ভালোবাসা সমুদ্রের ঢেউ। বুকে সেই ঢেউ নিয়ে সমুদ্রের মতো আমি
নদী নদী বলে ডাকি। মানবী হে, তুমি সেই ডাক শুনে
সাহসের নদী হয়েছিলে, এবং গঙ্গার মতো আকাশকে শুনিয়ে কঠিন
করেছিলে অঙ্গীকার: ‘ঘর ভেঙে এই দুরন্ত ফাল্গুনে
স্বপ্নের সমুদ্রে মিশে যাবো।’ অতঃপর ফেলে রেখে মুহূর্তেই পেছনের সব ঋণ
ছুটতে ছুটতে তুমি সমুদ্রের সঙ্গমে চাইলে তো মিশে যেতে একদিন।
এভাবেই সমুদ্র নদীকে ঘরছাড়া করে।
এভাবেই সমুদ্র নদীকে দিশেহারা করে।
ভালোবাসা সঙ্গীতের ঝড়। এক বুক ঝড় নিয়ে আমি
কোকিলের মতো কুহু কুহু বলে
ডাক দিয়েছিলাম। এবং শুকনো পাতার মতো
সেই ডাক শুনে তুমি চঞ্চল তোমার শাড়ির আঁচলে
বেঁধে নিয়ে এক মুঠো তেঁতুল বাতাস, বলে উঠেছিলে-‘জীবনের
এই হলো আজ ব্রত:
জড়বৎ পড়ে থাকা আর নয় পৃথিবীর ঘাসে ঘাসে,
মায়াবী মেঘের মতো অপরূপ উড়বো এবার অসীম আকাশে।’
এভাবেই ঝড় ডাকে
পৃথিবীর শুকনো পাতাকে।
সমুদ্র ডাকলে বলো কি করে বিচ্ছিন্ন থাকে আর নদী?
এবং ডাকলে ঝড়, কি করে শুকনো পাতা পড়ে থাকে আর পৃথিবীর ঘাসে ঘাসে?
আর মানবী হে, সমুদ্রের মতো এবং ঝড়ের মতো যদি
ভালোবেসে দেই আমি ডাক, কি করে তোমার প্রেমার্দ্র চোখের কবর নিবাসে
লাশের সুষুপ্তি নেমে আসে?

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান