তখনও শিখিনি আমি কী করে কাটতে হয় জংলী সাঁতার
যমুনার জলে;
বসন্ত আসার তর সচ্ছিল না তার,
চিতার কাঠের মতো জ্বলছিল শুধু নীল নেশার অনলে।
এই বলে একদিন দিয়েছিল ম’লে কান,
শুনে তা আমার উঠেছিল কেঁপে বুক :
‘এই, কিছু কিছু নষ্ট হতে শেখ্। বীজেরাও নষ্ট হয়;
নষ্ট না হলে সুবর্ণ ফসলে ভরে উঠতো কি জমিনের খালি বুক?’
একদিন বলেছিল কানে কানে,
‘সুখ দেখেছিস সুখ?’
আমি বলেছিলাম, ‘না।’
শুনে মুখ টিপে উঠেছিল হেসে- হাহাকার করে উঠেছিল অসুখী আমার বুক।
বলেছিল একদিন, ‘নদী দেখেছিস নদী?
নদীর মাতাল ঢেউ?’
‘এ কেমন কও তুমি গাঁজাখুরে কথা-
কখনও দ্যাখেনি নদী, এমন কি আছে কেউ?’
ঝটিকার মতো ‘তবে আয়’ বলে
ছুটে গিয়েছিল ঘরে;
অলঙ্ঘ্য নির্দেশে আমিও যে ছুটে যাই
সন্ত্রস্ত অন্তরে।
ঝটিতি, ঝপাং ক’রে, এঁটে দিয়ে মহলের দরোজার খিল,
বলেছিল হাত ধরে, ‘আয় তবে, ইউসুফ,
দেখবি নদী কাকে বলে, বলে কাকে উন্মাতাল ঢেউয়ের মিছিল।’
ভয় ভয় চোখে আমি দেখেছিলাম সেই প্রথম, ফুঁসে ওঠা যমুনার নীল রূপ।
যমুনার সেই জলে ডুবে গেছে সব- নীলাকাশ, পোড়ামাটি, জন্মমৃত্যু, আকাশ, মৃত্তিকা, বেহেস্ত, দোজখ…
শুধু ভাসা ভাসা আমন ধানের মতো জেগে আছে জুলেখার সেই দুটি চোখ।
ফৌজদারহাট
১১.১২.২০০১
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান