বাঁচার উপায় কী?
-শারীরিক বাঁচতে চাও তো হারাম-হালালের পরওয়া কোরো না, যা-ই পাও খেয়ে যাও গোগ্রাসে; আত্মিক বাঁচতে চাও তো মানুষের সঙ্গ ছেড়ে চলে যাও নির্জনে, কিছু যদি জোটে খেয়ো, না জুটলে পাতানাতা খেয়ো, তাও না জুটলে চাতকের মতো চেয়ে থেকো সারাদিন আকাশের দিকে অমৃত বারির আশায়।
পৃথিবী যে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, হত্যা, জখম, মৃত্যু আর অসুখেবিসুখে; এসবের হাত থেকে মানুষের পরিত্রাণের উপায় কী?
-তুমি যে-পৃথিবীর কথা বলছো তা তো চলে গেছে কবে বাঘ, সিংহ, হায়েনা, বুনো শূকর ও কেউটে সাপদের হাতে। মানুষের সেখানে বাঁচার কোনো উপায়ই থাকতে পারে না। আগুনের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে যে আগুনের হাত থেকে বাঁচতে চায়, সেই আহাম্মককে বাঁচানোর শক্তি কারো নেই।
তাহলে কি মুক্তির কোনো উপায়ই নেই মানুষের?
-যদি বাঁচতে চায়, সে শপথ করুক পাখি ও মৎস্যের ধর্ম মেনে চলবে পুরোপুরি। রাষ্ট্রের দেয়াল ভেঙে ফেলে দেবে। মানুষকে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দেবে স্রষ্টার সাম্রাজ্যে। সে ঘুরে বেড়াক যেভাবে পাখিরা ঘুরে বেড়ায় পৃথিবীর আকাশে। সে ছুটে বেড়াক যেভাবে মাছেরা ছুটে বেড়ায় পৃথিবীর জল থেকে জলে। ইউরোপ তার প্রবেশপথ খুলে দিক। মেইনগেট খুলে দিয়ে ক্ষুধার্ত মানুষকে স্বাগত জানাক আমেরিকা। বলুক, মানুষ এসেছে। তাকে পিঁড়ি পেতে দিয়ে সে বসতে দিক ভাতঘরে। বসতে দিয়ে বলুক, সে আমার ভাই। মানুষের পাপই তাকে ঠেলে দিয়েছে ধ্বংসের দ্বারপ্রাšেত। সে তার শরীরকে পবিত্র করুক। নাসিকা, কর্ণ আর চক্ষুকে পবিত্র করুক। আর সবচেয়ে মূল্যবান তার হৃদয়টি সে যেন দূষিত করে না ঘৃণায়, লোভে, ক্রোধে আর পরশ্রীকাতরতায়। হায়, আফসোস, মানুষ কেবলি নীতিকথা শুনতে ভালবাসে, বলতেও ভালবাসে, মানার ইচ্ছে নেই তার একটুও!
১২.১০.২০১০ ঝিনাইদহ
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান