উপক্রমণিকা / সায়ীদ আবুবকর

অমর অক্ষয় এ কবিতাও জানি মরে যাবে একদিন, ধ্বংসস্তুপের মাঝখানে মুখ থুবড়ে পড়বে সব খ্যাতি ও অমরতা। পেঁয়াজের খোসার মতো উড়তে থাকবে কেওকারাডাং, হিমালয় পর্বতমালা, টুইন টাওয়ার ও চীনের প্রাচীর। নিউটন ও আইনস্টাইনের দুচোখ উল্টে যাবে; উল্টে যাওয়া সে চোখের উপর উড়ে এসে পড়তে থাকবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া নক্ষত্ররাজির নীল ছাই। কোথায় হারিয়ে যাবে হাজার বছরের জ্ঞানবিজ্ঞান, শিল্পসাহিত্য, সঙ্গীত ও চিত্রকলা!

যখন একদিন এ কবিতা মরে যাবে; যখন ধবংসস্তুপের মাঝখানে মুখ থুবড়ে পড়বে সব খ্যাতি ও অমরতা; যখন পেঁয়াজের খোসার মতো উড়তে থাকবে কেওকারাডাং, হিমালয় পর্বতমালা, টুইন টাওয়ার ও চীনের প্রাচীর; যখন নিউটন ও আইনস্টাইনের দুচোখ উল্টে যাবে, উল্টে যাওয়া সে চোখের উপর উড়ে এসে পড়তে থাকবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া নক্ষত্ররাজির নীল ছাই; যখন কোথায় হারিয়ে যাবে হাজার বছরের জ্ঞানবিজ্ঞান, শিল্পসাহিত্য, সঙ্গীত ও চিত্রকলা তখন আমার হৃদয়ে তুমি সে কবিতা দিও ঢেলে, যা শুনে নাচতে থাকবে বেহেস্তবাসী আর তাদের হুরগেলমান।

এমন এক হৃদয় নিয়ে আমি হাঁটি যা বাঁশির মতো বাজে, কোকিলের মতো গান গায়, ঝর্ণার মতো কুলকুল ধ্বনি তুলে ছোটে আর ময়ুরের মতো পেখম তুলে নাচে। যদি আমি দুনিয়ার অন্ধকারে আকণ্ঠ নিমজ্জিত না হতাম, সে এমনভাবে বাজতো- তোমার আসমান কেঁপে উঠতো, এমনভাবে গাইতো- পথিকরা স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো পথে, কুলকুল ধ্বনি তুলে এমনভাবে ছুটতো- কবিতা আছড়ে আছড়ে পড়তো কবিদের অন্তরে, আর এমনভাবে পেখম তুলে নাচতো- সৌন্দর্যপিপাসুদের দুচোখ ধাঁধিয়ে যেতো। এ যেন গোবরে পদ্মফুল, ঘ্রাণ ছড়ায়, দুর্গন্ধ তাকে বিকশিত হতে দেয় না। এ যেন শহরে ঢুকে পড়া কোনো কোকিল, প্রাণ খুলে গান গায়, যন্ত্রদানবের চীৎকার তাকে পৌঁছোতে দেয় না মানবমানবীর কানে।

৪.১১.২০১১ সিরাজগঞ্জ

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান