আত্মজীবনী : ২

তোদের আবার দুঃখ কেন, রাজার মতো?
দায়িত্ব নেই, যোগ্যতা নেই লড়াই করার,
ভান করেছিস দিন রাত্তির সভ্য হবার
ঝুঁকি নেবার মুরোদও নেই, রাজার মতো
দুঃখ করিস, মিছিমিছি এ রোগ কেন?
আকাশ সমান উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাড়তে থাকে
বুকের ভেতর অরণ্য তোর কেবল পাতা
পেশির মতো দা বাঁকানো কাঁধ আছে তোর?

কেবল পাতা ঝুরতে থাকে, বাতাস যেদিক
বয় সেদিকে উড়তে থাকে, ঘুরতে থাকে।
তুই কি না ফের রাজার মতো শোক করেছিস?
শোকের আয়তন দেখে তুই বেজায় খুশি।
সুখের তালিকাতে লেখা সবুজ কালির
নাম দেখে তুই বেজায় খুশি, কিসের আশায়
দুঃখের ক্রমে নিজেই লিখিস ভুল বানানে
নিজেরই নাম, পিতার রাখা আদর মাখা।
আপন হাতে পদ্য লিখে ত্যাগের জন্য
দৌড়ে গেছিস ভোগীর পাড়ায় মুখোশ ছাড়াই
তাড়া খেয়ে করলি শুরু উল্টোকাঁদা।
ঘর সাজাবার গোলাপ খেলি পেটের ভুখে।
কোন্ সাহসে শোক জানাবি রাজার মতো?
আলো খাবি, লোভীর মতো আঁধারও চাস।
বোতল ভরা বিশেষণের গুদাম যে তোর
সব খেতে চাস একা একা, অথচ তোর
রাজার মতো দুঃখ আছে, বড়াই করিস।
তোদের আবার দুঃখ কেন রাজার মতো?

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান