আমাকে কি গাড়তে কও এ-শিকড় শেষমেশ হাওয়ার ভেতর?
বলো কবে মাটি ছাড়া বৃক্ষের মিছিল
তুলেছিল ঝড়ের শ্লোগান,
ধরেছিল মুঠ করে আকাশের নীল?
এ কি তুমি বেঁচে থাকা কও? বলো, এই অবিরাম
মাটি আর বৃক্ষের বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা- এ কি কোনো বেঁচে থাকবার নাম?
তুমি সেই জমিনের কথা ভাবো, যার
বুকে কোনো বৃক্ষ নেই, লতার, পাতার, ঘাসের জাজিম; লাঙলের
ফলা নিয়ে যেখানে কিষাণ
গাইতে আসে না কখনও ফসলের গান;
এবং পাখিরা
রক্তশূন্য বাতাসের শিরা-উপশিরা
আসে না তো ভরে দিতে, রক্তের সঙ্গীতে; যেখানে শুধুই
ধুলোরা বালিরা বারো মাস কবরের মতো শব্দহীন
আর্তনাদ করে, হাহাকার করে- তুমি কি তেমন কোনো হতে চাও ভুঁই,
অনাথা জমিন?
হে মৃত্তিকা, আমি তো অরণ্য দেবো, এবং নিবিড়
সবুজ ব্রহ্মাণ্ড দেবো, পশুদের ছুটোছুটি, পাখিদের ভিড়;
মেঘ দেবো, বৃষ্টি দেবো, দেবো শান্তিঝড়-
যদি তুমি গিলে নাও আমার শিকড়।
বিনোদপুর
২৭.৭.১৯৯৪
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান