ত্রস্ত যুবকের প্রার্থনা

রঙচটা বিকেলের বিষণ্ন নির্জনে গিয়ে একটি মেয়েকে একদিন বলতাম,
যদি ভালোবাসো, গ্রীষ্মের বর্ষার মতো ঢেলে দেবো তোমার দু’ঠোঁটে
চুম্বনের সব সুখ। জানো না তো, কী রকম সফল কৃষক আমি; যদি
ভালোবাসো, সুবর্ণ তোমার দেহের উর্বরতায় দক্ষ হাতে লাঙল চালিয়ে
বুনে দেবো কাঙ্ক্ষিত, যৌবনের বীজধান। যদি ভালোবাসো, মায়াবতী
ভালোবাসা শস্যে উজাড় তোমার হৃদয়ের গোলা পরিপূর্ণ করে দেবো আমি,
যেভাবে জোয়ার এসে পরিপূর্ণ করে দিয়ে যায় ভাটি লাগা মুমূর্ষু নদীকে।

তারপর শুভ্র তার হাত ছুঁয়ে বলতাম, এসো, এই মৃত্তিকা ছুঁয়ে আমরা
অঙ্গীকার করি, ওই নীল আকাশকে শুনিয়ে আমরা চীৎকার করে উঠি এসো
ভালোবাসি ভালোবাসি বলে। অতঃপর আমরা অঙ্গীকার করতাম। আমাদের
কণ্ঠস্বর আকাশের হৃৎপিন্ড ভেদ করে বন্দুকের গুলির মতো পড়তো গিয়ে
আকাশের ওপার কোথায়। মাতাল দু’চোখে, তারপর, অন্তহীন স্বপ্ন মেখে নিয়ে,
শপথের বুকের উপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে, হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত কৃষকের মতো
গৃহে প্রত্যাবর্তন করতাম আমরা।

হায়, সেই মেয়ে, তারপরও, ভুলে গেছে সব কথা! প্রেম-অন্ধ এ হৃদয়
মাটির হাঁড়ির মতো ভেঙে ফেলে দিয়ে, পালিয়েছে আঁধারে কোথায়,
যেভাবে চোরের মতো মাঝরাতে রাঁধামাছ খেতে এসে, পালায় মাছের হাঁড়ি
ভেঙে ফেলে বজ্জাত বিড়াল।

আজ বড্ড ভালোবাসতে ভয় করে, মাটির হাঁড়ির মতো ভাঙা এ হৃদয়
পুনরায় ভেঙে যাওয়ার ভয় করে।

প্রভু। প্রেমের জোয়ার এসে উত্তাল তরঙ্গ যদি উঠেছে এ গাঙে;
দেখো, উদাস তরঙ্গাঘাতে ভাঙা এ হৃদয় যেন আবার না ভাঙে।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান