আমি শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে অভিনয়রত মানুষের দিকে তাকিয়ে থাকি প্রতিদিন। রিকশাঅলা, মুটে, মজুর, পথচারী, দোকানদার, ক্রেতা ও ভিক্ষুকদের অভিনয় দেখতে দেখতে ফিরে আসি ঘরে।
অতঃপর ড্রয়িং রুমের টিভির পর্দায় নায়কনায়িকাদের অভিনয় দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি।
আমি তাঁকে বললাম, বিশ্বের সেরা সব অভিনেতা-অভিনেত্রীর
অভিনয় সম্বন্ধে আপনার অভিমত কী?
তিনি ভ্রু কুঁচকালেন।
-আমি বরং কুকুর ও কচ্ছপদের মুখ দেখতে বেশি পছন্দ করি। আমি তো বুঝি না মানুষ কেন অভিনয় দেখে দেখে জীবন বরবাদ করে দেয়! মেকি এ সভ্যতা তো পতিতাদেরকেই বসিয়েছে সম্মানের আসনে। নষ্ট মানুষগুলোকে ঘিরে ধরে পতঙ্গের মতো নৃত্য করছে যুবকেরা। আমি মেরিলিন মনরো নামে এক অভিনেত্রীকে চিনতাম।
সে তার খোলা ঊরু দেখিয়ে বেহুঁশ করে রাখতো মুচি থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্টকে পর্যন্ত। দেহ দেখিয়ে যারা মহান ব্যক্তিত্ব সেজে বসে আছে মিডিয়ার সামনে, তাদের অন্ধকার সৌন্দর্য অবলোকন করে আমার চোখের জ্যোতি তো আমি নষ্ট করে দিতে পারি না।
আমি সেই জীবনকে শ্রদ্ধা করি, যে-জীবন ফুলের মতো অকৃত্রিম, বহতা নদীর মতো সত্য, সবুজ ধানখেতের মতো খাঁটি। উপন্যাসের কাহিনীর মতো যে-জীবন অনবরত নাটকীয়তায় ভরপুর, অলীক সে-জীবনের অভিনয় করে অমূল্য এ জীবন বরবাদ করে দেওয়ার কোনো
মানেই হয় না, বৎস।
২১.১০.২০১০ সিরাজগঞ্জ
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান