না-প্রেমীকের গান

কি করে আমাকে হতে বলো, মেয়ে, প্রেমান্ধ কায়েস?
আমি তো দেখেছি সকালের রোদ বিকেলে এসেই রং উঠে যাওয়া শার্ট হয়ে যায়
ভোর না হতেই গনগনে চাঁদ পোড়া ব্যাটারির টর্চ হয়ে যায়
দেখেছি তো নীল নেশার চুরুট পুড়তে পুড়তে হয়ে যায় কত দ্রুত নিঃশেষ

কি করে, হে মেয়ে, যৌবনের ভাতে মেখে নেবো বলো অতিষ্ঠ তোমার যৌবনের নুন?
কি করে তোমার ক্ষুধার্ত ঠোঁটে প্রার্থিত আহার করে দেবো এই দ্বিধান্বিত গাল?
আমি তো দেখেছি কত সহজেই হয়ে যায় শুভ্র নারীর শরীর আগুনে পোড়ানো বীভৎস বেগুন
আঁটসাঁট এই দুধসাদা ত্বক কি করে, হে মেয়ে, করে ঘরকুনো কামান্ধ আমাকে ভীষণ মাতাল?

আমি তো দেখেছি জুলেখার রূপও ঝরতে ঝরতে শেফালির মতো যায় একদিন মর্মন্তুদ ঝরে
আমি তো দেখেছি কায়রো শহরে সমাধি তাঁহার, সমাধির পরে ঝরে ঝরে পড়া শেফালির ফুল,
একদিন সেই সমাধিও যায় হারিয়ে অমোঘ ধ্বংসের গহ্বরে;
কি করে আমাকে হতে বলো তবু প্রেমের কাঙাল, ঝরে পড়া এই শেফালি রূপের বিমুগ্ধ বাউল?

না যদি তোমার পিচঢালা এই রাজপথচুল একদিন, মেয়ে, শোকের, কষ্টের কাশফুল হতো
এবং মাটির দেয়ালের মতো
আশ্চর্য তোমার যৌবনের পাড় কালতরঙ্গের আঘাতে আঘাতে না পড়তো ধসে,
তাহলে তো, মেয়ে, তোমার নামেই তুলতে পারতাম প্রেমের জিগির,
কামার্দ্র তোমার অতিষ্ঠ যৌবন জায়নামাজের মাঝখানে বসে।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান