পাতাটি গাছের মগডালে জন্মেছিল। যখন সে
কচি শিশুটি ছিলো, তাকে দেখলেই
যে-কারোর দুচোখ জুড়িয়ে যেতো। যখন সে
যৌবনে পা দিলো, বাতাসরা এসে তাকে
প্রণয় নিবেদন করতো। সে বাতাসদের মৃদুস্পর্শে
থরথর করে কাঁপতো সারাদিন। একটি কোকিল এসে
তার পাশে চুপটি করে বসে থাকতো; তারপর কণ্ঠ ছেড়ে
একসময় জুড়ে দিতো বসন্তের গান। প্রকৃতির নিয়মে
পাতাটি একদিন হলুদ হয়ে গেল। যখন
ঝরার সময় এসে গেল তার, সে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে
শেষ প্রার্থনা নিবেদন করে টুপ করে ঝরে পড়লো মাটিতে। আমি
তার পতনদৃশ্যের দিকে তাকিয়ে ছিলাম একদৃষ্টে। শূন্যে
কয়েকটা চক্কর দিয়ে সে আস্তে করে নেমে পড়লো ধুলোয়। তাতে
বাতাসে কোনো তরঙ্গ সৃষ্টি হলো না, পৃথিবী টেরও পেলো না
কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেছে কোথাও। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে,
মাটিতে পড়ার আগে সে বাতাসে কয়টা পাক খেয়েছিল,
তা স্মরণ করার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু অদ্ভুত লোকটা এসে
আমার সমগ্র সত্তা ধরে নাড়া দিয়ে যখন বললো, পাতাটি কবে
কোন্ মুহূর্তে জন্মেছিল, সারাজীবন মগডালে মোট কতবার
বাতাসে দোল খেয়েছিল সে, মোট কতবার তার বুকের উপর
সূর্যের রোদ আর চাঁদের আলো ঠিকরে এসে পড়েছিল
এবং কতক্ষণ তা স্থায়ী হয়েছিল, আর মোট কয় ফোঁটা
বৃষ্টির পানি ও রাতের শিশির ঝরে পড়েছিল তার গায়ে,
সবকিছুই তার স্রষ্টার আছে জানা; তখন আমার সারা গা
কেঁপে উঠলো ভয়ে, আমার অন্তর র্যাবের হাতে ধরা পড়া
দাগী আসামীর মতো ধড়ফড় করতে লাগলো
আমার বুকের ভেতর, মনে হলো আমিই যেন সে হলুদ পাতা
যে এইমাত্র কাঁপতে কাঁপতে ঝরে পড়েছে
পৃথিবীর বিস্মৃতির অন্ধকারে, তিনি যার দিন ও রাত্রির
সমস্ত খবর রাখেনÑ এখন উপায়?
২৮.১.২০১২ মুকতারপাড়া, সিরাজগঞ্জ
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান