কি করে নারীর টকটকে আমপাকা যৌবনকে অস্বীকার করে
অদৃশ্যের ‘পাওয়ার হাউজের’ দিকে একজন বুভুক্ষু পুরুষ
ছুটে যাওয়া যায় পুরুষত্বহীন এক অপূর্ণাঙ্গ মানুষের মতো?
রমণীর সর্বশ্রেষ্ঠ যৌবনের উনুনে দাড়িয়ে কয়লার মতো
যৌবনের জ্বালে জ্বলতে জ্বলতে কি করে বলতে হয়: ‘আমি ভয় করি
অদৃশ্যের সম্রাটকে’?
কি করে কাপুরুষের মতো রমণীর সমস্ত ঐশ্বর্য হাতের মুঠোতে পুরে
রক্তমাংস কোথায় লুকিয়ে, পালাতে হয় মহাশূন্যের বুকের ভেতর,
মুরগির বুকের ভেতর যেমন চিলের ভয়ে নিশ্চিন্তে পালিয়ে থাকে
সন্ত্রস্ত বাচ্চারা?
সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দরীর সুখসুখ সহবাস কি করে করতে হয় প্রত্যাখ্যান, ইউসুফ?
জুলেখার হাত সাঁড়াশির মতো এঁটে ধরলে তোমার শার্টের আস্তিন
কি করে বলতে হয় কাপুরুষের মতো হে?
আমি তো, হাঁসের মতো রমণী বাড়িয়ে দিলে তার
রোদভেজা ঠোঁট, না দিয়ে পারি না এক ঝুড়ি শামুক চুম্বন।
রমণী বাড়িয়ে দিলে তার ব্যথাতুর হাত, আমি তো পারি না, ইউসুফ,
নপুংসকের মতো প্রত্যাখ্যান করতে তাকে। এবং পারি না বলেই
জীবনডাঙায় কালবোশেখীর তান্ডবতা চলে প্রতিদিন
পৃথিবীর অমঙ্গল হয়
পৃথিবী ক্রমশ খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ে।
মূলত আমিই বড় কাপুরুষ, ইউসুফ, মূলত আমিই বড়
যৌবনহীন, এবং আষাঢ়ি মেঘের মতো ইম যৌবনহীন বলেই
রমণীর যৌবন ভাগাড়ে শব হয়ে পড়ে থাকে আমার বিশ্বাস,
আমার আত্মার কংকাল। আষাঢ়ি মেঘের মতো আমি যৌবনহীন বলেই
রমণীর কামনার প্রাচীর ডিঙিয়ে আমি ছুঁতে পারি না শাশ্বত
অদৃশ্যের চূড়ো, হে ইউসুফ, তোমার মতো।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান