সে তার স্বামী কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। তার গৃহে, তারই খাটিয়ায়, তার স্বামী লিপ্ত হয়েছিল নিষিদ্ধ খেলায় অন্য এক নারীর সঙ্গে। সে সেই নারীকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল, এবং কেটে নিয়েছিল তার স্বামীর পুরুষাঙ্গ নিজেরই হাতে। যখন এ কবিতাটি লেখা, তখন সে জেলে।
১.
যদি তুমি এ গ্রহের হও নাগরিক,
কয়ে যাও কারারুদ্ধ ঘাতক নারীরে;
কে কোথায় প্রেমক্ষেত্রে সয়েছে শরিক?
পড়েনি আকাশ, কও, ধসে কার শিরে
এরকম দৃশ্য দেখে: কে-এক ছিনাল
তাতারের মতো এসে ভাতারের দেহ
লুটপাট করে নেছে; ফেলে মায়াজাল
লুঠে নেছে ভাতারের সব প্রেম-স্নেহ?
সোনার অংশ চাও, দিয়ে দেবো সোনা;
জমির অংশও যদি চেয়ে বসো, পারি
দিতে তৎক্ষণাৎ লিখে, দেরি করবো না;
কিন্তু, তুমি কয়ে যাও, কোথায় সে নারী
স্বামীর দেহের ভাগ চায় যদি কেহ
ছেড়ে দেয় সাথে সাথে, জ্বলে না তার দেহ?
২.
অবলা নারীর জন্যে পুরুষের কাছে
কী রত্ন আছে, কও, পরুষাঙ্গ ছাড়া?
কী করে সেই অবলা জানে আর বাঁচে
যদি প্রিয় রত্নখানি হয় হাতছাড়া?
ভরতে পারে কিসে আর, কোথায় তা আছে,
অবলার দু-উরুর মাঝখানের গাড়া?
মধ্য রাতে ভাতারের লৌহরূপ খাড়া
পুরুষত্ব হাতে পেলে, খুশিতে সে নাচে।
কিন্তু যদি দ্যাখে, মহা দুর্যোগের রাতে
কোথা হতে এসে এক মহাদুশমন
তাতারের মতো তার অভিশপ্ত হাতে
লুটপাট করে নেছে সেই গুপ্তধন
জানে, কও, তখন কি পানি থাকে আর
সর্বস্বান্ত হয়ে পড়া সেই অবলার?
৩.
যদি তুমি এ গ্রহের হও নাগরিক,
দিয়ে যাও ঘাতিকার কথার জবাব-
কে কোথায় প্রেমক্ষেত্রে সয়েছে শরিক,
স্বামীদনে ছিলো কার দাতার স্বভাব?
কোথায় সে নারী আছে, সইতে পারে এ-ও:
ক্ষিপ্ত তার ভাতারের পুরুষাঙ্গ নিয়ে
তারই গৃহে কামক্রীড়া খেলতেছে কেউ
তারই খাটে শুয়ে শুয়ে পা ছড়িয়ে দিয়ে?
যে পারে সে পারুকগে, কঠিন সে পারা-
আমি হীনা, তা পারি না; চলে না কখনও,
শুধু জানি, প্রেমক্ষেত্রে ভাগবাটোয়ারা,
বেচাকেনা, ধারকর্জ, কুটুম্বিতা কোনো।
প্রেম যদি খাঁটি হয়, প্রত্যাখ্যাত হলে
অগ্নি হয়ে প্রেমপন্থী ওঠে তীব্র জ্বলে।
রামভদ্রপুর
২২.১.১৯৯৮
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান