তেলতেলে পিচ উঠে গিয়ে খোয়ায় খোয়ায় ভরে যায় রাজপথ।
সৈয়দ বাড়ির সৌভাগ্যের পলেস্তারা খসে খসে প’ড়ে ঘা-পাঁচড়ায় ভরা
কুকুরের মতো কেমন বেঢপ হয়ে পড়ে।
ছবেদ মোল্লার চোখ জুড়োনো বকনাটা দু-তিন বিয়েন দিতে না দিতেই
কি-বিচ্ছিরি গাইগরু হয়ে যায় কদিনেই!
কপোতাক্ষের সাজানো পাড় ভাঙে।
আশার বসতি ধসে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায় গাঙের ভেতর।
বিধ্বস্ত পাড়ের মতো, মানবীর রাজপ্রাসাদ যৌবনও ভেঙে ভেঙে পড়ে;
মাংসল তার গাল বসে যায়।
নারকেলের মুচির মতো ইঁদুর-সময় কাটে জীবনের যাবতীয় রূপ-নারকেল।
অবশিষ্ট থাকে শুধু অস্থিমজ্জা আর কংকাল
ক্ষুধার্ত, ভয়াল।
শুধু এক নারী, অব্যয়, অক্ষয়, অনন্ত যৌবনা- স্মৃতির রেলিং ধরে
বিষণ্ন দাঁড়িয়ে থাকে প্রতিদিন।
ধ্বংসস্তূপের মাঝখানে, অনশ্বর পায়ে, যেন কার প্রতীক্ষায়, বিকেলে সন্ধ্যায় ভোরে
বিষণ্ন দাঁড়িয়ে থাকে প্রতিদিন।
আমি তার চোখ দেখি। সোনার শরীর দেখি। দেখতে দেখতে চোখ ক্ষয়ে যায়।
তবু তার কোনো অঙ্গে, কখনোই, নামে না তো খুঁত।
পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমও ঘুমিয়ে পড়ে ঘুমের ভেতর। স্মৃতির রেলিং ধরে, তবু,
বিষণ্ন দাঁড়িয়ে থাকে একা এক নারী, একজন জ্যোৎস্না রাহুত।
রামভদ্রপুর
১৭.১২.১৯৯৭
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান