১. ৩. বাইবেলের নতুন নিয়ম
১. ৩. ১. বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভিন্ন ভিন্ন নতুন নিয়ম
আমরা দেখেছি, খ্রিষ্টান বাইবেলের দ্বিতীয় অংশকে ‘নতুন নিয়ম’ বা ‘নবসন্ধি’বলা হয়। প্রটেস্ট্যান্ট ও ক্যাথলিক উভয় বাইবেলেই বর্তমানে এ অংশে ২৭টা পুস্তক বিদ্যমান। পুস্তকগুলোর তালিকা প্রদানের পূর্বে নিম্নের বিষয়গুলো লক্ষণীয়:
প্রথমত: খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে মিসরে খ্রিষ্টানদের মধ্যে মিসরীয় গ্রিক ইঞ্জিল (The Greek Gospel of the Egyptians) প্রচলিত ছিল। গসপেলটা পরবর্তী মিসরীয় কপ্টিক গসপেল ও প্রচলিত নতুন নিয়মের গসপেলগুলো থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল।খ্রিষ্টানরা ভিন্নমত দমনের সময় ভিন্নমতের মানুষদের নির্মূল করার পাশাপাশি তাদের ধর্মগ্রন্থগুলো নির্মূল করতেন। ফলে প্রাচীন এ গসপেলের পূর্ণাঙ্গ পান্ডুলিপি পাওয়া যায় না। তবে প্রাচীন পন্ডিতদের লেখায় বিভিন্ন উদ্ধৃতি পাওয়া যায়। এছাড়া টমাসের ইঞ্জিল (The Gospel of Thomas) নামক ইঞ্জিলের পূর্ণাঙ্গ পান্ডুলিপি কিছু দিন আগে মিসরে পাওয়া গেছে এবং মুদ্রিত হয়েছে। গ্রন্থটা প্রচলিত নতুন নিয়মের মধ্যে নেই।[১২]
দ্বিতীয়ত: খ্রিষ্টধর্মের সুতিকাগার ফিলিস্তিন ও বৃহত্তর সিরিয়ার খ্রিষ্টানরা দ্বিতীয় শতাব্দী থেকেই ভিন্ন এক ‘নতুন নিয়ম’-এর উপর নির্ভর করতেন। আসিরীয় টিটান (Tatian the Assyrian) দ্বিতীয় খ্রিষ্টীয় শতকের প্রসিদ্ধ খ্রিষ্টান ধর্মগুরু ছিলেন (জন্ম ১২০ খ্রিষ্টাব্দ, মৃত্যু ১৮০ খ্রিষ্টাব্দ)। তাঁর সংকলিত ইঞ্জিলের নাম ছিল ডায়াটেসারন (the Diatessaron), অর্থাৎ সাদৃশ্যময় (harmony)। তার কর্ম থেকে প্রতীয়মান হয় যে, দ্বিতীয় খ্রিষ্টীয় শতকে ‘ইঞ্জিল’ নামে অনেক পুস্তক প্রচারিত হতে শুরু করে। তিনি তাঁর গ্রন্থের মধ্যে প্রচলিত ইঞ্জিলগুলোর বিষয় একত্রে সংকলিত করেন। প্রচলিত চার ইঞ্জিলের অনেক বিষয় তাঁর সংকলনে বিদ্যমান।তবে প্রচলিত চার ইঞ্জিলের তথ্যের সাথে তাঁর অনেক তথ্য সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক ও ভিন্ন। প্রচলিত চার ইঞ্জিলের মধ্যে বিদ্যমান অনেক প্রসিদ্ধ গল্প ও ঘটনা তিনি বাদ দিয়েছেন। প্রচলিত চার ইঞ্জিলের কোনোটার সাথেই তার পুরো মিল নেই।তার সংকলিত এ বাইবেলটা তৃতীয়-চতুর্থ খ্রিষ্টীয় শতাব্দীতে ফিলিস্তিন ও বৃহত্তর সিরিয়ার খ্রিষ্টানদের মধ্যে প্রচলিত ছিল।
চতুর্থ খ্রিষ্টীয় শতকের প্রসিদ্ধতম খ্রিষ্টান ধর্মগুরু ইউসিবিয়াস (Eusebius) লেখেছেন: “These, indeed, use the Law and Prophets and Gospels, … but … abuse Paul the apostle and set aside his epistles, neiter do they receive the Acts of the Apostles.” “তারা (সিরীয়রা) তোরাহ, নবীগণের পুস্তক ও ইঞ্জিলগুলো ব্যবহার করে।… তবে … তারা শিষ্য পলকে গালি দেয় এবং তার পত্রগুলো প্রত্যাখ্যান করে। এমনকি তারা প্রেরিতদের কার্যবিবরণীও গ্রহণ করে না।”[১৩]
এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সিরীয় খ্রিষ্টানদের নতুন নিয়মে বা টিটানের সংকলিত নতুন নিয়মে প্রেরিতদের কার্যবিবরণী ও পলের পত্রাবলির কিছুই ছিল না।
উল্লেখ্য যে, টিটান কঠোর একত্ববাদী খ্রিষ্টান ছিলেন। তিনি যীশুর ঈশ্বরত্বের স্বীকৃতি দেননি। এমনকি মুক্তিলাভের (redemption) জন্য যীশুর নামও তিনি উল্লেখ করেননি। খ্রিষ্টান চার্চ তাকে ধর্মদ্রোহী (heretic) বলে ঘোষণা দেয়। তৎকালীন নিয়ম অনুসারে বিরুদ্ধবাদীদের নির্মূলের সাথে সাথে তাদের ধর্মগ্রন্থও নির্মূল করা হয়। তার স্থান পূরণ করে সিরীয় পেশিট্টা।[১৪]
উইকিপিডিয়ার Development of the New Testament canon প্রবন্ধের Outside the Empire অংশে Syriac Canon অনুচ্ছেদের বক্তব্য:“Moreover, after the pronouncements of the 4th century on the proper content of the Bible, Tatian was declared a heretic and in the early 4th century Bishop Theodoretus of Cyrrhus and Bishop Rabbula of Edessa (both in Syria) rooted out all copies they could find of the Diatessaron and replaced them with the four canonical Gospels (M 215). As a result, no early copies of the Diatessaron survive… .” “সর্বোপরি ৪র্থ শতাব্দীতে বাইবেলের সঠিক বিষয়বস্তু ঘোষণা করার পরে টিটানকে ধর্মদ্রোহী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। ৪র্থ শতাব্দীর শুরু থেকে সিরহাসের বিশপ থিওডোরেটাস এবং এডেসার বিশপ রাব্বুলা (উভয়ই সিরিয়ার) ডায়াটেসারনের যত কপির খোঁজ পেয়েছিলেন তার সবই ধ্বংস করেন। তদস্থলে চার্চের বিধিসম্মত গসপেলগুলো প্রবর্তন করেন। ফলে ডায়াটেসারনের প্রাচীন পান্ডুলিপির কিছুই আর টিকে নেই।”
তৃতীয়ত: ডায়াটেসারনের পরে খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দী পর্যন্ত খ্রিষ্টধর্মের সুতিকাগার ফিলিস্তিন বা বৃহত্তর সিরিয়ায় যে ‘নতুন নিয়ম’ প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ ছিল তা সিরীয় পেশিট্টা (Syriac Peshitta) বা সিরীয় সাধারণ সংস্করণ নামে প্রসিদ্ধ ছিল। সিরীয় ভাষা মূলত যীশু এবং তাঁর শিষ্যদের ব্যবহৃত আরামিক ভাষারই একটা শাখা বা উপভাষা (dialect, or group of dialects, of Eastern Aramaic)। এ বাইবেলের পুরাতন নিয়মটা হিব্রু ভাষা থেকে এবং নতুন নিয়মটা গ্রিক ভাষা থেকে অনূদিত। ৪০০খ্রিষ্টাব্দে মৃত প্রসিদ্ধ ধর্মগুরু সেন্ট ক্যাথেরিনের (St. Catherine) তালিকায় পেশিট্টা নতুন নিয়মে সতেরটা গ্রন্থের তালিকা প্রদান করা হয়েছে। উইকিপিডিয়া Development of the New Testament canon প্রবন্ধের Outside the Empire অংশে Syriac Canon অনুচ্ছেদে উল্লেখ করছে: “McDonald & Sanders 2002, lists the following Syrian catalogue of St. Catherine’s, c.400:Gospels (4): Matt, Mark, Luke, John, Acts, Gal, Rom, Heb, Col, Eph, Phil, 1–2 Thess, 1–2 Tim, Titus, Phlm”
“ম্যাকডোনাল্ড ও সানডারস ২০০২ সেন্ট ক্যাথেরিনের (৪০০ খ্রি.) সিরিয়ান ক্যাটালগ থেকে নিম্নের তালিকা প্রদান করেছেন: চার গসপেল: (১) মথি, (২) মার্ক, (৩) লূক, (৪) যোহন, (৫) প্রেরিত, (৬) গালাতীয়, (৭) রোমীয়, (৮) ইব্রীয়, (৯) কলসীয়, (১০) ইফিসীয়, (১১) ফিলিপীয়, (১২) ১ থিযলনীকীয়, (১৩) ২ থিযলনীকীয়, (১৪) ১ তিমথীয়, (১৫) ২ তিমথীয়, (১৬) তীত, (১৭) ফিলীমন।”
উইকিপিডিয়ার পেশিট্টা (Peshitta) প্রবন্ধের আলোচনাও এটা প্রমাণ করে। উইকিপিডিয়ার বক্তব্য উদ্ধৃত করার পূর্বে বাইবেলীয় পুস্তকগুলো সম্পর্কে দুটো খ্রিষ্টীয় পরিভাষা বুঝতে হবে: (ক) এন্টিলেগোমেনা (Antilegomena) এবং (খ) সাধারণীয় পত্রাবলি (General epistles/ Catholic Epistles)
(ক) নতুন নিয়মের কয়েকটা পুস্তককে এন্টিলেগোমেনা (Antilegomena) বা সন্দেহযুক্ত বা বিতর্কিত পুস্তক বলা হয়। চতুর্থ খ্রিষ্টীয় শতকের ইউসিবিয়াস (৩৪০ খ্রি.) তাঁর বইয়ে উল্লেখ করেছেন যে, এ পুস্তকগুলোকে অনেকে খ্রিষ্টীয় বাইবেলের অন্তর্ভুক্ত করলেও এগুলোর বিশুদ্ধতা সন্দেহযুক্ত ও বিতর্কিত। এগুলোর মধ্যে প্রচলিত নতুন নিয়মের শেষের ৬টা পুস্তক রয়েছে। সেগুলোর তালিকা নিম্নরূপ:
(১) যাকোবের পত্র (the Epistle of James)। প্রচলিত নতুন নিয়মে ২০ নং।
(২) পিতরের দ্বিতীয় পত্র (2 Peter)। প্রচলিত নতুন নিয়মে ২২ নং।
(৩) যোহনের দ্বিতীয় পত্র (2 John)। প্রচলিত নতুন নিয়মে ২৪ নং।
(৪) যোহনের তৃতীয় পত্র (3 John)। প্রচলিত নতুন নিয়মে ২৫ নং।
(৫) যিহূদার পত্র (the Epistle of Jude)। প্রচলিত নতুন নিয়মে ২৬ নং।
(৬) যোহনের নিকট প্রকাশিত বাক্য (Apocalypse of / The Revelation to John)। প্রচলিত নতুন নিয়মের ২৭ নং পুস্তক।
(৭) পলের কার্যবিবরণী (Acts of Paul),
(৮) হারমাসের রাখাল (the Shepherd of Hermas),
(৯) বার্নাবাসের পত্র (the Epistle of Barnabas) (১১) ডিডাচে (the Didache) বা ১২ শিষ্যের শিক্ষা।
(১০) পিতরের নিকট প্রকাশিত পত্র (the Apocalypse of Peter),
(১১) ইব্রীয়গণের সুসমাচার (the Gospel of the Hebrews/ the gospel according to Hebrews)।
সর্বশেষ পুস্তকদুটো কোনো খ্রিষ্টান বাইবেলেই অন্তর্ভুক্ত হয়নি। প্রথম ৬টা পুস্তক প্রচলিত নতুন নিয়মের মধ্যে সংযোজিত। পরবর্তী তিনটা পুস্তকও কোনো কোনো খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বাইবেলে বা প্রাচীন পান্ডুলিপিতে পাওয়া যায়।[১৫]
(খ) দ্বিতীয় পরিভাষা সাধারণ পত্রাবলি। উইকিপিডিয়ার সাধারণ পত্রাবলি (General epistles/ Catholic Epistles) আর্টিকেলে এগুলোর তালিকা নিম্নরূপ:
(১) ইব্রীয়গণের প্রতি পত্র (Epistle to the Hebrews),
(২) যাকবের পত্র (Letter of James),
(৩) পিতরের প্রথম পত্র (First Epistle of Peter),
(৪) পিতরের দ্বিতীয় পত্র (Second Epistle of Peter),
(৫) যোহনের প্রথম পত্র (First Epistle of John),
(৬) যোহনের দ্বিতীয় পত্র (Second Epistle of John),
(৭) যোহনের তৃতীয় পত্র (Third Epistle of John),
(৮) যিহুদার পত্র (Epistle of Jude)
উইকিপিডিয়া (Wikipedia) বিশ্বকোষের পেশিট্টা (Peshitta) আর্টিকেলের সিরীয় নতুন নিয়ম (Syriac New Testament) অনুচ্ছেদে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:
“One thing is certain, that the earliest New Testament of the Syriac church lacked not only the Antilegomena… but the whole of the Catholic Epistles.”
অর্থাৎ “একটি বিষয় নিশ্চিত যে, সিরীয় চার্চের প্রাচীনতম এ ‘নতুন নিয়মে’-র মধ্যে এন্টিলেগোমেনা (Antilegomena) বা সন্দেহযুক্ত পুস্তকগুলো তো নেই-ই, উপরন্তু ‘সাধারণীয় পত্রগুলোর’ কোনোটাই এর মধ্যে নেই।”
এভাবে আমরা দেখছি যে, প্রচলিত নতুন নিয়মের শেষের পুস্তিকাগুলো সিরীয় নতুন নিয়মের মধ্যে ছিল না। সিরীয় নতুন নিয়ম ছিল মূলত ৪ ইঞ্জিল, প্রেরিতগণের কার্যবিবরণী পুস্তক ও সাধু পলের পত্রাবলি। বর্তমানে নতুন নিয়মে সাধু পলের নামে ১৪টা পত্র বিদ্যমান। সেন্ট ক্যাথেরিনের বর্ণনা অনুসারে ১ ও ২ করিন্থীয় পেশিট্টার অন্তর্ভুক্ত ছিল না, তবে ইব্রীয় পুস্তকটা ছিল। পক্ষান্তরে উইকিপিডিয়ার বর্ণনা অনুসারে ইব্রীয় পুস্তকসহ শেষের ৯টা পুস্তকের কোনোটাই সিরীয় নতুন নিয়মের মধ্যে ছিল না। তবে পরবর্তীকালে সিরীয় নতুন নিয়মের মধ্যে যাকোবের পত্র, পিতরের ১ম পত্র ও যোহনের ১ম পত্র সংযোজন করা হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হয়। কারণ পরবর্তী গবেষকরা এ বাইবেলের পুস্তকসংখ্যা ২২ বলে উল্লেখ করেছেন।
৪র্থ-৫ম খ্রিষ্টীয় শতাব্দীর প্রসিদ্ধতম খ্রিষ্টান ধর্মগুরু জন ক্রীযোস্টম (John Chrysostom: 347-407), থিওডোরেট (Theodoret: 393-466) প্রমুখ প্রাচীন ধর্মগুরু ২২ পুস্তকের নতুন নিয়মের উপর নির্ভর করেছেন এবং এরই উদ্ধৃতি দিয়েছেন। বর্তমান সময়ে মালানকারা সিরীয় অর্থোডক্স চার্চ (Malankara Syrian Orthodox Church) এবং পূর্ব সিরীয় ক্যালডিয়ান ক্যাথলিক চার্চ (East SyriacChaldean Catholic Church) পেশিট্টার ২২ পুস্তকের উপরেই নির্ভর করেন।
চতুর্থত: প্রাচীনতম খ্রিষ্টীয় চার্চগুলোর অন্যতম মিসরীয়বা কপ্টিক (Egyptian/ Coptic) চার্চ। কপ্টিক বাইবেলের মধ্যে অতিরিক্ত দু’টা পুস্তক সংযোজিত। ক্লিমেন্টের প্রথম পত্র ও ক্লিমেন্টের ২য় পত্র (the two Epistles of Clement)।
পঞ্চমত: আর্মেনিয়ান এপস্টলিক চার্চ (The Armenian Apostolic church)-এর বাইবেলে প্রচলিত ক্যাথলিক-প্রটেস্ট্যান্ট বাইবেলের ২৭ নং পুস্তক:‘প্রকাশিত বাক্য’ পুস্তকটাকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং করিন্থীয়দের প্রতি পৌলের তৃতীয় পত্র (Third Epistletothe Corinthians) নামে একটা পুস্তক সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া শিষ্যদের প্রতি ঈশ্বরের মাতার উপদেশ (Advice of the Mother of God to the Apostles), ক্রিয়াপসের পুস্তকগুলো (the Books of Criapos) এবং বার্নাবাসের পত্র (Epistle of Barnabas) পুস্তকগুলোকে অনেকে আর্মেনিয়ান নতুন নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করেন, তবে তা সর্বজনস্বীকৃত হয়নি।[১৬]
ষষ্ঠত: ইথিওপিয়ান চার্চ (Ethiopian Orthodox Church)-এর বাইবেল, ইথিওপিক বাইবেল (Ethiopic Bible) বা ইথিওপিয়ান নতুন নিয়ম (Ethiopian New Testament)-এপ্রচলিত ২৭টা পুস্তকের সাথে অতিরিক্ত আরো কয়েকটা পুস্তক বিদ্যমান: (১) সিনডস (the Sinodos) (পুস্তকটা কিছু প্রার্থনা ও বিধিবিধানের সংকলন এবং তা রোমের ক্লিমেন্টের সংকলিত বলে মনে করা হয়), (২) ইথিওপিয়ান ক্লিমেন্ট (Ethiopic Clement): ক্লিমেন্টের পত্রের ইথিওপীয় ভাষ্য, (৩) অকটাটেউক (Octateuch) (ধারণা করা হয় যে, বইটা পিটার লেখেছিলেন রোমের ক্লিমেন্টকে) (৪) প্রতিজ্ঞাপুস্তক (নিয়মপুস্তক) ১ম খ- (the Book of the Covenant 1), (৫) প্রতিজ্ঞাপুস্তক ২য় খ- (the Book of the Covenant 2) (৬) ডিডাসক্যালিয়া (the Didascalia): চার্চের নিয়মকানুন বিষয়ক।
ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স চার্চ স্বীকৃত বাইবেলের মধ্যে বিদ্যমান অতিরিক্ত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে: (১) হারমাসের রাখাল (the Shepherd of Hermas), (২) ক্লিমেন্টের প্রথম পত্র (1 Clement), (৩) পলের কার্যবিবরণী (Acts of Paul)।[১৭]
এভাবে আমরা দেখছি যে, প্রচলিত ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্ট বাইবেলে নতুন নিয়মের পুস্তক সংখ্যা ২৭ হলেও বর্তমানে বিদ্যমান প্রাচীন ও আধুনিক অনেক বাইবেলেরনতুন নিয়মের পুস্তক সংখ্যার মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। বিভিন্ন খ্রিষ্টীয় বাইবেলের মধ্যে বিদ্যমান পুস্তকগুলোর তালিকা উল্লেখের আগে এ বিষয়ে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার একটা বক্তব্য উদ্ধৃত করছি। বাইবেলীয় সাহিত্য (biblical literature) আর্টিকেলে ‘৪র্থ শতকের কানুন নির্ণয়’ (Determination of the canon in the 4thcentury) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে:
Athanasius, a 4th-century bishop of Alexandria and a significant theologian, delimited the canon and settled the strife between East and West. On a principle of inclusiveness, both Revelation and Hebrews (as part of the Pauline corpus) were accepted. The 27 books of the New Testament—and they only—were declared canonical. In the Greek churches there was still controversy about Revelation, but in the Latin Church, under the influence of Jerome, Athanasius’ decision was accepted. It is notable, however, that, in a mid-4th-century manuscript called Codex Sinaiticus, the Letter of Barnabas and the Shepherd of Hermas are included at the end but with no indication of secondary status, and that, in the 5th-century Codex Alexandrinus, there is no demarcation between Revelation and I and II Clement.In the Syriac Church, Tatian’s Diatessaron (…. It was the standard Gospel text in the Syrian Middle East until about AD 400) was used until the 5th century, and in the 3rd century the 14 Pauline Letters were added. Because Tatian had been declared a heretic, there was a clear episcopal order to have the four separated Gospels when, according to tradition, Rabbula, bishop of Edessa, introduced the Syriac version known as the Peshitta—also adding Acts, James, I Peter, and I John—making a 22-book canon. Only much later, perhaps in the 7thcentury,did the Syriac canon come into agreement with the Greek 27 books.
“চতুর্থ শতাব্দীর আলেকজান্দ্রিয়ার বিশপ ও প্রসিদ্ধ ধর্মগুরু এথানেসিয়াস নতুন নিয়মের আইনসিদ্ধ পুস্তকগুলো নির্ধারণ করেন এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায় (ক্যাথলিক/ রোমান ক্যাথলিক) ও পূর্বাঞ্চলীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায় (অর্থোডক্স/ গ্রিক অর্থোডক্স)-এর মধ্যে বিদ্যমান বিভক্তির সমাধান করেন। বাদ না দিয়ে ঢুকিয়ে নাও- এ নীতির ভিত্তিতে ‘প্রকাশিত বাক্য’ ও ‘ইব্রীয়গণের প্রতি পত্র’(পলীয় রচনাবলির অংশ হিসেবে)উভয়কেই তিনি গ্রহণ করেন। নতুন নিয়মের ২৭টা পুস্তক এবং শুধু এ ২৭টাকেই আইনসিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হয়। গ্রিক অর্থোডক্স চার্চগুলোর মধ্যে এখনো ‘প্রকাশিত বাক্য’ পুস্তকটার বিষয়ে বিতর্ক-বিরোধ বিদ্যমান। তবে ল্যাটিন (ক্যাথলিক) চার্চে (পরবর্তী ৫ম শতাব্দীর প্রসিদ্ধ ধর্মগুরু) জীরোমের (Saint Jerome) প্রভাবে এথানেসিয়াসের মতটা স্বীকৃত হয়ে যায়।
সর্বাবস্থায়, এখানে উল্লেখ্য যে, সিনাইয়ের পান্ডুলিপি (Codex Sinaiticus) নামে প্রসিদ্ধ খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের বাইবেলের লিখিত পান্ডুলিপির শেষে বার্নাবাসের পত্র এবং হারমাসের রাখাল পুস্তকদুটো বিদ্যমান। বই দুটো নতুন নিয়মের অন্যান্য বইয়ের চেয়ে ভিন্ন মানের বা দ্বিতীয় পর্যায়ের বলে পান্ডুলিপিটার মধ্যে কোনোরূপ ইঙ্গিত নেই। আলেকজান্দ্রীয় পান্ডুলিপি (Codex Alexandrinus) নামে প্রসিদ্ধ ৫ম শতাব্দীর বাইবেলীয় পান্ডুলিপির মধ্যে ক্লিমেন্টের প্রথম পত্র ও ক্লিমেন্টের দ্বিতীয় পত্র বিদ্যমান। এ দুটো পুস্তক যে প্রকাশিত বাক্য থেকে ভিন্ন সেরূপ কোনো ইঙ্গিত বা পৃথকীকরণ সেখানে নেই।
সিরীয় চার্চে টিটানের ডায়াটেসারন ব্যবহৃত হত ৫ম শতাব্দী পর্যন্ত। প্রায় ৪০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের সিরীয় চার্চে এটাই ছিল গসপেল বা ইঞ্জিলের বিশুদ্ধ ও সঠিক পাঠ। তৃতীয় শতাব্দীতে এর মধ্যে পলের ১৪টা পত্র সংযোজন করা হয়। টিটানকে ধর্মদ্রোহী ঘোষণা দেওয়ার কারণে বিশপের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয় যে, পৃথক চার গসপেলকে গ্রহণ করতে হবে। এজন্য প্রচলিত মত থেকে জানা যায় যে, যখন (৫ম শতাব্দীতে) এডেসার বিশপ রাব্বুলা পেশিট্টা নামক নতুন নিয়মের সিরীয় সংস্করণ প্রকাশ করলেন তখন তিনি প্রেরিতদের কার্যবিবরণী, যাকোব, ১ পিতর ও ১ যোহন পুস্তকগুলো এর মধ্যে সংযোজন করেন। এভাবে ২২ পুস্তকের আইনসিদ্ধ ধর্মগ্রন্থ রচিত হয়। অনেক পরে ৭ম শতাব্দীতে সিরিয়ান বাইবেলের মধ্যে গ্রিক ২৭ পুস্তকই সংযোজন করা হয়।”
১. ৩. ২. নতুন নিয়মের পুস্তকগুলোর তালিকা
ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্ট নতুন নিয়মের পাশাপাশি সিরীয়, ইথিওপীয়, মিসরীয় কপ্টিক ও আর্মেনিয়ান এপস্টলিক চার্চের পুস্তকগুলোর নামের তালিকা নিম্নরূপ। বিস্তারিত জানতে পাঠক এনকার্টার Bible/Books of the Bible এবং উইকিপিডিয়ার Books of the Bible I Orthodox Tewahedo biblical canon প্রবন্ধগুলো পাঠ করুন।
| ক্রম | সিরীয় | ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্ট | মিসরীয় | আর্মেনীয় | ইথিওপীয়/ টেওয়াহিদো |
| 1. | Matthew | Matthew | Matthew | Matthew | Matthew |
| 2. | Mark | Mark | Mark | Mark | Mark |
| 3. | Luke | Luke | Luke | Luke | Luke |
| 4. | John | John | John | John | John |
| 5. | Acts | Acts | Acts | Acts | Acts |
| 6. | Romans | Romans | Romans | Romans | Romans |
| 7. | Corinthians 1 | Corinthians 1 | Corinthians 1 | Corinthians 1 | Corinthians 1 |
| 8. | Corinthians 2 | Corinthians 2 | Corinthians 2 | Corinthians 2 | Corinthians 2 |
| 9. | Galatians | Galatians | Galatians | Galatians | Galatians |
| 10. | Ephesians | Ephesians | Ephesians | Ephesians | Ephesians |
| 11. | Philippians | Philippians | Philippians | Philippians | Philippians |
| 12. | Colossians | Colossians | Colossians | Colossians | Colossians |
| 13. | Thessalonians 1 | Thessalonians 1 | Thessalonians 1 | Thessalonians 1 | Thessalonians 1 |
| 14. | Thessalonians 2 | Thessalonians 2 | Thessalonians 2 | Thessalonians 2 | Thessalonians 2 |
| 15. | Timothy 1 | Timothy 1 | Timothy 1 | Timothy 1 | Timothy 1 |
| 16. | Timothy 2 | Timothy 2 | Timothy 2 | Timothy 2 | Timothy 2 |
| 17. | Titus | Titus | Titus | Titus | Titus |
| 18. | Philemon | Philemon | Philemon | Philemon | Philemon |
| 19. | Hebrews | Hebrews | Hebrews | Hebrews | Hebrews |
| 20. | James (ms‡hvwRZ) | James | James | James | James |
| 21. | 1 Peter (ms‡hvwRZ) | Peter 1 | Peter 1 | Peter 1 | Peter 1 |
| 22. | Peter 2 | Peter 2 | Peter 2 | Peter 2 | |
| 23. | 1 John (ms‡hvwRZ) | John 1 | John 1 | John 1 | John 1 |
| 24. | John 2 | John 2 | John 2 | John 2 | |
| 25. | John 3 | John 3 | John 3 | John 3 | |
| 26. | Jude | Jude | Jude | Jude | |
| 27. | Revelation | Revelation | Revelation | ||
| 28. | Clement 1 | Clement 1 | |||
| 29. | Clement 2 | Ser`atä Seyon (30 canons) | |||
| 30. | Corinthians 3 | Te’ezaz(71 canons) | |||
| 31. | Epistle of Barnabas | Gessew (56 canons) | |||
| 32. | Advice of the Mother of God to the Apostles | Abtelis
(81 canons) |
|||
| 33. | the Books of Criapos | ||||
| 34. | the Sinodos | ||||
| 35. | Octateuch | ||||
| 36. | Book of the Covenant 1 | ||||
| 37. | Book of the Covenant 11 | ||||
| 38. | the Didascalia | ||||
| 39. | the Shepherd of Hermas | ||||
| 40. | Acts of Paul |
১. ৩. ৩. নতুন নিয়মের সন্দেহজনক পুস্তকাবলি
উপরের তালিকা থেকে আমরা দেখছি যে, প্রচলিত ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্ট নতুন নিয়মের মধ্যে ২৭টা পুস্তক থাকলেও বর্তমানে বিদ্যমান প্রাচীন ও আধুনিক নতুন নিয়ম বা চার্চ স্বীকৃত নতুন নিয়ম (New Testament canon)-এর মধ্যে ৪০টা পুস্তক বিদ্যমান। এখানে উল্লেখ্য যে, এ ছাড়া আরো শতাধিক ইঞ্জিল, পত্র ও পুস্তক প্রথম শতাব্দীগুলোর খ্রিষ্টানদের মধ্যে ‘ইঞ্জিল শরীফ’ ও ‘নতুন নিয়মের আসমানি পুস্তক’ হিসেবে প্রচলিত ছিল। তবে সেগুলো কোনো চার্চ স্বীকৃত ‘নতুন নিয়মের’ মধ্যে স্থান পায়নি। এগুলোকে নতুন নিয়মের গোপন, সন্দেহজনক বা জালপুস্তক (New Testament apocrypha) অথবা সন্দেহজনক বা গোপন নতুন নিয়ম (Apocryphal New Testament) বলা হয়। এ বিষয়ে এনকার্টার Bible প্রবন্ধের The New Testament পরিচ্ছেদের precanonical writings অর্থাৎ ‘চার্চস্বীকৃত নতুন নিয়ম সৃষ্টির আগের লেখালেখি’ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:
““The 27 books of the New Testament are only a fraction of the literary production of the Christian communities in their first three centuries. … As many as 50 Gospels were in circulation during this time.” “খ্রিষ্টান সম্প্রদায়গুলো খ্রিষ্টীয় প্রথম তিন শতকে যা কিছু লেখেছিল ২৭টা পুস্তক হচ্ছে তার অতি সামান্য অংশ। … এ সময়ে প্রায় ৫০টা ইঞ্জিল প্রচলিত ছিল।”
এনকার্টার সন্দেহজনক নতুন নিয়ম (Apocryphal New Testament) প্রবন্ধে বলা হয়েছে: Apocryphal New Testament … title that refers to more than 100 books written by Christian authors between the 2nd and 4th centuries.“সন্দেহজনক নতুন নিয়ম..বলতে এক শতেরও অধিক পুস্তক বুঝানো হয় যেগুলো খ্রিষ্টান লেখকরা ২য় থেকে ৪র্থ শতাব্দীর মধ্যে লেখেছিলেন।”
আমরা উইকিপিডিয়ার The New Testament apocrypha ও The Lost Books of the Bible and the Forgotten Books of Eden প্রবন্ধ থেকে, http://www.biblestudytools.com/ apocrypha/ ওয়েবসাইট এবং http://www.interfaith.org/christianity/ apocrypha/ ওয়েবসাইট থেকে নিম্নে নতুন নিয়মের দেড় শতাধিক বইয়ের তালিকা প্রদান করছি। এগুলোর কয়েকটা পুস্তক এখনো প্রচলিত কোনো কোনো বিধিবদ্ধ বা স্বীকৃত (canonical) নতুন নিয়মের মধ্যে বিদ্যমান।
|
ক্রম |
ইংরেজি নাম |
বাংলা নাম |
| 1 | Gospel of the Ebionites | এবোনাইটদের ইঞ্জিল |
| 2 | Gospel of the Hebrews | হিব্রুগণের ইঞ্জিল |
| 3 | Gospel of the Nazarenes | নাসারাগণের (নাযারীন) ইঞ্জিল |
| 4 | Gospel of Marcion | মারসিওনের ইঞ্জিল |
| 5 | Gospel of the Lord (Marcion) | প্রভুর ইঞ্জিল (মারসিওন) |
| 6 | Gospel of Mani | মানির ইঞ্জিল |
| 7 | Gospel of Apelles | এপিলিসের ইঞ্জিল |
| 8 | Gospel of Bardesanes/ Bardaisan | বারডাইসানে ইঞ্জিল |
| 9 | Gospel of Basilides | বাসিলাইডসের ইঞ্জিল |
| 10 | Gospel of Thomas | থমাসের ইঞ্জিল |
| 11 | Gospel of Peter | পিতরের ইঞ্জিল |
| 12 | Gospel of Barnabas | বার্নাবাসের ইঞ্জিল |
| 13 | Gospel of Nicodemus | নিকোডেমাসের ইঞ্জিল |
| 14 | Gospel of Bartholomew | বার্থলমেয়র ইঞ্জিল |
| 15 | Gospel of Judas(Iscariot) | জুডাস (ইস্করিয়ট)-এর ইঞ্জিল |
| 16 | Gospel of Mary (Magdalene) | মেরি (মগ্দিলিন)-এর ইঞ্জিল |
| 17 | Gospel of the Nativity of Mary | মেরির জন্মের ইঞ্জিল |
| 18 | Gospel of Philip | ফিলিপের ইঞ্জিল |
| 19 | Greek Gospel of the Egyptians | মিসরীয়দের গ্রিক ইঞ্জিল |
| 20 | Coptic Gospel of the Egyptians | মিসরীয়দের কপ্টিক ইঞ্জিল |
| 21 | Gospel of Truth | সত্যের ইঞ্জিল |
| 22 | Egerton Gospel | ইজার্টন ইঞ্জিল |
| 23 | Gospel of Jesus’ Wife | যীশুর স্ত্রীর ইঞ্জিল |
| 24 | Gospel of Eve | হাওয়ার ইঞ্জিল |
| 25 | Gospel of the Four Heavenly Realms | চার স্বর্গীয় অঞ্জলের ইঞ্জিল |
| 26 | Gospel of Matthias | ম্যাথিয়াসের ইঞ্জিল |
| 27 | Gospel of Perfection | বিশুদ্ধতার ইঞ্জিল |
| 28 | Gospel of the Seventy | সত্তরের ইঞ্জিল |
| 29 | Gospel of Thaddaeus | থাড্ডাউসের ইঞ্জিল |
| 30 | Gospel of the Twelve | দ্বাদশের ইঞ্জিল |
| 31 | Gospel of Cerinthus | সেরিন্থাসের ইঞ্জিল |
| 32 | Secret Gospel of John/ Apocryphon of John | যোহনের গোপন ইঞ্জিল |
| 33 | Apocryphon of John (long version) | যোহনের গোপন ইঞ্জিল (দীর্ঘ সংস্করণ) |
| 34 | Gospel of the Saviour/ The Unknown Berlin Gospel | ত্রাণকর্তার ইঞ্জিল (বার্লিনের পরিচয়হীন ইঞ্জিল) |
| 35 | The Secret Gospel of Mark | মার্কের গোপন ইঞ্জিল |
| 36 | The Oxyrhynchus Gospels | অক্সিরিনকাস ইঞ্জিল |
| 37 | Infancy Gospel (protevangelium/ Protoevangelium) of James | যাকোব রচিত শৈশবীয় ইঞ্জিল |
| 38 | Infancy Gospel of Matthew/ Birth of Mary and Infancy of the Saviour | মথি রচিত শৈশবীয় ইঞ্জিল/ মেরির জন্ম ও ত্রাণকর্তার শিশুকাল |
| 39 | Infancy Gospel of Thomas Greek A | থমাস রচিত শৈশবীয় ইঞ্জিল গ্রিক-ক |
| 40 | Infancy Gospel of Thomas – Greek B | থমাস রচিত শৈশবীয় ইঞ্জিল গ্রিক-খ |
| 41 | Infancy Gospel of Thomas – Latin | থমাস রচিত শৈশবীয় ইঞ্জিল ল্যাটিন |
| 42 | Syriac Infancy Gospel | সিরীয় শৈশবীয় ইঞ্জিল |
| 43 | Arabic Infancy Gospel | আরবি শৈশবীয় ইঞ্জিল |
| 44 | First Infancy Gospel of Jesus Christ | যীশু খ্রিষ্টের প্রথম শৈশবীয় ইঞ্জিল |
| 45 | History of Joseph the Carpenter | সুত্রধর যোশেফের ইতিহাস |
| 46 | Life of John the Baptist | যোহন বাপ্তাইজকের জীবনী |
| 47 | Pseudo-Cyril of Jerusalem on the Life and the Passion of Christ | খ্রিষ্টের জীবন ও যন্ত্রণা বিষয়ে জেরুজালেমের সিরিলের নামীয় পুস্তক |
| 48 | Diatessaron/ Harmonized gospel | ডায়টেসরন: সমন্বিত ইঞ্জিল |
| 49 | Questions of Bartholomew | বার্থলমেয়র প্রশ্নাবলি |
| 50 | Resurrection of Jesus Christ (according to Bartholomew) | যীশু খ্রিষ্টের পুনরুত্থান (বার্থলমেয়র মতানুসারে) |
| 51 | The Sophia of Jesus Christ | যীশু খ্রিষ্টের প্রজ্ঞাপুস্তক (সোফিয়া) |
| 52 | Coptic Apocalypse of Paul | পলের নিকট প্রকাশিত বাক্য কপ্টিক |
| 53 | Apocalypse of Paul | পলের নিকট প্রকাশিত বাক্য |
| 54 | Apocryphon of James/ Secret Book of James | যাকোবের নিকট প্রকাশিত বাক্য/ যাকোবের গোপন পুস্তক |
| 55 | Book of Thomas the Contender | প্রতিযোগী থমাসের পুস্তক |
| 56 | Dialogue of the Saviour | ত্রাণকর্তার কথোপকথন |
| 57 | Apocalypse of Peter | পিতরের নিকট প্রকাশিত বাক্য |
| 58 | Gnostic Apocalypse of Peter | পিতরের নিকট প্রকাশিত বাক্য মারফতি |
| 59 | Pistis Sophia | বিশ্বাসের প্রজ্ঞা/ ত্রাণকর্তার প্রজ্ঞা |
| 60 | Second Treatise of the Great Seth | মহান সেথের দ্বিতীয় গবেষণা গ্রন্থ |
| 61 | Trimorphic Protennoia | ট্রায়মরফিক প্রটেনিয়া (ত্রিপর্যায়িক প্রটেনিয়া) |
| 62 | Ophite Diagrams | অফাইট ডায়াগ্রাম (অফাইট রেখাচিত্র) |
| 63 | Acts 29 | প্রেরিতদের কার্যবিবরণী ২৯ |
| 64 | Acts of Andrew | এন্ড্রুর কার্যবিবরণী |
| 65 | Acts of Barnabas | বার্নাবাসের কার্যবিবরণী |
| 66 | Acts of John | যোহনের কার্যবিবরণী |
| 67 | Acts of John the Theologian | ধর্মতাত্ত্বিক যোহনের কার্যবিবরণী |
| 68 | Acts of the Martyrs | শহীদদের কার্যবিবরণী |
| 69 | Acts of Paul | পলের কার্যবিবরণী |
| 70 | Acts of Paul and Thecla | পল ও থেলকার কার্যবিবরণী |
| 71 | Acts of Peter | পিতরের কার্যবিবরণী |
| 72 | Acts of Peter and Andrew | পিতর ও এন্ড্রুর কার্যবিবরণী |
| 73 | Acts of Peter and Paul | পল ও পিতরের কার্যবিবরণী |
| 74 | Acts of Peter and the Twelve | পিতর ও দ্বাদশের কার্য বিবরণী |
| 75 | Acts of Philip | ফিলিপের কার্যবিবরণী |
| 76 | Acts of Pilate | পিলেটের কার্যবিবরণী |
| 77 | Acts of Thomas | থমাসের কার্যবিবরণী |
| 78 | Acts of Timothy | তিমোথির কার্যবিবরণী |
| 79 | Acts of Xanthippe, Polyxena, and Rebecca | যানথিপ, পেলিক্সেনা ও রেবেকার কার্যবিবরণী |
| 80 | Acts and Martyrdom of St. Matthew the Apostle | শিষ্য মথির কার্যবিবরণী ও শহীদ হওয়ার বিবরণ |
| 81 | Acts of Thaddeus (Epistles of Pontius Pilate) | থাড্ডিয়াসের কার্যবিবরণী/ পন্টিয়াস পিলেটের পত্র |
| 82 | Acts of Xanthippe and Polyxena | যানথিপ ও পেলিক্সেনার কার্যবিবরণী |
| 83 | Epistle of Barnabas | বার্নাবাসের পত্র |
| 84 | Epistles of Clement 1 | ক্লিমেন্টের ১ম পত্র |
| 85 | Epistles of Clement 2 | ক্লিমেন্টের ২য় পত্র |
| 86 | Epistles of Clement 3 | ক্লিমেন্টের ৩য় পত্র |
| 87 | Epistle of the Corinthians to Paul | পলের প্রতি করিন্থীয়দের পত্র |
| 88 | Epistle of Ignatius to the Smyrnaeans | স্মিরনীয়দের প্রতি ইগনাটিয়াসের পত্র |
| 89 | Epistle of Ignatius to the Trallians | ট্রালিয়ানদের প্রতি ইগনাটিয়াসের পত্র |
| 90 | Epistle of Polycarp to the Philippians | ফিলিপীয়দের প্রতি পলিকার্পের পত্র |
| 91 | Epistle to Diognetus | ডায়গনেটাসের প্রতি পত্র |
| 92 | Epistle to the Laodiceans (Paul) | লোডিসীয়দের প্রতি পত্র |
| 93 | Epistle to Seneca the Younger (Paul) | যুবক সিনিকার প্রতি পত্র |
| 94 | Paul and Seneca | পল ও সিনিকা |
| 95 | Third Epistle to the Corinthians | করিন্থীয়দের প্রতি তৃতীয় পত্র |
| 96 | Epistles of Pontius Pilate | পন্টিয়া পিলেটের পত্র |
| 97 | Letter of Aristeas | এরিস্টাসের পত্র |
| 98 | Apocalypse (Revelation) of Pseudo-Methodius | মেথোডিয়াসের নামে প্রচারিত প্রকাশিত বাক্য |
| 99 | Apocalypse of Thomas | থমাসের প্রতি প্রকাশিত বাক্য |
| 100 | Apocalypse of Stephen | স্টিফেনের প্রতি প্রকাশিত বাক্য |
| 101 | First Apocalypse of James | যাকোবের প্রতি প্রকাশিত বাক্য ১ |
| 102 | Second Apocalypse of James | যাকোবের প্রতি প্রকাশিত বাক্য ২ |
| 103 | Revelation of John the Theologian | ধর্মতাত্ত্বিক যোহনের প্রতি প্রকাশিত বাক্য |
| 104 | Revelation of Paul | পলের প্রতি প্রকাশিত বাক্য |
| 105 | The Shepherd of Hermas | হারমাসের রাখাল |
| 106 | The Home Going of Mary | মেরির গৃহে প্রত্যাবর্তন |
| 107 | The Falling asleep of the Mother of God | ঈশ্বরের মাতার ঘুমিয়ে পড়া |
| 108 | The Descent of Mary | মেরির অবতরণ |
| 109 | Apostolic Constitutions | শিষ্যদের সংবিধান |
| 110 | Book of Nepos | নেপোসের পুস্তক |
| 111 | Canons of the Apostles | শিষ্যদের কানুন |
| 112 | Cave of Treasures | গুপ্তধনের গুহা |
| 113 | Didache (Teachings of the Twelve Apostles) | বার শিষ্যের শিক্ষামালা |
| 114 | Liturgy of St James | সাধু যাকোবের নীতিমালা |
| 115 | Penitence of Origen | অরিগনের অনুশোচনা |
| 116 | Prayer of Paul | পলের প্রার্থনা |
| 117 | Sentences of Sextus | সেক্সটাসের বিচার |
| 118 | Physiologus | ফিযিওলোগাস (প্রাণিদের কাহিনী) |
| 119 | Book of the Bee | মৌমাছির পুস্তক |
| 120 | The Naassene Fragment | নাসীন পান্ডুলিপি |
| 121 | The Fayyum Fragment | ফাইঊম পান্ডুলিপি |
| 122 | Memoria Apostolorum | শিষ্যগণের স্মৃতি |
| 123 | Martyrdom of Polycarp | পলিকার্পের শহীদ হওয়া |
| 124 | Epistula Apostolorum/ Letter of the Apostles | শিষ্যগণের পত্র |
| 125 | Epistle of Pseudo-Titus | তিতের নামীয় পত্র |
| 126 | Letter of Peter to Philip, | ফিলিপের প্রতি পিতরের পত্র |
| 127 | The Epistles of Jesus to Abgarus | এবগারাসের প্রতি যীশুর পত্র |
| 128 | Decretum Gelasianum or the Gelasian Decree | জেলাসিআনের ডিগ্রী |
| 129 | Acts of Andrew and Matthias | এন্ড্রু ও ম্যাথিয়াসের কার্যবিবরণী |
| 130 | Martyrdom of Bartholomew | বার্থলমেয়র শহীদ হওয়া |
| 131 | Book of John the Evangelist | ইঞ্জিল প্রচারক যোহনের পুস্তক |
| 132 | The Martyrdom of Matthew | মথির শহীদ হওয়া |
| 133 | Teaching of Thaddeus | থাড্ডিয়াসের শিক্ষা |
| 134 | Consummation of Thomas | থমাসের পরিপূর্ণতা |
| 135 | Book of John concerning the dormition of Mary (transitus mariæ) | মেরির ঊর্ধ্বারোহণ বিষয়ে যোহনের পুস্তক |
| 136 | Narrative of Joseph of Arimathaea | আরিমাথিয়ার যোসেফের বর্ণনা |
| 137 | Avenging of the Saviour | ত্রাণকর্তার প্রতিশোধ |
| 138 | Alexandrians | আলেকজান্দ্রীয়গণ |
| 139 | Muratonian Canon (fragment) | মুরাটোনিয়ান বাইবেল (পান্ডুলিপির অংশ) |
| 140 | Traditions of Mattias | মাটিয়াসের ঐতিহ্য |
| 141 | Preaching of Peter | পিতরের প্রচার |
| 142 | Didascalia Apostolorum | ডিডাসক্যালিয়া: শিষ্যগণের নিয়মকানুন |
| 143 | Psuedo-Sibylline Oracles (Sibyl) | সিবিলের নামে প্রচলিত বক্তব্যসমূহ |
| 144 | The Apostles’ Creed | প্রেরিতগণের ধর্ম বিশ্বাস |
| 145 | The Epistle of Ignatius to the Ephesians | ইফিষীয় প্রতি ইগনাটিয়াসের পত্র |
| 146 | The Epistle of Ignatius to the Magnesians | মাগনেসীয়দের প্রতি ইগনাটিয়াসের পত্র |
| 147 | The Epistle of Ignatius to the Trallians | ট্রালীয়দর প্রতি ইগনাটিয়াসের পত্র |
| 148 | The Epistle of Ignatius to the Romans | রোমীয়দের প্রতি ইগনাটিয়াসের পত্র |
| 149 | The Epistle of Ignatius to the Philadelphians | ফিলাডেলফীয়দের প্রতি ইগনাটিয়াসের পত্র |
| 150 | The Epistle of Ignatius to the Smyrneans | স্মারনীয়দের প্রতি ইগনাটিয়াসের পত্র |
| 151 | The Epistle of Ignatius to Polycarp | পরিকার্পেপর প্রতি ইগনাটিয়াসের পত্র |
| 152 | Letter of Herod To Pilate the Governor | গভর্নর পীলাতের প্রতি হেরোডের পত্র |
| 153 | Letter of Pilate to Herod | হেরোদের প্রতি পীলাতের পত্র |
১. ৩. ৪. নতুন নিয়ম বনাম ইঞ্জিল শরীফ
উপরের ২৭টা গ্রন্থের মধ্যে প্রথম চারটা গ্রন্থকে ‘ইঞ্জিল চতুষ্টয়’ বলা হয়। ইঞ্জিল শব্দটা মূলত গ্রিক ভাষা থেকে আরবিকৃত শব্দ। এনকার্টা ইংলিশ ডিকশনারি (Encarta English Dictionary) অনুসারে গ্রিক‘eu’ অর্থ ভাল (good) এবং ‘aggelein’ অর্থ ঘোষণা (announce), একত্রে ‘euaggelos’ অর্থ সুসংবাদ ঘোষণা (bringing good news)। গ্রিক ‘euaggelion’ শব্দের অর্থ সুসংবাদ (good news)। এ শব্দটা থেকে আরবি ‘ইঞ্জিল’ শব্দ এবং ইংরেজি ‘ইভাঞ্জেল’ (evangel) শব্দের উৎপত্তি।
ইঞ্জিল বা ইভাঞ্জেল বলতে প্রথম চারটা পুস্তককেই শুধু বোঝানো হয়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের বাইবেল সোসাইটিপুরো নতুন নিয়মকেই ‘ইঞ্জিল’ নামে প্রচার করে। তারা চার ইঞ্জিলের পরের পুস্তকগুলোকেও ইঞ্জিলের অমুক বা তমুক খন্ড বলে উল্লেখ করছেন। বিষয়টা অনুবাদের ক্ষেত্রে বিকৃতি (Distortion) বলেই প্রতীয়মান। ধর্মগ্রন্থের অনুবাদ অবশ্যই আক্ষরিক ও মূলাশ্রয়ী হতে হবে। কিন্তু বাইবেলের অনুবাদ করা দু’ভাবে মৌলিকতা নষ্ট করেছেন:
(ক) প্রথম চারটা পুস্তকের ক্ষেত্রে মূল গ্রিক ও ইংরেজি নাম ‘সাধু মথির, মার্কের, লূকের বা যোহনের মতানুসারে ঈসা মাসীহের পবিত্র ইঞ্জিল’ কথাটার অনুবাদে তারা লেখছেন: ‘ইঞ্জিল শরিফ, প্রথম খন্ড: মথি’।
(খ) চারটা ‘মতানুসারে ইঞ্জিল’-এর পরের ২৩টা পুস্তক বা পত্রকেও তারা ইঞ্জিল বা ইঞ্জিলের বিভিন্ন খন্ড বা ‘সিপারা’ বলে চালিয়ে দেচ্ছেন।
তারা দাবি করছেন যে, গ্রন্থগুলো মূল গ্রিক থেকে অনূদিত। কিন্তু এ কথা নিশ্চিত যে, মূল গ্রিকে এ দুটো বিষয়ের একটাও নেই। নিম্নের বিষয়গুলো লক্ষণীয়:
প্রথমত: আমরা দেখলাম যে, নতুন নিয়মের প্রথম চারটা পুস্তককেখ্রিষ্টানরা ‘ইঞ্জিল’ বলে দাবি করেছেন। এছাড়া বাকি ২৩টা পুস্তককে বিগত ২ হাজার বছরে কোনো খ্রিষ্টান ‘ইঞ্জিল’ বলে দাবি করেননি।
দ্বিতীয়ত: আমরা দেখেছি যে, বাইবেলের বাংলা অনুবাদকে তারা ‘কিতাবুল মোকাদ্দস’ নামকরণ করেছেন। খ্রিষ্টানরা বাইবেলের আরবি অনুবাদকে মূলত এ নামে আখ্যায়িত করেন। তারা বলতে পারেন যে, আমরা বাংলা অনুবাদের জন্য আরবি নাম ব্যবহার করেছি। এক্ষেত্রেও তারা সঙ্গতি নষ্ট করেছেন। বাইবেলের নতুন নিয়মকে কখনোই আরবিতে ‘ইঞ্জিল’ বলা হয় না। আরবিতে প্রথম চারটা পুস্তককেই শুধু ‘ইঞ্জিল’ বলা হয়। আর ২৭ পুস্তকের সমষ্টিকে একত্রে العهد الجديد বলা হয়, যার অর্থ ‘নতুন নিয়ম’ বা ‘নব সন্ধি’।
তৃতীয়ত: যে কোনো জাগতিক ‘ডকুমেন্ট’ অনুবাদের ক্ষেত্রে এরূপ করলে তা ‘ক্রিমিন্যাল’ বা ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য হবে। পাঠক একটু চিন্তা করুন:
(১) আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটা প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘ড্রীমস ফ্রম মাই ফাদার’ (Dreams from My Father)। যদি কেউ এ শিরোনামে বই ছেপে তার মধ্যে আমেরিকা সরকারের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা মন্ত্রীর লেখা কিছু বই সংযোজন করে প্রকাশ করেন বা ড্রীমস বইটার প্রথম খন্ড, দ্বিতীয় খন্ড ইত্যাদি নামে প্রকাশ বা প্রচার করেন এবং মানুষ এ সকল সংযোজিত পুস্তকের বক্তব্য বারাক ওবামার বক্তব্য হিসেবে গণ্য করে তবে বারাক ওবামা ও আমেরিকার প্রশাসন বিষয়টাকে কিভাবে দেখবেন? পাঠক এরূপ কর্মকে কতটুকু সঠিক ও বিশ্বস্ত বলে গ্রহণ করবেন?
(২) ‘বাংলাদেশের সংবিধান’ শিরোনাম দিয়ে একটা বই ছেপে এর মধ্যে যদি সুপ্রিম কোর্টের কিছু রায়, সরকারি কিছু গেজেট, প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর লেখা কিছু পুস্তক সংযোজন করে বাংলাদেশ সংবিধান দ্বিতীয় খন্ড, তৃতীয় খন্ড ইত্যাদি নামে সংবিধানের সাথেই প্রকাশ ও প্রচার করা হয় এবং মানুষ এ সকল সংযোজিত পুস্তকের বক্তব্য ‘বাংলাদেশের সংবিধান’-এর বক্তব্য হিসেবে উদ্ধৃতি দিতে থাকে তখন বাংলাদেশ সরকার বিষয়টাকে কিভাবে নেবেন?
সকল ডকুমেন্টের ক্ষেত্রেই বিষয়টা সুস্পষ্ট। যে সকল পন্ডিত বাইবেল অনুবাদ করেছেন তাদের লেখা কোনো গ্রন্থ বা তাদের সম্পত্তির কোনো দলিলের মধ্যে এরূপ কিছু করা হলে তারা তাকে প্রতারণা বলে গণ্য করবেন এবং আদালতের আশ্রয় নেবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ধর্মগ্রন্থের অনুবাদের ক্ষেত্রে তারা মূলকে সংরক্ষণ করছেন না।
পবিত্র বাইবেলে বলা হয়েছে যে, মিথ্যা ঈশ্বরের নিকট ঘৃণিত ও বিশ্বস্ততা মুক্তির পথ (লেবীয় ১৯/১১; হিতোপদেশ ১২/২২),অনন্ত নরকই মিথ্যাবাদীদের ঠিকানা (প্রকাশিত বাক্য ২১/৮)। বাইবেলেই ধর্মগ্রন্থের মধ্যে সামান্যতম সংযোজন বা বিয়োজন করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং কেউ এরূপ করলে সে পরকালের মুক্তি থেকে বঞ্চিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে (প্রকাশিত বাক্য ২২/১৮-১৯)। নতুন নিয়মকে ইঞ্জিল বলা কি মিথ্যা ও অবিশ্বস্ততা নয়? প্রথম খন্ড, দ্বিতীয় খন্ড ইত্যাদি সংযোজন করা কি ধর্মগ্রন্থের মধ্যে সংযোজন নয়? তাহলে ধার্মিক মানুষ কিভাবে এরূপ করেন?
১. ৩. ৫. ‘ইঞ্জিল’ বনাম ‘মতানুসারে ইঞ্জিল’
আমরা দেখলাম যে, ২৭টা বইয়ের মধ্যে মাত্র চারটা বইকে খ্রিষ্টানরা ইঞ্জিল বলে দাবি করেছেন। মূল গ্রিকবা ইংরেজি বাইবেলে এগুলোর নাম নিম্নরূপ:
(১) The Holy Gospel of Jesus Christ According to St. Matthew/ The Gospel According To St. Matthew: সাধু মথির মতানুসারে ঈসা মাসীহের পবিত্র ইঞ্জিল/ সাধু মথির মতানুসারে ইঞ্জিল।
(২) The Holy Gospel of Jesus Christ According to St. Mark/ The Gospel According To St. Mark: সাধু মার্কের মতানুসারে ঈসা মাসীহের ইঞ্জিল।
(৩) The Holy Gospel of Jesus Christ According to St. Luke/ The Gospel According To St. Luke: সাধু লূকের মতানুসারে ঈসা মাসীহের ইঞ্জিল।
(৪) The Holy Gospel of Jesus Christ According to St. John/ The Gospel According To St. John: সাধু যোহনের মতানুসারে ঈসা মাসীহের ইঞ্জিল।
নাম থেকেই প্রতীয়মান হয় যে, বিভিন্ন ব্যক্তি পুস্তক লেখে তা ‘ইঞ্জিল’ বলে দাবি করেন, এজন্যই পুস্তকগুলোর এরূপ নামকরণ করা হয়। পরবর্তী আলোচনা থেকে আমরা জানব যে, যীশুর তিরোধানের শতাধিক বছর পরে অনেক মানুষ ‘ইঞ্জিল’ লেখে প্রচার করতে শুরু করেন যে, এগুলো যীশুর ইঞ্জিল। এজন্য এগুলোর এরূপ নামকরণ করা হয়: ‘অমুকের মতানুসারে এটা ইঞ্জিল’। আমরা নতুন নিয়মের সন্দেহজনক পুস্তকগুলোর মধ্যে আরো অনেক ‘মতানুসারে ইঞ্জিল’ দেখেছি।
১. ৩. ৬.‘মতানুসারে ইঞ্জিল’ ও প্রকৃত ইঞ্জিল
এ সকল ‘মতানুসারে ইঞ্জিলের’ সাথে ‘ঈসা মাসীহের ইঞ্জিলের’ মুল পার্থক্য ঈসা মাসীহের ‘ইঞ্জিল’ আল্লাহর কালাম বা তাঁর নিজের বক্তব্য। আর প্রচলিত ‘মতানুসারে ইঞ্জিল’ চারটার মধ্যে আল্লাহর কোনো কালাম খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এগুলোর মধ্যে ঈসা মাসীহের বক্তব্যও কম। এগুলো মূলত তাঁর জীবনীগ্রন্থ। এগুলোর মধ্যে ঈসা মাসীহ বিষয়ে বিভিন্ন মানুষের বর্ণনা সংকলন করা হয়েছে।
এছাড়া আমরা দেখলাম যে, এরূপ প্রায় অর্ধশত ‘মতানুসারে ইঞ্জিল’দ্বিতীয়-তৃতীয় শতকের খ্রিষ্টানদের মধ্যে প্রচলিত ছিল। সেগুলোর মধ্য থেকে খ্রিষ্টান ধর্মগুরুরা নিজেদের পছন্দের উপর নির্ভর করে এ চারটাকে বাছাই করেন। এ বিষয়ে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার biblical literature প্রবন্ধের বক্তব্য:
As far as the New Testament is concerned, there could be no Bible without a church that created it; yet conversely, having been nurtured by the content of the writings themselves, the church selected the canon. … Indeed, until c. AD 150, Christians could produce writings either anonymously or pseudonymously—i.e., using the name of some acknowledged important biblical or apostolic figure. The practice was not believed to be either a trick or fraud. …
“নতুন নিয়মের বিষয়টা হল, যদি চার্চ (ধর্মীয় মন্ডলি বা জামাত) বাইবেল তৈরি না করত তাহলে কোনো বাইবেলই থাকত না। অপরদিকে লেখনিগুলোর বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে চার্চই বাইবেলের বইগুলো বাছাই করেছে। … প্রকৃত বিষয় হল, ১৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে যে কোনো খ্রিষ্টান নাম প্রকাশ না করে, অথবা কোনো প্রসিদ্ধ বাইবেলীয় ব্যক্তিত্ব বা যীশুর শিষ্যদের নামে বই লেখতে পারতেন। এরূপ কর্মকে ছলচাতুরি বা প্রতারণা বলে গণ্য করা হত না! …”
বিষয়টা বিস্ময়কর। ১০০/১৫০ বছর পরে যে কোনো খ্রিষ্টান সম্পূর্ণ মিথ্যাভাবে একটা বই লেখে প্রচার করছেন, এটা মথি লিখিত ইঞ্জিল, এটা পিতর লিখিত ইঞ্জিল… এভাবে যীশুর শিষ্যদের বা সাধুদের নামে যে যা পারছে লেখে প্রচার করছে। এরূপ কর্মকে উক্ত ধার্মিক লেখক বা সমাজের অন্য কোনো ধার্মিক খ্রিষ্টান কেউই অন্যায় বা পাপ বলে গণ্য করছেন না! এগুলো সমাজে ইঞ্জিল নামে প্রসিদ্ধ হওয়ার আরো ১০০/১৫০ বছর পর এরূপ ধার্মিক খ্রিষ্টানরা ‘অজ্ঞাত ধার্মিক মানুষদের লেখা’ অর্ধশত ইঞ্জিল থেকে শুধু বিষয়বস্তুর পছন্দনীয়তার দিকে তাকিয়ে ৪টা ইঞ্জিল বেছে নিয়ে ‘নতুন নিয়ম’-এর অর্ন্তভুক্ত করলেন! এ বিষয়ে মাইক্রোসফট এনকার্টার বক্তব্য আমরা আগেই উল্লেখ করেছি, যেখানে বলা হয়েছে প্রথম তিন শতকে ৫০টার মত ইঞ্জিল চালু ছিল এবং নতুন নিয়মের ২৭টা বই খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লিখিত ধর্মগ্রন্থগুলোর সামান্য অংশমাত্র।
[১২] উইকিপিডিয়া: The Greek Gospel of the Egyptians, the Gospel of Thomas
[১৩]Eusebius, Ecclesiastical History, p 166. আরো দেখুন উইকিপিডিয়া: Syriac Canon.
[১৪] বিস্তারিত দেখুন: উইকিপিডিয়া: Tatian, Diatessaron.
[১৫] উইকিপিডিয়া, Antilegomena.
[১৬] বিস্তারিত জানতে উইকিপিডিয়া, ব্রিটানিকা, এনকার্টা ইত্যাদি বিশ্বকোষে Apocrypha, Peshitta, Antilegomena, General epistles, Development of the New Testament canon/ Armenian আর্টিকেলগুলো দেখুন।
[১৭] দেখুন: উইুকুপুডয়া Development of the New Testament canon/East African canons; New Testament apocrypha/ Development of the New Testament canon.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান