তুমি বুঝি ভেবেছিলে, পৃথিবীর সমস্ত আরাম
জালি দিয়ে পেড়ে পেড়ে, ভরে দেয়া হবে তোমার নফসের ঝুড়ি।
অতঃপর ভীতির সাথেই
গোলামের মতো এসে বলবেন কেউ- ‘শান্তিগাছটার সবগুলো আম
এক বারে পেড়ে এনে, দিয়ে যাওয়া হলো এই
ঝুড়ির ভেতর।
হুজুর এখন জাগ দিয়ে
মজা করে খান একা একা, পাকিয়ে পাকিয়ে।’
তুমি বুঝি ভেবেছিলে, যদি এই মন্ত্র পড়ো তাহলে হঠাৎ করে ক্যালিফোর্নিয়ার
সবচেয়ে বড় বাড়িটার তোমাকে মালিক করে, খাইখাই তোমার দু’হাতে
তুলে দেয়া হবে মহা পৃথিবীর ভার।
অতঃপর নফসের নিঝুম গুহাতে
ফেলে দিয়ে এক সাথে মুম্বাই ও শিকাগোর সমুদয় হুর
সবিনয়ে, সকাতরে বলবেন কেউ- ‘সামান্য এ উপহার নেবেন, হুজুর।’
অথচ, হুজুর, এই মন্ত্র পড়ে যে-ই, এ মন্ত্রের এই ইতিহাসঃ
মুহূর্তেই বিশ্ব তার বিপরীতে গিয়ে, ক্ষয়ে যাওয়া কালের যাঁতায়
সশব্দে শানাতে থাকে গলা কাটা ছুরি; অতঃপর পৃথিবীর অসুস্থ বাতাস
শোণিতের ঘ্রাণে ভরে দিয়ে, রুদ্রঠোঁট শকুনের প্রায়
ভয়ঙ্কর ছিঁড়েখুঁড়ে খেতে থাকে
মুগ্ধ সেই মন্ত্রওয়ালাকে।
তবু পৃথিবীর প্রেম-অন্ধ হামজারা
কি যে এক অবোধ্য নেশায়, গিলেছে আকণ্ঠ এই মদ্যপ্রায় কলেমার বিষ
কালে কালে, আর এই অনির্বাণ পাপপোড়া শস্যহীনতায় বহাতে পললবাহী প্রেমের ফোয়ারা
বাতিলের বীভৎস বটিতে, হয়েছে স্বেচ্ছায় যেন, ব্যবচ্ছিন্ন রক্তাক্ত ইলিশ।
তুমিও, হুজুর, যদি প্রেম-অন্ধ হতে,
বুঝতে কী সফলতা এ বিষমন্ত্রতে।
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান