• ছন্দপতন

    কোথায় যেনো ছন্দপতন হলো কোথায় যেনো পেরিয়ে এলাম বাক মনের ভেতর কি যেনো উৎরোলো উৎসবে আজ কে যেনো নির্বাক সবার মাঝে নেই যেনো কোন জন কাকে যে আজ চাচ্ছে অবুঝ মন…


  • একদা সে লাশে রোদ চমকায়

    কত অভিমানী রানওয়ে ছেড়ে আকাশে উড়াল ঘাতক ছোরায় ওষ্ঠো ঠেকিয়ে চোখ ছল ছল অভাগা বাতাস শরীর না ছুঁয়ে উড়িয়ে শরীর নীল সাগরের মাঝখানে ফ্যালে বেদনা অতল। মধ্য দুপুর-একা রাজপথ-কালো কালো পিচ গন-গন করে নিজেকে পুড়ায়, শফেদ বরফ চিক চিক করে রোদ চমকায় পাহাড় চুড়ায়। অভাগা বাতাস পুড়ে ধোয়া হয় মরিচিকা হয় শ্রান্ত পথিক আশা-হতাশায় ভেঙে…


  • বেড়ে ওঠার এই লোকালয় / সাইফ আলি

    ছোট্ট আমার বেড়ে ওঠার এই লোকালয় দোল দিয়েছে বোল দিয়েছে মিথ্যে তো নয় বুক পেতে সে চলতে পথে রাস্তা দিল জীবন খেলায় জিততে কত আস্থা দিল মায়ের মতো সেও তো আমায় ঠাই দিয়েছে আপনি যেচে কষ্ট-দুখের ভাগ নিয়েছে। সকাল বেলার সূর্য দেখার এই লোকালয় স্বপ্ন এবং সাধ দিয়েছে মিথ্যে তো নয় এর বুকে এক সন্ধ্যা…


  • পঁচিশ বছর পরে / জীবনানন্দ দাশ

    শেষবার তার সাথে যখন হয়েছে দেখা মাঠের উপরে- বলিলাম: ‘একদিন এমন সময় আবার আসিয়ো তুমি, আসিবার ইচ্ছা যদি হয়!- পঁচিশ বছর পরে। এই বলে ফিরে আসিলাম ঘরে; তারপর, কতবার চাঁদ আর তারা, মাঠে মাঠে মরে গেল, ইঁদুর-পেঁচারা জ্যোৎস্নায় ধানক্ষেত খুঁজে এল-গেল।- চোখ বুজে কতবার ডানে আর বাঁয়ে পড়িল ঘুমায়ে কত-কেউ!- রহিলাম জেগে আমি একা- নক্ষত্র…


  • প্রেমান্ধের ডাকে

    ভালোবাসা সমুদ্রের ঢেউ। বুকে সেই ঢেউ নিয়ে সমুদ্রের মতো আমি নদী নদী বলে ডাকি। মানবী হে, তুমি সেই ডাক শুনে সাহসের নদী হয়েছিলে, এবং গঙ্গার মতো আকাশকে শুনিয়ে কঠিন করেছিলে অঙ্গীকার: ‘ঘর ভেঙে এই দুরন্ত ফাল্গুনে স্বপ্নের সমুদ্রে মিশে যাবো।’ অতঃপর ফেলে রেখে মুহূর্তেই পেছনের সব ঋণ ছুটতে ছুটতে তুমি সমুদ্রের সঙ্গমে চাইলে তো মিশে…


  • তুমি মোরে বলেছিলে…

    তুমি মোরে বলেছিলে- রংধনু ছুয়ে আসো যদি আমাকে আপন করে পাবে, বাগানের সব ফুল হাত ভরে নিয়ে আস যদি আমাকে আপন করে পাবে। আমি জানি রংধনু কখনোও ছুতে পারব না বাগানের সব ফুল ছোট এই হাতে ধরবে না তবুও মনের মাঝে রংধনুকের সাত রং বাগানের সব ফুলবাস এনেছি এ বুক ভরে, একবার চোখ মেলে চাও…


  • শিখা অনির্বান

    এখানে রাতের কোলে ঝরে পড়ে ঘুম আড়ষ্ট চোখদুটো স্বপ্নের প্রতিক্ষায় ঢুকে পড়ে ঘুমের গভীরে… ভীত চোখে পাখি থাকে চেয়ে হিরক শিশিরগুলো নেমে আসে রাত্রির চুল বেয়ে বেয়ে ওখানে জ্বলতে থাকে একা এক আগুনের শিখা শিখা অনির্বান… মাঝে মাঝে মনে হয় কোনো এক শীতে কুয়াশার মেঘ এসে ধীরে ধীরে ছেয়ে গেলো এই নগরিতে এরপর শুধু কুয়াশাচ্ছন্ন…


  • সভ্যতা উত্তর দাও / সাইফ আলি

    সভ্যতা তুমি বলেছিলে তানপুরা গিটারের সাথে পাখিরাও গেয়ে যাবে গান; অথচ এখন সেই তার পাখির কণ্ঠে হল ফাঁস। সভ্যতা তুমি বলেছিলে ফলে ফুলে নুঁয়ে যাবে গাছ, অথচ এখন বনভূমি তোমারি আগুনে পুড়ে ছাই; সেখানে তোমারি বসবাস। সভ্যতা তুমি বলেছিলে বড় বড় জাহাজেরা এসে ভীড়বে নদীর কূলে কূলে; অথচ নদীর বুকে আজ তোমারি আবর্জনা ভরা। সভ্যতা…


  • কাটাতারে বিধে গেছে পাখি

    কাটাতারে বিধে গেছে পাখি; পাখির পালক থেকে গোধুলির লাল ঝরে গেলো ফোটায় ফোটায়… কাটাতারে ঝুলছে রুমাল; রুমালের বুক চিরে গোধুলির লাল এরপর মিথ্যে গোটাই… পাখির স্বপ্ন উড়ে গেলো গোধুলির লালচে আকাশে; পাবে কি সে প্রশ্নের উত্তর তার রুমালটা উড়ছে বাতাসে।


  • অবাঞ্চিত

    আমি যখন তোকে নিয়ে ভাবতে চাই তখন কেনো অন্য কারো উপস্থিতি আমার মনের ভাবনাটাকে থমকে দেয়? আমার মনের আকাশ জুড়ে উড়বি তুই ইচ্ছা হলে আমার মাটি খুড়বি তুই নিজের হাতে কাটবি আমার হৃদয়টাকে তবু আমি ভাববো সে তোর নিজের দেয়া। তাও না হলে একটুখানি হাসবি তুই ভাববো আমি আমায় ভালোবাসবি তুই ভাবনা আমার চার দেয়ালে…


  • পৃথিবী আশ্রয়হীনা / সাইফ আলি

    কিছুটা ফেরারী আমিও, কিছুটা আমিও পলাতক; সংসার বিবাগী এক জনপদের বটবৃক্ষের আড়ালে দাড়িয়ে ভেবেছি এ আমার চির আশ্রয়; অবশেষে ফিরে এলাম সেতো ছিলো শুধু নির্বাক। পৃথিবী আশ্রয়হীনা, পৃথিবী অতিথীপরায়ন- আসুন বসুন এখানে কিছুটা কাটুক দিনক্ষণ তারপর ফের যাত্রা যেপথে এলেন সে পথেই; কিছুটা ফেরারী আমিও, কিছুটা আমিও পলাতক। যদিও গরম রক্ত শিরায় শিরায় জীবনের মৃত্যু…


  • হৃদয়ের চোখ দুটি খুলে

    যদি কোনো স্বপ্নীল সন্ধ্যায় অযাচিত অশ্রুর ফোটা দেখা দেয় চোখের পাড়ায়, হৃদয়ের চোখ দুটি খুলে একবার দেখে নিও প্রিয়- আমি আছি দু’হাত বাড়ায়। হাসি মুখে……………… একা…………অপেক্ষায়।


  • মেঘেদের মতো আমরা / সাইফ আলি

    রূপালী মেঘেরা ভেসেছে চাঁদোয়া রাতের আকাশে আমিও চলেছি একাকী অচেনা পথের পথিক মেঘগুলি ছিলো ফেরারী দল বেধে বেধে যদিও চাঁদ ছিলো একা প্রেমিকা রূপালী আলোক সজ্জে মায়াবী চাঁদের আলোতে মেঘেদের মতো আমিও দেখেছি আমার সঙ্গী আমার মতোই একাকী- তখনো আমার দু’পায়ে বেজেছে চটির শব্দ কর্কশ আর ক্লান্ত অস্থির তবু শান্ত পথরা এভাবে রাত্রে অবসরহীন তবুও…


  • উড়াল কৈতর

    আহা কৈতর দূরে উড়ে যায় নিরুপায় ভাঙা ঘর তার করে হাহাকার ডাকে পিছুডাক তবু বাতাসের বুকে উদ্দাম তুলে ঢেউ আহা কৈতর দূরে উড়ে যায় ডাকে কেউ সে ডাক বাতাসে ঘোলাটে আর্তনাদ তুলে মিশে যায় মিশে যাবে সে ডাক মিথ্যে স্মৃতির অন্ধকারে হয়তোবা খুঁজে পাবে প্রিয় ঠাই আহা কৈতর দূরে উড়ে যায় নিরুপায়। পালক পড়ে থাকে…


  • কোনো এক দিন

    দলছুট মেঘেদের মতো আমার সকল কল্পনা, আকাশের বুকে অবিরত ঝাপটে চলে তাদের ডানা। যদিও বা আমি ছোটো ঘরে ছোট্ট আমার পৃথিবীটা আপন জগৎটাকে ঘিরে আমার সকল ব্যস্ততা। তবুও তোমার দরজাটা আমার জন্য খোলা রেখো, ধুপছায়া আর গোধূলিতে জানালায় চোখ মেলে থেকো। কোনো এক দিন আমি এসে ডাকবো তোমাকে ভালোবেসে।


  • তুমি যাবে নাকি আমি / সাইফ আলি

    তুমি যাবে নাকি আমি যাব তার সাথে তুমি যাবে নাকি আমি যাব শেষ রাতে তুমি আর আমি দুজনাই যদি যাই এই ঘর একা আরো একা হয়ে যায়। তার থেকে ভাল তুমি থেকে যাও আজ আমি শুধু তার পথের সঙ্গী হই খুটে খুটে দেখো এ ঘরের কারুকাজ একাকিত্বের পরম সঙ্গী বই। এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে…


  • মন / সাইফ আলি

    মাঝে মাঝে তুমি আকাশের বুকে ডানা ঝাপটানো চিল হয়ে যাও কখনো সাগর উথাল-পাথালে রৌদ্দুর ঝিলমিল হয়ে যাও অথবা ভীষণ বিষণ্নতায় নীল হতে আরো নীল হয়ে যাও কখনো আবার সব দরজার খিল হয়ে যাও… তুমি রৌদ্দুরে পোড়ো না কখনো পোড়াও ভীষণ ব্যথার জ্বালে বৃষ্টি তোমাকে ছোঁয় না কখনো তবুও তোমার বর্ষাতে সেকি অবাধ গোসল আলো আঁধারের…


  • ঘুমাও তুমি এ রাজপথের পথিক আহা..!!

    এখন মধ্যরাত বারুদ পোঁড়া গন্ধ নিয়ে বুকে অতল তোমার ঘুম ঘুমাও তুমি এ রাজপথের পথিক আহা !! ঘুমাও তুমি ক্লান্ত তোমার চোখ… তুমি বলতে এবার ঘাসফড়িংও উড়বে ভীষন কাশের বনে আসবে শরৎ বর্ষা ভীষন নাচবে ঝড়ো বৃষ্টি হাওয়ায় কিন্তু কোথায়? তার বদলে আসলো বুলেট এই কি ফড়িং শুভ্র কাশে বারুদ পোঁড়ার এই মহরৎ আনলো এ…


  • দুঃখ ব্যথার আলিঙ্গনে

    পরবাসে আজ একাকি আমার কেটে যায় দিন কেটে যায় রাত ঘোরে অবাধ্য ঘড়ির কাটারা ঘুরতেই থাকে ঘুরতেই থাকে চোখ দুটো শুধু প্রহর গোণে। লীন হয়ে যায় ছোট্ট হৃদয় কিছু হাড় আর মাংশের দলা পড়ে থাকে একা নির্বাক চাঁদ অন্ধকারের আলিঙ্গনে। কিছু রাত জাগা পাখিদের ডাক অন্ধকারের চার দেয়ালের মাঝে ঘুরে নিঃশেষ হয়ে যায় রাত বুঝি…


  • তোমার আমার প্রেম / সাইফ আলি

    কত দিন কত সপ্তা’-মাস কত বছর বছর বয়ে বেড়িয়েছি তোমার সেই এক মুখ হাসিওলা ফটো, হৃৎপিন্ডের সাথে ভালোবাসার সুতো দিয়ে সেলাই করে রেখেছি যাতে, তোমার ছবিটা অন্য সব ছবির মতই না যায় বেহাতে। প্রিয়, হয়তো বা একদিন সেই ভালোবাসা নামের সুতোও কালের রসে ভিজে পঁচে যাবে নষ্ট হয়ে যাবে হৃৎপিন্ডের ফ্রেম তবু, নষ্ট হতে পারবেনা…