লোকগুলো একত্রিত হয়েছিল অডিটোরিয়ামে। একটি কুকুর রাস্তার পাশে শুয়ে অডিটোরিয়ামের প্রশস্ত দরজা দিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিল তাদের কাণ্ডকারখানা। লোকগুলো মাঝেমধ্যে করতালি দিচ্ছিল। কুকুরটি ভাবছিল, নিশ্চয়ই কোনো খানাপিনা হবে সব শেষে। বিরতি দিয়ে দিয়ে মাইকে কেউ ঘোষণা করছিল কারো নাম; তিনি স্টেজে উঠে গেলে মহামান্য কেউ তাঁর গলায় পরিয়ে দিচ্ছিল সোনার তকমা। কুকুরটির কানে কয়েকটি শব্দ গিয়ে পৌঁছেছিল: দেশবরেণ্য কবি, সময়ের শ্রেষ্ঠ নায়িকা, অমর কথাশিল্পী, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, দেশদরদী নেতা… যার অর্থ তার জানা ছিলো না একটুও। সে শুধু অপেক্ষা করছিল কখন অনুষ্ঠান শেষ হবে এবং গরুর একটি ছুঁড়ে দেয়া হাড় গালে নিয়ে সে তার সাথে লড়াই করতে থাকবে। কিন্তু তার আগেই ধপাস করে ধসে পড়লো অডিটোরিয়ামটি, সেই সাথে আশপাশের অন্য সব বিল্ডিংও। তার পায়ের নিচের জমিনকে সে একবার কেঁপে উঠতে দেখেছিল। মানুষের আর্তনাদ ভয় পাইয়ে দিয়েছিল তাকে। সে সুপারি গাছের মতো হুমড়ি খেয়ে পড়া অডিটোরিয়ামের ভেতরে ঢুকে দেখতে পেলো এক ভয়াবহ দৃশ্য। কে কবি, কে বিজ্ঞানী, কে গায়িকা, কে নেতা, কে সাধারণ মানুষ, কে অসাধারণ- চোখ উল্টে যাওয়া মানুষের চেহারা দেখে তা বুঝার কোনো উপায়ই ছিলো না।
১১.১০.২০১১ মুকতারপাড়া, সিরাজগঞ্জ
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান