বৃক্ষরোপন / সাইফ আলি

চরিত্র: খুকু, গাছ, পাখি

খুকু: উহ! কি যে রোদ, পুড়ছে গা
গাছপালা কই পাখির ছা-
(এদিক-ওদিক তাকিয়ে)
ঐতো দূরে গাছ দেখা যায়
একটু যদি প্রাণটা জুড়ায়।

(গাছের কাছে যেয়ে)
খুকু: ও গাছ বাবু, কোথায় তোমার পাতা,
ফুল পাখি কই; ফল ধরে নাই কোনো?
কি হলো ভাই, কও না কেনো কথা?
আমার কিন্তু ভাল্লাগে না এমন নিরবতা।
একটুখানি শোনো-
ও গাছ বাবু, ফুল পাখি নাই কোনো?

গাছ: কি আর বলি খুকু
পিপাশাতে বুক ফেটে যায়, নাই পানি একটুকু।

খুকু: কেনো?
কি হয়েছে পানি?
বর্ষা এখন জানি,
মেঘরা কোথায়; নেই কি নদী নালা?

গাছ: কি যে বলো
নদীর বুকে খরা
ঐযে দেখো বালি
আর, বর্ষা ঠিকই আসে;
বুক থাকে তার খালি।

খুকু: কেনো,
এমন কেনো হবে?

(পাখির আগমন)
পাখি: বলছি শোনো তবে-
অনেক আগের কথা,
এইখানে এক বাগান ছিলো বড়;
সেই বাগানে হাজার হাজার পাখি
সকাল বিকাল মধুর সুরে করতো ডাকাডাকি।
পাপড়ি মেলে ফুটতো অনেক ফুল,
দুঃখ তাদের ছিলো না এক চুল।
নদীর বুকে পানি,
তাতে মাছের খলখলানি।
সবাই ছিলো সুখে,
ছয়টা ঋতু আসতো ভরা বুকে।

খুকু: কি হলো তারপর?

পাখি: কোত্থেকে এক বনখেকোদের দল
আসলো সদলবলে,
সেই থেকে এই বাগান জুড়ে দুখের আগুন জ্বলে।

খুকু: কেনো,
কি করেছে তারা?

পাখি: গাছ কেটেছে, ফুল ছিড়েছে,
নদীর বুকে বাঁধ দিয়েছে,
পাখির বাসায় ঢিল ছুড়েছে,
কালো ধোঁয়ার কল গড়েছে;
শুনবে আরো কি?
তাদের হাতে অনেক বাগান পুড়তে দেখেছি।

খুকু: কই,
আশপাশে তো কারোর দেখা নাই?

পাখি: এখন তারা শহর গড়ে থাকে,
তাদের বাড়ির বেলকোনিতে
খাঁচার পাখি ডাকে।
তবুও তাদের মুখ দেখেছি কালো।

খুকু: কেনো?

পাখি: তারাও তো নেই ভালো।

খুকু: ও গাছ বাবু, উপায় কিছু বলো;
একটুখানি আবার না হয় বর্ষা আনি চলো।

গাছ: বর্ষা পাবে,
মেঘের বুকে পানির দেখাও পাবে;
এ নাও আমার চারা।
সবকিছুরই মিলবে দেখা
বৃক্ষরোপন দ্বারা।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান