১.
কী আর দেবো গো, বধূ, স্বপ্নের এ রাতে-
শরীরের চেয়ে দামি যে-হৃদয় সোনা,
সে-সোনা দিলাম তুলে তোমার দু’হাতে;
কখনও এ ধন যেন হারিয়ে ফেলো না।
ও আমার লজ্জাবতী, সুনীল নয়না,
থেকো পাশে চিরকাল ঘাত-প্রতিঘাতে;
সমস্ত চিনির পানি হয়ে গেলে নোনা,
তুমি থেকো মিষ্টি হয়ে আমার ব্যথাতে।
আমাদের এ বন্ধন দু-দিনের নয়;
অনন্তের অনশ্বর জীবনেও, প্রিয়া,
থাকবে তোমার হাতে আমার হৃদয়;
তোমার আমার বুকে যে প্রেমের টিয়া
উঠেছে গজল গেয়ে অমৃত সমান,
কোনোদিন যাবে না তো থেমে সেই গান।
রামভদ্রপুর
২.২.১৯৯৮
২.
ও বৃক্ষ, কোথায় তুমি ছিলে এতকাল,
কী করে মৃত্তিকা ছাড়া ছিলে তুমি বেঁচে?
এতদিন পর আজ খুললো কপাল,
দুঃসহ দুঃখের দিন শেষ হয়ে গেছে!
এসো তবে, বৃক্ষ, আজ দিল চিরে চিরে,
সমুদয় সত্তা খুঁড়ে, ও সুন্দর গাছ,
সুশিকড়ে ঢুকে যাও মাটির গভীরে;
থাকো এ হৃদয় জুড়ে, ও সুন্দর গাছ।
বৃক্ষ, তুমি ফুলে ফুলে পূর্ণ হয়ে ওঠো,
সাগ্রহে বাড়িয়ে দাও রাঙা ওই গাল;
এবং বাড়িয়ে দাও রাঙা ওই ঠোঁটও,
চুম্বনে চুম্বনে আরো করে দেই লাল।
বুক পাতো, ঢেলে দেই বুকের দরদ;
এই যে তোমার মাটি, তোমার মরদ।
রামভদ্রপুর
২.২.১৯৯৮
৩.
এত আলো কোথা থাকে, জানতাম না আগে
জানতাম না, কোন্ ফুলে থাকে এত মধু;
জীবনকে আজ কত অপরূপ লাগে!
জানতাম না অপরূপ ককে কয়, বধূ।
বধূ, তুমি এ-কি আলো ঢাললে এ চোখে,
যৌবনের এ-কি নেশা আনলে জীবনে!
লাইলি-মজনু কথা কয় মিথ্যে লোকে;
সত্য প্রেম আজ, বধূ, জেগেছে এ মনে।
প্রেমের আলোয় এসো স্নান করি, বধূ,
এসো আজ ভেসে যাই স্বপ্নের জোয়ারে;
মিলনের এই পুণ্য বিভাবরী, বধূ,
বেঁধে রাখি এসো শুভ্র আত্মার খোঁয়াড়ে।
হৃদয়ে হৃদয় রাখো, নয়নে নয়ন-
ঠোঁটে ঠোঁটে পান করি, এসো, এ জীবন।
রামভদ্রপুর
২.২.১৯৯৮
৪.
কবির হৃদয়, বধূ, কাঁচের মতন
সামান্য আঘাতেই ভেঙেচুরে যায়;
কবির হৃদয়, বধূ, মাছের মতন
ছটফট করে তাকে তুললে ডাঙায়।
কবির হৃদয়, বধূ, কচুর পাতায়
জমে থাকা বর্ষার জলের মতন;
রুগ্ন বৃন্তে ঝোলা, গাছের মাথায়
পেকে টসটস করা ফলের মতন।
মধুর এ রজনীতে কিবা দেবো আর
সোনার অঙ্গ ভরা সুখের ভেতর?
দিলাম ভঙ্গুর সেই হৃদয় আমার
যত্ন করে তুলে রেখো বুকের ভেতর
চোখের ভেতরে রেখো ঠোঁটের ভেতরে
তোমার প্রণয়ে রেখো দেবদাস করে।
হাজারিবাগ
১৬.৭.১৯৯৮
৫.
সংগম শেষে বীর্যপাতের পর
যোনির আঁধারও অসহ্য হয়ে ওঠে;
বীর্য-ফসলে ভরে গেলে যোনিঘর
ধস নেমে আসে তোমার আমার ঠোঁটে।
যোনির আঁধারে কতক্ষণ থাকা যায়?
থাকার জায়গা মূলত তোমার বুক;
বুকে কি কাউকে চিরকাল রাখা যায়?
নিয়ে যায় কাল ছিনিয়ে তাবৎ সুখ।
কোথায় তাহলে রাখবে আমাকে, বধূ?
রেখো পুরে, প্রিয়া, তোমার চলনবিল
চোখের ভেতরে; ও-বিলচোখও তো, হায়,
ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়, যেন কাঠ-পেনসিল!
মূলত থাকার অক্ষয় দুটি ঘর
প্রেমকাঠে গড়া আমাদের অন্তর।
হাজারিবাগ
১০.৯.১৯৯৮
৬.
যেন এই চোখে না-দেখি কিছুই আর,
তুমি শুধু থেকো আমার নয়ন জুড়ে;
তুমি যদি, ঘর, অক্ষত হয়ে থাকো,
কিসের দুঃখ সব ঘর গেলে পুড়ে?
যেন কোনো গান না শুনি আর এ কানে,
তোমার কণ্ঠ চিরকাল শুধু শুনি;
কিসের দুঃখ সব ঋতু মুছে গেলে,
যদি এ জীবনে থাকো তুমি, ফালগুনী?
বুকে এসো, বধূ, বুকের ভেতরে এসো,
শুধু তোমাতেই ভরে থাক্ এই বুক;
খিল দিয়ে রেখো আমাকে তোমার সুখে,
যেন না হত্যা করে এসে কোনো সুখ।
তুমি ছাড়া যেন এ হৃদয় মরে যায়
প্রেমহীনতায় এ জমিন ভরে যায়।
হাজারিবাগ
১১.৯.১৯৯৮
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান