এবার বোশেখের আগে এই গাঁয়ের উঁচু মাথাঅলা বনস্পতিরা
মড় মড় শব্দ তুলে হেলে পড়েছে। সব একদিকে
কাত হয়ে যাওয়া গাছের সারি।
আম, জাম, কাঁঠাল। এমনকি
এই গাঁয়ের বুড়ো-অশ্বথ তিনদিকে তিন বাহু মেলে
চিৎপটাং
শুধু বটের ঝুড়ি কান্ডটা বাঁচিয়ে দরবেশের
দাড়ি হয়ে গেছে।
সব একদিকে একমুখী হয়ে বুদ্ধি-বিবেচনাহীনভাবে
চলতি বাতাসের ধাক্কায় এক কাতারে দাঁড়ানো। তখন
পাতার ঝিরঝির শব্দ তুলে
গাঁয়ের চিরচেনা দেবদারুটা গেঁয়ো
বেয়াদবের মতো মাথা উঁচু করে থাকবে কেন? তার পাতার
ঝিরঝির শব্দে বয়ে যাচ্ছে মাটির ভেতর থেকে
উপচে পড়া বিদ্যুৎ।
তার শাখায় নির্ভয়ে বাসা বেঁধেছে বাবুইয়ের ঝাঁক।
বাসাগুলো হাওয়ার বিপরীতে প্রকৃতির সতেজ,
সপ্রাণ আশার মতো ডিম ও বাচ্চা নিয়ে
কেবল দোল খাচ্ছে । কী আশ্চর্য!
আসলে গাঁয়ের পথ দিয়ে নূয়ে পড়া আম, জাম, কাঁঠালের
বন পেরিয়ে যারাই ঘরে ফিরছে তারা ইচ্ছে বা অনিচ্ছা
ঐ দেবদারুটাকে একবার আড়চোখে দেখছে। যেন
মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা এই বরাভয় তাদের
হৃদপিন্ডকে উত্তেজিত রাখার বনৌষধি। তার পাতার
ঝিরঝির, নিষ্ফলা ঊর্ধ্বমুখী বাহু অদৃশ্যের দিকে
প্রার্থনায় উত্তোলিত। এখন বহু দূর থেকে যারা
এই গ্রামটিকে চিনতে চায় তারা আগে ঊর্ধ্বমুখী দারুর শোভা
অবলোকনের জন্য চোখ মুছে ফেলতে পারে। মানুষের
চোখ তো শুধু অশ্রু ঝরাবার জন্য নয়।
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান