রাতের নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে হায়েনার চোখ জ্বলে; বাঘ তার
চোখের আলোয় পথ দেখে দেখে চলে অন্ধকারে মোড়া
রাতের অরণ্যে চুপচাপ; সাপ ও বৃশ্চিক হারায় না পথ,
অন্ধকার মাড়িয়ে মাড়িয়ে পৌঁছে যায় ঠিকঠিকই লক্ষ্যস্থলে;
কেবল মানুষই চলতে পারে না এক পাও ধার করা আলো ছাড়া;
বিদ্যুতের ব্যবহার, টর্চ লাইটের ব্যবহার মানুষই কেবল করে।
হায়, এই চোখ যদি বিড়ালের চোখও হতো,
অন্ধকারে দেখতে পেতাম তাঁকে;
ইঁদুরের চোখও হতো,
অন্ধকার গর্তের ভেতরও দেখতে পেতাম তাঁকে।
কিন্তু আমি তো দিনের আলোতেও দেখতে পাইনে,
সে বুঝি চোখেরই দোষ?
আমার হৃদয় যদি গোলাপবাগান হতো,
পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তো আমার সুঘ্রাণ।
আমার এ কণ্ঠ যদি কোকিলের কণ্ঠ হতো,
পৃথিবী উৎফুল্ল হতো বসন্তের গানে।
আমার দুচোখ যদি চাঁদ আর সূর্য হতো,
দিন আর রাত্রি এসে বিভ্রান্ত করতে পারতো না আমাকে।
হায়, জলজ্যান্ত দুটি চোখ থাকতেও যে দেখতে পায় না, তার কী উপায় বলুন?
তিনি বললেন, কোন্ চোখ দিয়ে বলো অরণ্যের ফুল
দ্যাখে তার স্রষ্টাকে? সাগর কোন্ চোখ দিয়ে,
ঝর্ণা কোন্ চোখ দিয়ে,
চাঁদ কোন্ চোখ দিয়ে করে স্রষ্টাকে দর্শন?
হৃদয়কন্দরই যার অমাবশ্যার অন্ধকারে ভরা, তাঁর
দুচোখে ভাদ্রের ভরা চাঁদ উঠলেও,
মনে রেখো,
দেখতে পাবে না তাঁকে।
বৎস, ইব্রাহিমের মতো অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত না হলে তুমি
দেখতে পাবে না তাঁর জ্যোতি;
জাকারিয়ার মতো করাত দিয়ে না কাটলে তোমাকে,
দেখতে পাবে না তাঁর রূপ;
ইউনুসের মতো গিলে না ফেললে কোনো মাছ,
ঘুচবে না তোমার দুচোখের নিশি।
তুমি তো, বৎস, পড়ে আছো শুধু মানবচক্ষুর গোলক ধাঁধায়।
১২.৪.২০১২ মিলনমোড়, সিরাজগঞ্জ
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান