আমি এক দুঃখিত যুবক, প্রভু, আমারও হৃদয় আজ প্রেম-অন্ধ কায়েসের মতো
আমারও হৃদয় আজ যুক্তিহীন রাত্রিদিন তুচ্ছ এক যুবতির নাম জপে
আমি তো আজন্ম এক ক্ষুধার্ত রাখাল, আর তার ভালোবাসা ভাপ ওঠা একথাল পায়েসের মতো
ছুঁড়ে দিয়ে ঘৃণাভরে আশ্চর্য এ অমৃত আহার, কি করে নিবিষ্ট করি ক্ষুধাহীন, তোমার জিকিরে তপে?
তুচ্ছ এক যুবতীর কোকিলের মতো দুটো চোখ আমার অস্তিত্ব ঘিরে আজ ঘূর্ণমান স্বপ্নের লাটিম
কিংবা তার স্যাঁতসেঁতে চোখ, বিক্ষুব্ধ গঙ্গায় যেন মাছধরা নাও, দিশেহারা প্রণয়তরঙ্গে আছাড়ি পিছাড়ি খায়
কিংবা তার চোখ যেন ছুটে চরা আলোর হরিণ, নির্নিমেষ দেখে দেখে দু’চোখ বৃষ্টির মতো নেমে আসে ঝিম
অতঃপর ঘুম নামে, আরণ্যক ঘুমের ভেতর নির্ঘুম আত্মার ঘুঘু মাথা কোটে তার নামে, শান্তিগান গায়।
আমার জমিনে আজ বোশেখের ঝড়বাদীমেঘের মতোই ডেকে ওঠে কড়কড় ভালোবাসা ধান
শান্তি ফুটে, স্বপ্ন ফুটে আমার ভূগোল আজ হয়ে থাকে চৌপ্রহর পরীদের লোকোত্তর ফুলের শহর
ব্রহ্মান্ডের সব শব্দ স্তব্ধ করে দিয়ে হৃদয়ের মসজিদে মসজিদে আজ সকাল সন্ধ্যায় ওঠে প্রেমের আজান
আর আমি মূর্খ এক প্রেমিক পুরুষ, তুচ্ছ তার নাম জপে জপে দিনকে যে রাত করে দেই, রাতজেগে রাতকে যে করে দেই ভোর
কোথায় সে পাবো বলো সুর তোমার প্রশস্তি গাবো হে, যে-তুমি ‘হও’ বললেই সবই হয়ে যায়, দিন হয় রাত, রাত হয় বেজে ওঠা আলোর নূপুর
অমোঘ তোমার এই জাদুর বলেই তুচ্ছ এই মেয়েটিকে, প্রভু, করে দিও মরণের পর অধমের জন্যে এক বেহেস্তের হুর

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান