হে রাখাল

এক শ বছর আগে কোথায় ছিলে তুমি।
যখন তোমার মা দেবদারু বৃক্ষের মতো বাড়ন্ত কিশোরী এক
তখন কি বুঝতে পেরেছিল কেউ, এক কড়াই উত্তপ্ত রসের মতো উথলে ওঠা
এই মেয়েটির শরীরের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে এক সৌম্য পুরুষ?
কিংবা তোমার পিতা, সুদূর আকাশ থেকে পৃথিবরি মাঠে
গরুমরার গন্ধ পেয়ে শকুনের মতো, পেয়েছিল কি ঘ্রাণ তোমার অস্তিত্বের-
যৌবনের ঘুটঘুটে অন্ধকারে শাড়ীর ভাঁজের মতো খুলতে খুলতে
তোমার মায়ের শরীরের সব ভাজ?
তাহলে কোথায় ছিলে তুমি?
বিড়ির ধোঁয়ার মতো, একশ বছর পরে কোথায় বা তুমি থাকো?

যখন ছিলে না তুমি, তখনও পৃথিবীতে ভালোবাসা ছিল।
তখনও অন্ধকার কুস্তিগীরের মতো বৈরী আলোর সাথে
খেলতো রহস্যের খেলা। তখনও রমণীরা হৃদয়ের কথা বলে বলে
প্রেম-অন্ধ পুরুষের সাথে কাটাতো কামার্দ্র রাত।
যখন থাকবে না তুমি, তখনও আকাশে ফুটবে তারার ফুল;
তখনও রমণীরা দিগম্বর হয়ে থইথই রাতের সমুদ্রে
প্রমত্ত হাসের মতো কাটবে সাঁতার। অথচ তুমি ভাবো
তুমি না থাকলে পৃথিবীর কোনো নারী প্রসূতি হয় না আর,
তুমি না থাকলে পৃথিবীর সব খেলা অচল ঘড়ির মতো
চিরতরে যায় থেমে।

তুমি তো অমর বৃক্ষ দ্যাখোনি কোথাও, হে রাখাল;
দ্যাখোনি তো তুমি মৃত্যুহীন কোনো মেষ। তবে কেন পর্বতের মতো
থাকতে চাইলে মুঠ করে ধরে চিরকাল
আজন্ম ধর্ষিতা পৃথিবীর স্তন?

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান