যখন ফুলের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে মানুষ, তার ড্রয়িং রুম ভরে ফেলবে কাগজফুলে; যখন কোকিলের চেয়ে কাকের সঙ্গীত জনপ্রিয়তা পাবে আর দুর্বৃত্তরা আসীন হবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়; যখন ব্যভিচার বৃদ্ধি পাবে, বেশ্যারা ঘাড় উঁচিয়ে হেঁটে বেড়াবে সমাজে, প্রেমিকপ্রেমিকারা লাঞ্ছিত হয়ে আত্মাহুতি দেবে নিরুপায়; যখন মানুষ মানুষের চেয়ে কুকুরকে বেশি ভালবাসবে, অসুখেবিসুখে ভুগে বিনি চিকিৎসায় মারা পড়বে মানুষ পঙ্গপালের মতো কিন্তু শেয়ালকুকুরের চিকিৎসার জন্য উন্নত হাসপাতাল গড়ে তুলবে পশুপ্রেমিকেরা; যখন বইয়ের চেয়ে নোটবইয়ের কদর বেড়ে যাবে সারা দেশে, ভার্সিটির পর ভার্সিটি খুলে অজ্ঞানেরা বিতরণ করতে থাকবে জ্ঞান, জ্ঞানীর কথা কেউ ভুল করেও শুনতে চাইবে না, মূর্খদের বক্তৃতা শোনার জন্যে উৎসুখ হয়ে থাকবে উত্তাল জনতা; যখন হোটেলে হোটেলে অখাদ্য বিক্রি হবে, আমে ও আঙুরে ফর্মালিন মাখিয়ে বিক্রি করা হবে হাঁটে; যখন ডাক্তাররা কসাই হয়ে যাবে, খুনীরা বিচারক হয়ে নিরপরাধ মানুষগুলোকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারার নির্দেশ দেবে বারবার; যখন রাষ্ট্র নিজেই সন্ত্রাসী হয়ে কেড়ে নেবে তার নাগরিকের স্বাধীনতা; তখন, হে বন্ধু, যদি বেঁচে থাকো, চলে যেও তল্পিতল্পা নিয়ে গভীর জঙ্গলে, পাখি আর জন্তুদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলো, মানুষের ভাষা ভুলে গিয়ে শিখে নিও বৃক্ষদের ভাষা, আর কাউকে বোলো না আমি তোমাকে এই উপদেশ দিয়েছিলাম।
১০.১১.২০১০ ঝিনাইদহ
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান