অচিনপুরের যাত্রী

বল না মা আজ সত্যি করে মাথায় রেখে হাত
আমি কি আর দেখতে পাবো জোনাক জ্বলা রাত;
পূব আকাশে এক থালা চাঁদ উঠবে যখন হেসে
নদীর জলে ভাসবে সে চাঁদ ঝলমলিয়ে হেসে
তখন কি আর ঘুরতে যাবো ছোট্ট নদীর তীরে
নাকি শুধুই হারিয়ে যাবো অন্ধকারের ভীড়ে?

কাঁদিসনে মা বল না আমায় সত্যি করে বল
বর্ষা এলে অঝোর ধারায় নামবে যখন ঢল
আমি কি আর দেখতে পাবো দিঘল কালো মেঘে
চিরুল দাঁতের হাসি দিয়ে বিজলি ওঠে জেগে;
আমি কি আর উঠোন জুড়ে হাস ছানাদের মতো
খেলবো যখন বৃষ্টি ধারা ঝরবে অবিরত?

বল না মা তোর চোখের কোণে ভাসছে কেনো জল
মিথ্যে মায়ায় ভুলাসনে মা, করিসনে আর ছল,
আমি কি আর প্রভাত হলে দেখবো রাঙা রোদ
দেখবো শুধু দু’চোখ ভরে নিচ্ছে প্রতিশোধ
ভোরের আলো রাতের কালোর বক্ষ করে ভেদ
দু’চোখ ভরে দেখবো কি আর সূয্যি মামার জেদ?

কাঁদিসনে মা কাঁদিসনে আর কান্না হবে শেষ
আমার যখন আবাস হবে অচিনপুরের দেশ
রাত হয়েছে ঘুমো এখন বলবে না আর কেউ
দেখবি না আর আমার চোখে অশ্রু তোলে ঢেউ;
যখন আমি ঘুমিয়ে যাবো আলতো টেনে কেশ
বলবি না তুই, খোকন আমার ঘুমিয়ে আছে বেশ।

আচল পেতে দে না মা তোর একটুখানি শুই
কোমল হাতের পরশ দে মা অঙ্গ জুড়ে তুই,
আর কি আমি দেখবো তোরে পাচ্ছে বড় ঘুম
দে না আমার কপোল জুড়ে মিষ্টি করে চুম।
কাঁদিসনে মা কাঁদিসনে আর সত্যি করে বল
আর কি পাবো এমন মধুর স্নেহের ছায়াতল?

গোধুলিতে আলো আঁধার করছে মোলাকাত
দিনের শেষে ঘনিয়ে আসে আঁধার কালো রাত
কাঁদিসনে মা কাঁদিসনে আর মোছেক চোখের জল
শুনছি আমি মৃত্যূপুরের নিরব কোলাহল;
এমন সময় বক্ষে আমার হাত বুলিয়ে দে
শান্তিতে আজ মুদবো নয়ন মধুর পরশে।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান