শেষরাতে ঘুমাতে যাওয়াটা ইদানিং একটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। কম্পিউটারের মনিটরে দুই চোখ ঝুলিয়ে রেখে মাঝরাত পার করা রুটিনের মধ্যে পড়ে গেছে। কতোদিন জানালায় নতুন সূর্যের আলো দেখে ঘুম ভাঙে না তা বলতে পারবো না। গতরাতের কথা বলি, ছবি এঁকে আর কবিতা লেখে রাত পার। এরপর নীলক্ষেত মোড়ে চায়ের আড্ডা শেষ করে এসে ঘুমোতে যাওয়া। নয়টা কি দশটার সময় হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলো। ঘুম ভাঙার পর এক আজব ব্যাপার ঘটতে লাগলো। মনে হলো ভূমিকম্প হচ্ছে, ঠিক মতো তাকাতেও পারছি না, নিজের উপর কোনো নিয়ন্ত্রন নেই আমার। হলে থাকার সুবাদে একই রুমে থাকি চারজন। আমরা তিন বন্ধু আর একজন আমাদের সিনিয়র। অনেক চেষ্টা করলাম আমার সামনের বেডের বন্ধুকে ডাকতে। খুব জোরে ডাকলাম। কিন্তু কোনো উত্তর পেলাম না। বুঝলাম ডাকটা আমার নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে। আওয়াজ হয়নি কোনো। আবারো চেষ্টা করলাম কিন্তু লাভ হলো না। হাল ছেড়ে দিলাম। মনে পড়লো ভূমিকম্প হলে দেয়াল বা পিলার জাতীয় কিছু থাকলে সেটা ঘেঁসে দাড়াতে হয়। বিছানায় শুয়েই একটু একটু করে দেয়ালের দিকে সরে গেলাম অবশ্য সরতে পেরেছিলাম কিনা বলতে পারবো না। সামনে মনে হলো বন্ধুর কম্পিউটারের মনিটরটা অন হয়ে আছে। পরে বুঝেছি ওটা মনিটর ছিলো না জানালা ছিলো। বেশ কিছুক্ষণ অসহায় পড়ে থাকলাম এরপর যখন স্বাভাবিক হয়ে উঠলাম তখন খুবই ভীত আমি।
কম্পিউটারটা অন করে ফেসবুকে ঢুকলাম। ফেসবুকের ভিডিওগুলো এখন অটো প্লে হওয়ার সুবাদে প্রথম যে ভিডিওটা আমার চোখে সামনে আসলো তাতে অতি পরিচিত একজনকে দেখলাম স্টেজে মাইক্রোফোনের সামনে কিছু বলতে। শোনার জন্য প্লে করলাম। স্টেজের লোকটা আর কেউ নন শিল্পী কাইয়ুম চোধুরী আর ভিডিওটা ছিল তার জীবনের শেষ বক্তব্য। কিছু বলবেন বলেও বলতে পারেননি, সামান্য সময়ও পাননি , একটা শব্দও উচ্চারণ করতে পারেন নি মৃত্যুর ডাককে উপেক্ষা করে।
খুব ভয় পেয়েছি আমি। খুব অসহায় ভেবেছি নিজেকে। ভাবতেও পারছি না এমন আরেকটা সকাল যদি আসে আবার। ঝাপসা-ঘোলা অনুভুতিগুলো। সামান্য একটা শব্দে নিজের অস্তিত্বের জানান দিতেও অক্ষম কোনো সকাল। অপরিচিত দৃষ্টির সীমারেখা।
সাময়িক বিদ্রোহী শরীরের মধ্যে আত্মার সেকি অসহায়ত্ব বোঝানো যাবে না কোনো ভাবেই। সবশেষে একটা কথা বলেই শেষ করবো- মানুষ এমন একটা জীব যে জন্মের সময় থাকে সবচে অসহায়, চলতে শিখলে ভাবে – “আমি কি হনুরে” আর চিপায় পড়লে মনে হয়- “কেউ আমারে বাঁচা…”। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন, আমীন।
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান