তোদের হলুদ মাখা গা
তোরা রথ দেখতে যা-
আমরা হলুদ কোথায় পাব?
আমরা উল্টোরথে যাব।
– প্রাচীন লোকসাহিত্য
উল্টোভাবে রোপণ করা বৃক্ষ সে কি
আমার দেহ, আমার শরীর?
অনুমতির অনুরোধে দেয় নি টোকা আমার ঘরে
দেয় নি টোকা আম্মা কিংবা
স্বর্গীয় সেই বিরাট পুরুষ, লোকপ্রিয় জনক আমার।
ডুবে যাচ্ছে আঙুলগুলো
ডুবে যাচ্ছে অভিজ্ঞতায়
ভূকম্পনের কাঁপন জাগে
নখে এবং শিরায় শিরায়
অজস্র হাত প্রসারিত,
ব্যগ্র বাহুর শাখাগুলো
গভীর তৃষায় বাড়ায় গ্রীবা।
শরৎকালের ঝকঝকে রোদ,
খুঁজছো কাকে? হাঁকছে গ্রীবা
সবুজ আলোর চক্ষু ছুড়ে?
বুকের ভিতর কালো শেকড়
হাতড়ে বেড়ায় অন্ধকারে
আমার হৃদয়, ও রে হৃদয়।
তুই কি ভাঙা বেহালার সুর,
অন্ধকারের প্রজাপতি?
বটের মূলে করুণ গাথা স্মৃতির গীত
প্রাচ্য দেশের অন্তরঙ্গ আজান যেন
ফলবতী গাছের মতো বিনয় নত
দলামুথা সহিষ্ণু ঘাস
সার্বজনীন সূর্যকিরণ, জলের প্রপাত
রোগের গতি… বনস্পতি…
আশৈশব সে ভ্রান্ত বৃক্ষ, যাহার গোড়ায়
দীর্ঘশ্বাসের করুণ কবর, মৃত্তিকা নেই
ভূতের মতন ছায়াবিহীন উল্টোপায়ে
জীবন-মরণ পরিক্রমণ অনিচ্ছাতে
কাঙাল বটে সেই বেচারা ছায়াবৃত আয়তনের।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান