এবারই প্রথম। ব্যর্থ কোকিলের ঝাঁক বাংলার বিমর্ষ সবুজকে বিদীর্ণ
করে দিয়ে ভাঙা গলায় কুহু ধ্বনি উচ্চারণ করতে করতে প্রান্তরে
মিলিয়ে গেল। তুমি যখন উঠোন পেরুলে তখন কোনো সম্ভাষণ নেই।
না-প্রকৃতির না-ঋতুচক্রের। আমি ইচ্ছে করলে আমার ক্যাসেটে বন্দি
নকল পাখির ডাক তোমাকে শুনিয়ে দিতে পারি। একেবারে নির্ভুল
কুহুধ্বনি। যদিও গাছে কোনো ফুল ফোটাতে আমি পারব না। তুমি তো
বসন্তে বসরাই গোলাপ চাও, কাঁটা ও সৌরভের মধ্যে নাক উঁচু করে
থাকতে চাও। কিন্তু আমার বাগানে ফুটেছে নির্গন্ধ ব্লাকপ্রিন্স। আর
আমার পড়ার ঘরের শিক বেয়ে উপচে পড়ছে অপরাজিতা। তুমি যে
ফুলের উপমা হতে পারতে অথচ কী আশ্চর্য দেখ তুমি ওই নীল ও
হলুদের ছোপ লাগা ময়ূরের পালকের ডিজাইন চুরি করা অপরাজিতা
নাম শুনতেই ক্ষিপ্ত হয়ে যাও। কেন, মানুষীর কি পরাজয় মানতে নেই?
আমি তো এখন আর বিজয়ের কথা ভাবি না।আমার পোশাকও দেখ
ঘরে ফেরার। দিগ্বিজয়ীর বেশবাস এখন নেপথলিনের গন্ধের মধ্যে
পচে যাচ্ছে। এমনকি দিগ্বিজয়ীদের ইতিহাসও আমার আর ভালো লাগে
না। মনে হয়, দিগ্বিজয়ীর প্রতিমূর্তি মূলত কণিষ্কের কবন্ধের মতো।
অথচ আমার তো একটা মাথা দরকার।আমি হাত দিয়ে আমার
মস্তক স্পর্শ করে আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতে চাই।
তুমি কোকিলের কুহুধ্বনি ও নির্গন্ধ গোলাপগুচ্ছের পাপড়ি ঝরে
যাওয়ার উঠোন পেরিয়ে এলে এতেই আমি খুশি। তোমার পায়ের
ছাপ আমার উঠোনকে মুখরিত করে তুলুক। অপরাজিতার নীল চোখ
আমি টাওয়েল দিয়ে ঢেকে রাখব।
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান