আমার মেয়ে খাঁচায় একটা ময়না পুষতো। আদরে আব্দারে
কিভাবে যেন পাখিটার নাম দাঁড়িয়ে গেল কবিতা।
বাইরে থেকে কেউ ঘরে এলেই ‘কবিতা, কবিতা’ বলে পাখিটাকে
তোয়াজ করতো।
এমন কি আমিও যে কিনা জন্তু-জানোয়ার পোষার ঘোর বিরোধী।
মাঝে মধ্যে পাখিটার চকচকে কালো পালক ও হলদে ঝুটি দেখে
হঠাৎ বলে ফেলেছি, কি রে কবিতা? আমার ডাকে পাখিটা
সহসা চমকে গিয়ে থমকে বলতো, ভালোবাসি, ভালোবাসি…
আমার কলেজে পড়ুয়া মেয়েটি সম্ভবত কবিতাকে এসব বুলি শিখিয়েছে।
এ দেশের কলেজে পড়ুয়া মেয়েরা এর বেশি কি ই-বা জানে?
ফলে পাখিটার নিত্য ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ঐ ‘ভালোবাসা’।
সহসা একদিন আমার মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেল। ভালোবাসারই বিয়ে।
যাওয়ার সময় আমার পায়ে হাত রেখে কাঁদল, বাবা কবিতাকে খেতে দিও।
কবিতা তোমার কাছেই থাকল।
আমি মুখ ফুটে বলতে পারলাম না, এ আপদ সাথে করেই নিয়ে যা না!
কে এটাকে দানাপানি জুগিয়ে বাজে কথা শুনবে। তোর মা থাকলেও না হয়
কবিতার যত্ন নিতে পারত। আমি একা মানুষ!
কিন্তু সুখের আশায় রোরুদ্যমান আমার কন্যার বেনারসীর
রঙিন বাহারের কাছে আর সব বাপের মতই আমিও নির্বাক থেকে
মেয়েকে গাড়িতে তুলে দিলাম।
কিছুদিন পরেই শশুরবাড়ি থেকে লিখে পাঠিয়েছে, বাবা
কবিতাকে খাঁচা খুলে উড়িয়ে দিও। সে কি এখনও ভালোবাসি
বলে ডাকে?
এখানে বসে বুঝেছি তোমার মত ব্যস্ত মানুষের পক্ষে কবিতার আহার
জোগানো কতটা মুস্কিল।
পাখিটা না খেতে পেয়ে মরার আগেই ছেড়ে দিও বাবা,
দোহাই তোমার।
বুঝলাম বিয়ের পানি মেয়েটাকে বুদ্ধিসুদ্ধি দিচ্ছে।
কিন্ত কবিতাকে বিদেয় করতে গিয়ে আমি তো অবাক।
খাঁচা খুলে পাখিটাকে যতই উড়ে যেতে বলি ততই সে
খাঁচার ভেতর ওড়িউড়ি করে বলে,‘ভালোবাসি’।
খাঁচা খোলা রেখেই ঘুমুতে যাই। কিন্তু কবিতা পালায় না।
তার ঐ এক কথা, ভালোবাসি।
আমি এখন এই খাঁচার দাসী
কবিতাকে নিয়ে কী করব?
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান