জ্ঞানীরা বলেন মানুষের আত্মা মরে না। কিন্তু আমার আত্মা যে মরে গেছে! যেভাবে চৈত্রের দাবদাহে পুকুুরের পানি শুকাতে শুকাতে তলায় গিয়ে ঠেকে, তখন পুকুরের মাছগুলো কাঁদার ভেতর লুকিয়ে থেকেও যেমন বাঁচাতে পারে না নিজেদেরকে; আমার আত্মাও সেইভাবে আমারই অত্যাচারে মরতে মরতে নিঃসাড় হয়ে গেছে। হায়, আমার কী উপায় এখন?
তিনি বললেন, যেভাবে মাটির নিচে পুতে রাখা পচে যাওয়া বীজ থেকে বের হয়ে আসে বৃক্ষ, শুকিয়ে কাঠ হয়ে পড়া বিলের তলায় আবার বর্ষার পানি জমতেই মাটিতে মিশে থাকা মাছের ডিম থেকে মাছের ঝাঁক বের হয়ে আসে, সেইভাবে মৃত আত্মারাও বেঁচে ওঠে যদি বৃষ্টি পায়, যদি তুমুল বৃষ্টিতে সর্বাঙ্গ থেকে ধুয়েমুছে যায় অন্ধকার।
আমি বললাম, তাহলে মৃত্যু সত্য, না সত্য জীবন? মৃত্যু আর জীবনের মধ্যে পার্থক্যটাই বা কী তাহলে?
দুচোখের সামনে থেকে দিবসের আলো আর রাত্রির অন্ধকার সরে না গেলে বুঝতে পারবে না সত্যের স্বরূপ। চামড়ার চোখ নষ্ট না হলে অন্তরের চোখ তো দেখতে পায় না কিছু। আর শরীরকে যারা করতে পারে না জয়, কী করে উড়বে তারা জিব্রাইলের ডানায় অসীম আকাশে? হে বৎস, তুমি তো পড়ে গেছো মৃত্যু আর জীবনের গোলক ধাঁধায়, সত্য আর মিথ্যার পার্থিব চক্রে; আল্লাহ তোমার সহায় হোন।
১.৮.২০১০ ঝিনাইদহ
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান