অলৌকিক কুয়াশা / আল মাহমুদ

আমার এখন এমন একটা অবস্থা, আমি অর্থাৎ আমার চোখ এমন এক
কুয়াশাকে কবুল করেছে, কোনো মানুষের চেহারার পার্থক্য, বৈশিষ্ট্য
নাক-মুখ-চোখের বর্ণ কিংবা তিলচিহ্ন ইত্যাদি খুঁটিনাটি
যাতে একজনকে শনাক্ত করা যায়-
তুমি আসমা, তুমি কাজল, তুমি কাওসারী কিংবা তোমাকে চিনি না
এই বোধ জন্ম লয়; আমার আর নেই।

আমার এখন প্রতিটি মানুষকে মনে হয় মানুষ মাত্র। যেমন
এক ঝাঁক রুই মাছ একদিন পুকুরের পানিতে সহসা ভেসে উঠলে
আমরা শুধু বলি, ‘দেখো, দেখো রুই মাছ।’
মানুষের ব্যাপারেও আমি এখন শুধু মানুষ ছাড়া আর কিছু বুঝি না।
তবে নারী ও পুরুষের বৈশিষ্ট্য তাদের ছায়া থেকে আন্দাজ করিমাত্র।
নাম ধরে ডাকতে পারি না। বলি না- এই যে পারভীন, এদিকে এসো।
বলি না- ওরে শওকত তুই তো রোমে ছিলি।

সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হলো, কবিদের চিনতে পারি না।
কবি যেহেতু উভলিঙ্গ শব্দ, সে কারণেই ব্যাপারটা হয় আরো বিব্রতকর।
যারা প্রকৃত কবি তারা অন্ধত্বের দুর্ভাগ্য বোঝে না। রেগে যায়।
ক্রুদ্ধ হয়ে ফিসফিসিয়ে গালি দেয়- হায় আল্লাহ!
চোখে না দেখলে কবিতাও কি বদলে যায়?

আমি এখন মনে মনে চিত্রকল্প দিয়ে মনকে প্রবোধ দিতে চাই।
এমন কথা বলি যাতে সুঁচের ভেতর দিয়ে উট চলে যাোয়ার
গল্পটাও একজন পাঠকের জন্য কষ্টকর হয় না। আমি
চেহারার বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলেছি বলে মানুষকে মানুষ হিসেবে
চিনতে পারি। যেমন- হঠাৎ পুকুরে রুইমাছ ভেসে উঠলে বাড়ির সবাই
একসাথে বলে ওঠে- রুই, রুই, রুই।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান