মৎস্যগন্ধ্যা ঋতুর উপলব্ধি / আল মাহমুদ

বিপর্যস্ত উন্দ্রিয়গুলোর উপর মাদুর বিছিয়ে সূর্যাস্ত দেখছি। অন্ধকার
ছুটে আসছে পশ্চিম থেকে। আর ইবলিশের হাসির মতো
গুমগুমিয়ে উঠছে বিদ্রুপ। কে এই হারামজাদাকে জানিয়ে দেবে
এটা শরৎকাল।
ওর কানে আমি পরগাছা গজিয়ে তুলেছি। ওর চোখে শেয়ালেরা
হিসি করছে।
ওকি জানে আমিই পুঁজির রাজা! ওকে কে বলে দেবে আমার নামই
নতুন বিশ্ব নিয়ম? আমি ওর মগজে উঁইপোকা ছড়িয়ে দিয়েছি।
আমার সাঙাতরা ওর নাসারন্ধ্রের ভেতর ঢুকিয়ে দিচ্ছে এই শরতের
একটি শাদা কাশফুল। যতই হাচ্চু করে হাঁচির সাথে বের করার
চেষ্টা করুক শাদা কাশের সুড়সুড়ি, বলুক আলহামদুলিল্লাহ। আমি
বারবার তার প্রতিটি রন্ধ্রপথে নাক-মুখ-নাভি সব কিছুর ভেতর
দিয়ে ফিরে আসব।

প্রভু, তার চেয়ে আমার জন্যে খুলে দাও পৃথিবীর শেষ দরজা।
কবরের কপাট উম্মুক্ত করে দাও। যেমন চিরকাল তুমি জালিমের
বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীকে আড়াল করেছ। মাটির ঢাল দিয়ে রক্ষা
করেছ পিশাচের হুংকার।

তবু আমি শরতের ভেজা মৎস্যগন্ধ্যা বাতাসকে আমার জরাজীর্ণ
পাঁজরের ভেতর নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে টেনে নিচ্ছি। মাথা উঁচু করে
বলছি পতন হোক মানবজাতির দুশমনদের। পৃথিবীর ঋতুর
আবর্তন যেমন প্রকৃতিকে সবুজ চামড়ায় বারবার আবৃত করে আর
এর নিচে চাপা পড়ে যায় মানুষের দাসত্বের পর্যায়ক্রমিক যুগগুলো।
তেমনি আচ্ছাদিত হোক মানবজাতির বসবাসের এলাকাসমূহ।
ধ্বংশ ও রক্তপাত এবং ক্রমাগত ক্ষেপনাস্ত্র, বোমার শব্দ শয়তানের
দীর্ঘশ্বাসমাত্র কিছুতেই মানুষের বিলুপ্তি সম্ভব নয়। আর মানুষ
থাকলে শরতের মৎস্যগন্ধ্যা বাতাও কবিরাও নিঃশ্বাসে-প্রশ্বাসে
টেনে নেবেই।
প্রজাপতি উড়বে, ফুল ফুটবে থাকবে মৌমাছির গুঞ্জন।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান