর অবধি।
৪ (স্বপ্ন পরশ)
তুমি যে তারকা দেখো আকাশের বুকে জ্বলে থাকে
এমন অনেক তারা যা তুমি দেখনি কোনোদিন
নিজের আলোকে তারা নিজেরাই বুকে টেনে রাখে
তুমি যে সাগর দেখো এখোনো তা হয়নি মলিন
অথচ হৃদয় তার ভরে আছে মৃতের ফসিলে।
যতটা জীবন আছে তার চেয়ে মৃত্যু আছে ঢের
বিশাল ও বুক তার তাই বুঝি রেঙেছে সুনীলে
তবুও হতাশা আজো দমাতে পারেনি সাগরের
আমিও সাগর হবো বুকে নিয়ে হতাশার শব।
পায়ে হাটা পথপাশে দেখেছো যা প্রতিদিন ভোরে
ঘাসের চাদর পেতে প্রজাপতি ফড়িঙেরা সব
বুলায় স্বপ্ন পরশ স্নেহময় পরম আদরে
অতীতের পায়ে দলা হতাশা কাটিয়ে ফের ঘাস
পৃথিবীর বুকে তার রচে নেয় আপন আবাস।
৫ (মরূ বেদুঈন)
এদিক ওদিক হলে ষোলো কোটি মুখের আহার
বানচাল হবে ভেবে ঢেকে রাখো ঢাকনির তলে
থালে যদি না বাড়ো সে ভাত তবে ভাইরা আমার
মিটাবে তাদের ক্ষুধা মেঘনা ও যমুনার জলে?
অতো কিসে ভয় প্রিয়, কে ছিনাবে মুখের এ রুটি
আমাদের হাত আছে আমাদের পা দু’খানি আছে
আমরাও পারি জেনো ছিড়ে নিতে শকুনের টুটি
এভাবে কি দমহীন আলোহীন মানুষেরা বাঁচে?
সাহারা মরূর যারা বেদুঈন তাদের কে বুকে
অমন সাহস দিলো বালিয়াড়ি পার হয়ে হয়ে
ধূসর মরূর বুকে জীবনের শ্বাস দিতে ফুঁকে
তাদের কে বলেছিল ক্ষীণ এই আশা বয়ে বয়ে
নিরাশ হবে না তারা, নিরাশ হয়না কোনো বীর
আশায় জীবন বাঁচে; বেঁচে থাকে প্রতিটি রুধির।
৬ (বেঁচে রবে স্বপ্ন)
আজানের সুরে সুরে জেগে ওঠা ভোরের মোরগ
ডাক দিয়ে ভাঙালো যে বা ঘুমন্ত মানুষের ঘুম
সেও কি ভেবেছে হায় সেই হবে সকালের ভোগ
ঝরে যাবে ভেবেই কি দল খোলে ভোরের কুসুম
আকাশ কাঁদলে যদি ঝরে পড়ে প্রাণের জোয়ার
তবে তো কাঁদায় ভালো; এ বিশ্বাস বুকে চেপে ধরে
আমিও কাঁদবো একা পৃথিবীর হৃদয় ছোঁয়ার
দুরন্ত আশায়। যদি আশার কুসুম যায় ঝরে
আবার জাগবে কুঁড়ি বুকের স্বপ্ন কুঠুরি থেকে।
মানুষ পারে না হায় সবটুকু আলো ঢেলে দিতে
আমি যদি পারতাম সবটুকু বিলাতে নিজেকে
আমি যদি পারতাম সব ব্যথা জয় করে নিতে!
কিছু যদি নাও পারি বুক ভরা আশার জোয়ার
দেহ পঁচে যাবে বেঁচে রবে স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়ার।
৭ (আশায় জীবন বাঁচে)
অবশেষে শহরের পিচঢালা পথে এসে ভাবি
এখানে জীবন কই স্বপ্ন কই কোথায় বা আশা
ঘরে ঘরে তালা ঝোলে কোথায় হারালো তার চাবি
কোথায় হারালো প্রেম কোথায় বা হাসি ভালোবাসা?
দূর থেকে তুমি হাসো; মনে মনে ভাবো- ওরে গাধা
এখানে যান্ত্রিক ধোঁয়া ছেয়েছে মনের সব ঘর
প্রতি পদে নিরাশার জটে স্বপ্নের সীমানা বাধা
এখানে মানুষ এসে মানুষের হয়ে যায় পর।
হয়তো তোমার কথা সত্যি এই শহরের বুকে
তবুও তোমাকে বলি শহরে কি থাকে না হৃদয়
হৃদয় যদিগো থাকে আমি দেবো ভালোবাসা ফুঁকে
মাটিতে ঢাললে জল কাঁদা তাতে হবেই নিশ্চয়
নিরাশ হয়োনা প্রিয়; নিরাশ হয়না কোনো বীর
আশায় জীবন বাঁচে, বেঁচে থাকে প্রতিটি রুধির।
৮ (স্বপ্নের খেয়া)
গাঁয়ের চাড়াল আমি অতসব বুঝতে শিখিনি
করূণার বৃষ্টি হলে ফসলের বীজ বুনে রাখি
ঘরের ফসল বেচে পরের ফসল কিনে আনি
তাতে যদি মেটে আশা চাহিদার কি বা থাকে বাকি।
মিটেও মেটেনা সব এটুকু বিষয় আমি বুঝি
চাতকের চাঁদ দেখে কখনো কি সাধ মেটে হায়
তাইতো এখনো আমি নতুন আশার পথ খুঁজি
আবারও স্বপ্ন দেখি ঘুমহীন রাতের বেলায়।
ভালবাসা দেবে যদি দাও আমি হাত পেতে নেব
ঘৃণা দিলে দোষ নেই সেও তো তোমারি হবে দেয়া
আমার কিছুই নেই আমি আর কি তোমাকে দেব
হারাতে চাইলে এসো আছে আমার স্বপ্নের খেয়া
সে খেয়ায় পার হবো জীবনের ক্ষীণ স্রোতস্বিনী
গাঁয়ের চাড়াল আমি অতসব বুঝতে শিখিনি।
৯ (বুঝে শুনে নিও)
প্রেম ও দ্রোহের খেলা খেলতে শিখিনি আমি আজো
তবুও কারোর সাথে পাল্লা দিতে করবো না ভয়
নিজেকে রঙিন করে যতো রূপে পারো তুমি সাজো
আমি তো তোমাকে আজ মন দিয়ে করে নেবো জয়।
প্রেম কি জানিনা আমি ভালোবাসা কারে কয় প্রিয়
সেটুকুও জানা নেই অতসব ঢোকেনা মাথায়
আশা আছে ছোটো বুকে সেটুকুই বুঝে শুনে নিও
আর আছে মন এক এ খেলাতে আমার সহায়।
ভাবছো আতেল আমি যুগের খবর জানা নেই
আশাহীন স্বপ্নহীন নিষ্ঠুর বাস্তবতার যুগে এসে
এখনো স্বপ্ন দেখছি প্রাচীন যুগের মতো সেই
এখনো ভাবছি আমি জয় করা যায় ভালোবেসে
ভাবতে দোষ কি প্রিয়, যতো রূপে পারো আজ সাজো
প্রেম ও দ্রোহের খেলা খেলতে শিখিনি আমি আজো।
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান