অন্ধকারের মধ্যে আরো অন্ধকার। স্তব্ধতার মধ্যে যেমন
আমি আমাকে খুঁজে বেড়াই। তেমনি অন্ধকারেরও একটা ওম
আমাকে বোঝাতে চায় যে আমি কেউ নই।
আমি কী সত্যিই কেউ নই? আমি কি আমি নই?
তাহলে এই অনুভব কোত্থেকে আসে, আমি হাঁটছি।
আমি কি করে বুঝি চতুর্দিকে খানাখন্দর, গহ্বর।
চলতে হবে আমি জানি পা টিপে টিপে, মৃত্যুকে এড়িয়ে
কিংবা মৃত্যুর অবশ্যম্ভাবী সমাপ্তিকে মেনে নিয়ে।
কত আপনজন আমার জন্য তাদের বাতি জ্বালিয়েছিল
তাদের মুখ আমার মনে পড়ে। অশ্রুসিক্ত কাজলে গলা চোখ।
এখন দৈব ফুৎকারে সবই অন্ধকার।
আমি জানি আমি আছি। কবির আবার অতীত কী?
সবই ভবিষ্যৎ আর ভবিষ্যৎ হলো অন্ধকার। আমার জন্য
কেউ অপেক্ষা করে নেই, একেবারে নেই সেটা বলব না। কারণ
আমার অপেক্ষায় আছে অসংখ্য কালো গর্ত। আমার
কালো চোখের মতো গর্ত। আমি তাদের দেখতে পাই না, কিন্তু
তারা দু’চোখ মেলে আমাকে দেখছে। আমি কালো ভবিষ্যতের
ডাক শুনতে পাই। শেয়ালের ডাকের মতো থেমে থেমে
হুক্কা হুয়া করে।
আমার মাংসের ভেতর কাঁপুনি ধরে যাচ্ছে। যেন আমার মাংস ও মজ্জা
ছিন্ন-ভিন্ন হওয়ার জন্য হিংস্র দাঁতের অপেক্ষায় সময় গুণছে। অথচ
আমি তো সময়ে বিশ্বাস করি না। বর্তমান ছাড়া আর
সবই তো অন্ধকার মাত্র। আমি তো বলেছি আমার অতীত বা ভবিষ্যৎ
বলতে কিছু নেই, আছে কেবল বর্তমান। সময়ের সারাৎসার
এই মুহূর্ত, তাহলে কাকে বলে সময়?
আমি হিংস্র পশুদের আহ্বান শুনতে শুনতে অনুভব করি আমার
শরীর বেয়ে ওঠা-নামা করছে ফণাতোলা সাপের দল। কিন্তু কী আশ্চর্য!
তারা আমাকে ছোবল হানছে না। এইভাবে আমি সময়ের চলাচল
অনুভব করি, কেন হানছে না? তারা কি জানে লেকেসিস আমার
রক্তকে জমাট বাঁধাতে পারবে না? যে-কোনো জৈব বিষকে আমি
হজম করতে পারি। বহুকাল আগেই আমাকে ছোবল হেনেছিল প্রেম-
পৃথিবীর সবচেয়ে মারাত্মক জৈব বিষ। কিন্তু আমি শুধু কবিত্ব শক্তির
ওষুধে তা হজম করে ফেলেছি। যে প্রেমের বিষ হজম করতে পারে
তাকে আর কে মাটিতে শুইয়ে দেবে?
এটা ঠিক যে আমি অপেক্ষা করি আলোর। কিন্তু আমার পাপড়ি ঝরা
পলকহীন দৃষ্টি এক অপরিচ্ছন্ন অন্ধকারে বিচরণ করতে আমাকে
সময়ের গতির ওপর বসিয়ে দিয়ে উদয়াস্তকে স্তব্ধ করে রেখেছে।
আমি অন্ধকারে শেষ সত্য অবলোকন করব।
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান