১.
বেনো জলে আজ ভরে গেলে ভাঙা জীবনঘর
তার কথা শুধু মনে পড়ে
তার বেদনায় তখন এ মন-ধূপকাঠি
একা একা নির্জনে পোড়ে।
২.
মন নিয়ে বড় মুশকিলে আছি; মাতাল মন
নিয়ে যে আমার মাতালের মতো হলো মরণ!
৩.
আমার যে আছে ভাঙাচুরা এক নিঃস্ব মন,
তাকে দেখাতে তা ডর করে;
যদি তা দেখে সে ঘৃণায় ফিরিয়ে নেয় বদন,
শেষমেশ দেয় পর করে!
৪.
ক্ষেপেছে হৃদয়, যেন ক্ষেপা নদী বান তুলে
চলেছে ভাঙতে ভাঙতে কূলের সভ্যতা;
কে আছো ঠেকাও, তছনছ করে দিলো যে ও
আমার তাবৎ ফল ও ফুলের সভ্যতা।
৫.
লোহায় বাঁধলে লোহা ছিঁড়ে ফ্যালে, কোন সূঁতায়
বাঁধলে হৃদয় করতো না আর বিদ্রোহ-
জানি না বলেই রাতদিন ও যে নানা ছুতায়
বুকের ভেতর করে বারবার বিদ্রোহ।
৬.
পানির গভীরে যত যায় তত মাছের সুখ
সূর্যের সুখ জ্বলে উঠে আসমান জুড়ে
মাটিতে শিকড় যত গাড়ে তত গাছের সুখ
আমাদের সুখ বন্ধুর শোকে গান জুড়ে।
৭.
তমিস্রা নয়, যেন বিচ্ছেদ যন্ত্রনায়
ভরে গেছে রাত, আর কিছু জেগে নেই রাতে;
চোখের কী হলো, কে করেছে তাকে নিষেধ কও
বন্ধুর শোকে নদী হয়ে যেতে এই রাতে!
৮.
রাত চলে যায় হাহুতাশ করে একা একা,
দিন চলে যায় মনে মনে পুড়ে ছাই হয়ে-
এই তো জীবন! তবু জীবনের সৌন্দর্যে
কী করে যে এত মুগ্ধ মাতাল যাই হয়ে!
৯.
রাত যত বাড়ে তত রাত্রীর বাড়ে যে শ্রী
যত গভীরতা তত সাগরের সৌন্দর্য;
প্রিয়ার জন্যে যন্ত্রণা যত বাড়ে বুকে
তত বাড়ে চোখে-মুখে নাগরের সৌন্দর্য।
১০.
এরকমও বুঝি আসে কিছু কিছু মুহূর্ত-
ইচ্ছে করে না বাঁচতে, আবার মরতেও;
তাকে ভুলে থাকি- হৃদয়টা মোটে চায় না তা,
চায় না আবার তার কথা মনে করতেও।
১১.
এ এমন নিশি, পোহাতে চায় না কখনও যা,
নেভে না কখনও, এ এমন হুতাশন ধু-ধু;
এ এমন ব্যথা, নেই যার কোনো উপশমই,
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেহ-মন শুধু।
১২.
দু’চোখে কাঁদি না বন্ধুর শোকে আমরা, ভাই
নিশি জেগে জেগে অন্তর কাঁদি হুহু করে;
কোকিলের মতো আমরা কাঁদি না চড়া গলায়,
নিশব্দে কাঁদি চুপিসারে কুহু কুহু করে।
১৩.
এ কেমনতর বেঁচে থাকা বলো দুঃখহীন,
ক্রন্দনহীন এ কেমনতরো জীবন, হায়!
দু’চোখ দেখলে মনে হয় দুটি মরা নদী,
যায়নি কখনও ভরে ঢেউ ঢেউ ব্যর্থতায়।
১৪.
হৃদয় বোঝে না হৃদয় কী চায় এই রাতে,
দু’চোখ জানে না কেন জেগে আছে সারাটা রাত;
হায়, পোড়া চাঁদ, তুমিই বা কেন এইভাবে
জেগে আছো- কে সে দিয়েছে তোমার বুকে আঘাত?
১৫.
পদ্মার মতো মরে গেছে যেন চোখ দুটি
দু’চোখে এখন পানির চিহ্ন নেই মোটে;
কিন্তু হৃদয় বুকের গভীর অথৈ গাঙ,
সকাল বিকাল সেখানে ব্যথার ঢেউ ওঠে।
১৬.
মুখ মনে নেই, শুধু তার নীল চোখ দুটি
আজও দুই চোখে ভেসে ওঠে
অমনি হদয় মজনুর মতো হয় মাতাল,
প্রচন্ড ভালোবেসে ওঠে।
১৭.
বারো মাসই ছিল কুসুমের মাস এইখানে
এখন সেখানে কাগজের ফুলই ফোটে আজ রোজ;
কুসুমে কুসুমে দেখা যেতো তার মুখখানি
সে-হীন সেখানে অন্তর কেঁদে ওঠে আজ রোজ।
১৮.
হৃদয় যে মোটে ঘুমাতে দেয় না, সারাটা রাত
গাধার মতো সে চীৎকার করে গলা ছেড়ে;
চোখ বুজলেই হাতপা ছুঁড়ে সে করে আঘাত,
থামতে বললে নেকড়ের মতো আসে তেড়ে।
‘কী হয়েছে তোর?’ বললে সে বলে, ‘কবো না তা।’
‘ঘুমাতে দে তবে!’ বললে সে বলে, ‘দেবো না তা।’
১৯.
কাঁদলেই যদি যেতো পাওয়া, তবে কেঁদে কেঁদে
এ জীবনও যদি শেষ হয়ে যেতো, ছিল না খেদ;
মৃত্যুর পরও তার সাথে যদি হতো দেখা,
তুলার মতন হালকা লাগতো এ বিচ্ছেদ।
২০.
আমরা যা পান করেছি, ও প্রিয়া, তার নাম বিষ,
মূর্খেরা বলে প্রেম;
কখনও এমন হয়নি যে, এ বিষ পান করেছে কেউ
আর পৃথিবীর ডাক্তাররা বাঁচিয়ে তুলেছে তাকে।
২১.
ও চোখ, তাকে দেখলেও তুমি কাঁদো, না দেখলেও দেখি কাঁদো!
প্রেম এরকমই, সে মিলনেও কাঁদায়, বিচ্ছেদেও কাঁদায়।
২২.
সে হাসলে ভালো লাগে, সে কাঁদলে ভালো লাগে, সে রাগলে ভালো লাগে।
সায়ীদ, চাঁদকে তুমি যেভাবেই দ্যাখো, চাঁদ তো চাঁদই; চাঁদকে খারাপ লাগার প্রশ্নই ওঠে না।
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান