আমি তাঁকে বললাম, বাঁচার উপায় কী?
তিনি বললেন, তুমি তো ফাঁদে পড়া কবুতরের মতো পড়ে গেছ রমণীর জালে। পালাও যেভাবে বিড়াল দেখে ইঁদুর পালায়, বাঘ দেখে হরিণ পালায় আর পানি দেখে জলাতঙ্কে আক্রান্ত কুকুর। বৎস, তোমার নফসের পায়ে শিকল লাগিয়ে দাও, দুচোখে লাগাও ঠুসি, ঠোঁটকে সংযত করো, দুহাতে পরাও বেড়ি। স্ত্রী, কন্যা, মাতা ও ভগ্নি ছাড়া নজর দিও না কারো দিকে। অনেক লোক ব্যবসাবাণিজ্যে সৎ, সুদঘুষে অনাগ্রহী, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার, মানুষ তাদেরকে ফেরেস্তা বলে জানে কিন্তু রাতের অন্ধকারে, লোকচক্ষুর অন্তরালে তারা নারীতে আসক্ত হয় যেভাবে পতঙ্গ আসক্ত হয় নিশীথ আলোয়।
বহুদিন পর তাঁকে গিয়ে বললাম ফের, বাঁচার উপায় কী?
তিনি বললেন, তুমি তো এখন গলায় ফাঁস লাগা বকের মতো লটকে গেছ নাম, যশ ও অমরত্বের মোহে। আমি এক প্রেসিডেন্টকে জানতাম, সে রাজ্যের সুন্দরী সব গৃহবধূকে ধরে এনে তার শয্যাসঙ্গী বানাতো। রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরি করে প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হয়ে বসেছিল সে। তাতেও যখন তার খায়েস মিটলো না, তখন সে জোর করে কবিতা লিখতে আরম্ভ করলো এবং এইভাবে অমর হয়ে থাকতে চাইলো ইতিহাসে। তাঁর কবিতা পাঠ করে গরুরাও উগরে দিতো বমি। ফলে লাঞ্ছিত ধিকৃত ফেরাউনের দোসর হয়ে সে নিক্ষিপ্ত হলো গণমানুষের ঘৃণার ভাগাড়ে। পেটের ক্ষুধা নিবৃত হলে মানুষ পেতে চায় নারী; নারীর ক্ষুধা দূর হলে বিত্ত-বৈভব; বিত্ত-বৈভবের পর সে অন্ধ হয়ে যায় খ্যাতি ও অমরত্বের নেশায়। তাজমহলের অমর পাথর দেখে তুমি বিভ্রান্ত হয়ো না; মমতাজ ও শাহজাহানের নরম শরীর সেই কবে পচেগলে হয়ে গেছে মাটি। শরীর নশ্বর, অনশ্বর কেবল তার অদৃশ্য আত্মা। পাথরের আবক্ষ মূর্তি, দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিসৌধ
ও কাগজের গ্রন্থরাজি তোমাকে যেন ধোকায় না ফ্যালে। কাগজের লেখা মুছে যাবে, গগনচুম্বী ইটের ইমারত ধুলোয় গুড়িয়ে যাবে, পাহাড়পর্বতরাজি ঝড়ের কবলে পড়া বৃক্ষের মতো উপড়ে গিয়ে তুলোর মতো উড়তে থাকবে শূন্যের উপর। শুধু শুদ্ধ আত্মা ছাড়া কিছুই থাকবে না অক্ষত।
২০.১১.২০১০ ঝিনাইদহ
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান