এক ফোঁটা জীবন অথচ মহাসাগরের পানিবরাবর আশা। ক’বসন্তের ভঙ্গুর যৌবন অথচ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সব সুন্দরীকে হাতের মুঠোতে নিয়ে হাজার বছর ভোগ করার অদম্য ঈপ্সা। ঘাসের ডগায় জমা শিশির-জীবন নিয়ে চব্বিশ ঘন্টাই মানুষ বিভোর হয়ে থাকে অমরতার স্বপ্নে। কোনো মানে হয় বলুন?
তিনি বললেন, যতই দিন যাবে ততই মানুষ অমরত্বের জন্যে অন্ধ হয়ে যাবে। লম্বা লম্বা স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষায় ভরে ফেলবে তার হৃদয়ের ঘরবাড়ি। স্মরণ করো নুহের কথা- তিনি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন- যেতে যেতে দেখতে পেলেন একজন মেয়েলোক একটি কবরের পাশে বসে কান্নাকাটি করছে। কাঁদছো কেন, মা? তিনি বললেন।
সে বললো, তার একটি সন্তান মারা গেছে। -তার বয়স হয়েছিল কত? -পাঁচ শ বছর। -পাঁচ শ বছর? অথচ এমন এক জামানা আসবে পৃথিবীতে যখন মানুষের গড় আয়ু হবে ষাট থেকে সত্তর বছর। মেয়েলোকটি হতভম্ব হয়ে গেল শুনে।-তারা কি ঘরবাড়ি নির্মাণ করবে? -হ্যা, তারা গগনচুম্বী এমন সব ইমারত নির্মাণ করবে যেখানে নিশ্চিন্তে হাজার বছর বসবাস করা যায়। মেয়েলোকটি বলে উঠলো আফসোস করে, “হায়, আমি যদি সেই জামানা পেতাম, এক সিজদাতেই কাটিয়ে দিতাম সমস্ত জীবন!” কিন্তু কী হবে তোমাকে এ কাহিনী শুনিয়ে, বৎস; কাগজকুসুম গেথে গেথেই তো পুড়িয়ে ফেললে জীবনের ধূপকাঠি।
৪.১১.২০১১ মুকতারপাড়া, সিরাজগঞ্জ
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান