নক্ষত্রের গল্প

জীবনের সিঁড়ি ভেঙে জনৈক নক্ষত্র এসেছিল নেমে
ঘূর্ণ্যমান কালের খেলায়, আর নীল পাপপোড়া পৃথিবরি প্রেমে।
আকণ্ঠ নশ্বরতার বিষ করে পান যদিও এলেন তিনি মৃত্তিকার মনজিলে, তবু
নক্ষত্র তো নক্ষত্রই থাকে, যেমন সাপেরা থাকে সাপ,
গোলাপ গোলাপ।

মহান নক্ষত্র তাঁর সমগ্র আলোয়
সাক্ষাৎ-সূর্যের মতো জ্বলে উঠলেন একদিন এক সৌভাগ্যের প্রাতে;
যেখানে প্রত্যহ আলো আর অন্ধকারে, মন্দে ও ভালোয়
সমানে সমানে যেন মুষ্টিযুদ্ধ হয়, কেউ কারে কিছুতেই না পারে হারাতে।

সূর্য তো মূলত এক ক্লান্ত কাঠুরিয়া, পৃথিবীর অরণ্যে আজন্ম এক ছাঁদে
অন্ধকার কাঠ কেটে রোজ পৃথিবীকে দিয়ে যায় একটি করে দিন।
তারপর রাত আসে শিকারীর মতো। রাত তার অলৌকিক অন্ধকার ফাঁদে
নির্ভুল শিকার করে নেই সব আলোর হরিণ।

দাউদাউ অগ্নির মতোই তিনি তো এলেন, পৃথিবীর ডাস্টবিনে
রাশিকৃত সব অন্ধকার আবর্জনা গ্রাস করে নিতে। আর তিনি
ধপ করে জ্বলে উঠলেই তাঁর সমগ্র আলোয়, পৃথিবীটা মুহূর্তেই অনিঃশেষ দিনে
ভরে গেল সমুদ্রের মতো, যেন আর কোনোদিনই
উত্তরে দক্ষিণে
পুবে ও পশ্চিমে আসবে না ফিরে হন্তারক রাত;
এবং রাস্তার মোড়ে, বকুলতলায়, অশ্বত্থের ডালে, প্রাসাদে হেরেমে
অচল ঘড়ির মতো আলো ও অন্ধকারের শাশ্বত সংঘাত
চিরতরে গেল থেমে।

আকাশ পারের অবসন্ন সূর্যের আলোয় চলতে অভ্যস্ত যারা
পৃথিবীর পথে, নক্ষত্রের সমগ্র আলোয় তাদের দুর্বল চোখ
শুকনো পাতার মতো যেন ভস্ম হয়ে গেল পুড়ে, এবং সেসব দিশেহারা
অন্ধকারবাদী লোক
প্রচন্ড ঘৃণায়, যেন নক্ষত্রটি কোনো এক অভিশপ্ত কুৎসিত কীট,
বলতে লাগলো-‘হা-ঈশ্বর! এ কোন্ নরক! এ কোন্ নরক!’

…অতঃপর প্রভাতের রোদে, চাঁদের আলোয় কিংবা কাকচক্ষু অন্ধকারে কেউ
ছপছপ বেয়ে চলে শতাব্দীর কিস্তি অবিরাম ইতিহাসগাঙে।
কখনো কখনো দুরন্ত ঘোড়ার মতো দিশেহারা ঢেউ
খুরের আঘাতে যেন, এ-কূল ও-কূল শুধু ভাঙে।

ভাঙারও ছন্দ থাকে এক গড়ার মতোই। ভাঙারও ছন্দে
জেগে ওঠে ফুল পাখি নদী লোকালয়।
কারো কারো হঠাৎ ভীষণ, ভাঙনের গান শুনে, কৌতুহল হয়
অতীতের খানা-খন্দে
চোখ ফেরাবার।
আর

এভাবেই শতাব্দী পারের একদল আলোর বুভুক্ষু লোক
ভৌতিক নিশীথে এক ভাঙনের গানে কি-অদ্ভুত হলো উৎসুক-
নিষিদ্ধ দেয়াল ভেঙে সুদূর অতীতে ফেলে তীক্ষ্ণ অন্ধকার চেরা চোখ
আশ্চর্য দেখতে পেলো মৃত্তিকার মনজিলে এক অলৌকিক নক্ষত্রের আলোঝরা মুখ।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান