স্বপ্নের ভেতর দর্জি মেয়েটি / আল মাহমুদ

রাতভর বৃষ্টি। আর সেলাই কলের শব্দ। কে এই যুবতী?
ক্রমাগত সেলাই করে চলেছে ভাসমান মেঘের সাদা থানগুলো
সে কি সেলাই করছে আমার জন্য কাফন? তার মুখ আমি
বিদ্যুতের ঝলকের মধ্যে একবার মাত্র ঝলসে উঠতে দেখেছি।
অচেনা ঘর্মাক্ত চেহারা। নাকের নাকফুলটিতে একটিমাত্র জোনাকি।

খাটের উপর উপচে পড়ছে এক প্রবল পুরুষের নগ্নতা।

মেয়েটি আমার চেনা নয়। কিন্তু তাকে অচেনা বলার সাহস
আমি
সর্বত্র হাতড়ে বেড়িয়েছি। যতবার
হাত বাড়িয়েছি নীলিমায় ততবারই আমার নখের ভেতর
উঠে এসেছে চূর্ণ নক্ষত্রের গুঁড়ো।
ঠিক ওই মেয়েটির নাকে ঝুলানো নাকফুলের বিন্দু।
সবই তো চেনা। সেলাইয়ের মেশিন এখন জোড়া লাগাচ্ছে
সবগুলো মেঘস্তরকে। সেলাই বিহীন কাফন কে দেবে আমাকে?
মেয়েটির মুখ একবার আমার দিকে ফিরল
সে কি এখন একজন কবির নগ্নতা মাপার ফিতে বের করবে?

এই অক্লান্ত, অলৌকিক দর্জি মেয়েটির জন্য আমি আরও একবার
পাশ ফিরে শুতে চাই। সে আমাকেই মাপুক যাতে তার
কাটা কাফনের পিরহান আমার সাথে খাপ খেয়ে যায়।
সারারাত এই বৃষ্টির শব্দকে ছাপিয়ে দর্জি মেয়েটি
জোড়া দিয়েছে মেঘস্তর। তার গাল বেয়ে নেমে এসেছে
ঘামের বিন্দু। আমি তার জন্য পাশ ফিরে শুয়েছি
সংবরণ করেছি পৌরুষ।
নখ থেকে ঝেড়ে ফেলেছি নক্ষত্রের চমক।
আমার হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে যাক ওই সেলাই কলের শব্দে।

কেন যে দর্জি মেয়েটি মেঘের পর মেঘস্তর জোড়া লাগিয়েে
আমাকে ঢাকার আয়োজন করছে তা সেই জানে।

আজ আমি তার জন্য বারবার পাশ ফিরে শুয়েছি
বালিশ ভিজিয়ে দিয়েছি চোখের জলে
বৃষ্টি ও অশ্রুজলের নদী আমার পালংক ছাপিয়ে
পৃথিবীর পেটের ভিতর আছড়ে পড়েছে।
কিন্তু সেলাই কলের শব্দ সব কিছু ছাপিয়ে এখন আমার
রক্ত মাংসের উপর এসে ঝিমঝিম করে বেজে চলেছে
আর সেলাইয়ের সুতোয় বাঁধা পড়ে যাচ্ছে আমার দীর্ঘ আয়ুষ্কাল।
পৌরুষ ও প্রবৃত্তি। কে এই অচেনা দর্জি? তার নাকফুলে
আমার আত্মা জ্বলছে।

২৪ জুন ২০০৪

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান