ত্রিকোন চক্ষু এঁটে খণ্ড অবয়বে, যে বোধ
বিস্মৃতি খুঁজে, জরাক্রান্ত ধুলো, বস্তি, বিকারগ্রস্থ আড্ডায়
কিংবা উৎসবে নেমে উঠে, উঠে নেমে, বিস্রস্থ বার্ধক্য খোঁজে
ঘন বরফের মতো শীতল দুর্বাক্যে যার মুকের সেমিজ
নিবিষ্ট আনন্দে ফোলা, তার অনাদৃত চোখের আঁধারে
অনেক সবাক ছবি বিস্মৃতির পথ পায় জানি।
এও হতে পারে, যদি অস্থির মণ্ডলে
নিদ্রালু পূজার বর্তে ছেঁড়া-ফাটা জীবিকার আয়ু, যে সালে
সেই দুশ্চরিত্র আবহাওয়া দিয়েছিল বাংলার বাগানে বিধ্বস্ত ফুল
মাঠে পোড়া ঘাস আর জলে রোগাক্রন্ত মাছ,
নিঃসঙ্গ রোদ্রের বুকে ক্লান্তি চাপা নিঃশ্বাসের মতো
তাই ঘেটে অলীক বান্ধব চিত্রে দৃষ্টির লেজুড়ে আটে ব্যাধির যাতনা।
তখন তোমাকে খুঁজি দীর্ঘশ্বাসে। স্বপ্নের ওষুধ মেখে
ঘাতগ্রস্থ জানুর সন্ধিতে, শিশুর মতন উচ্চস্বরে ডাক দিই
এবং মা কিছু আঙুলে বাঁধে, বাসি পান্তা যা কিছু, অমূল্য ভেবে
খুব যত্ন সহকারে নিজের বলেই রাখি,
তখনও তোমাকে খুঁজি- দেখি দুইটি বছর চাঁদের সুঘ্রাণ নেই
জলের গভীর স্বরে গানের ঐশ্বর্য নেই,
আর সকালেও দেখি শুকনো ফুলের কাছে
কোন পাখী ডাকে না তখন?
অনেক বছর রাস্তার রোয়াকে পঙ্গু দিনগুলো জ্বালে না লোবান।
কবরের প্রিয় মুখগুলো স্বপ্নেও ভাসে না আর! শুধু স্বপ্নের ওষুধ
মাখি সারা গায়ে, যদি রাতে স্বপ্ন দেখি! যদি সুস্বাদু সংবাদ নিয়ে
উঠে আসে আমার সে প্রীতিদগ্ধ জন!
বিম্বিত সূর্যের ক্রোধ আত্মার রেণুতে মাখে
ঘৃণা, মৃত্যু, হত্যার ভয়!
আর আমি কয়েকটি কথাকে নিয়ে সুচতুর অভাবের জিভে
ছোঁয়াই ক্লান্তির স্বাদ!
অদৃশ্য মজ্জায় ঢুকাই তীক্ষ্ন ক্ষোভ! —চিবুকের খাঁজে
আয়াসে নাচাই নগ্ন বিস্মৃতির করুণ বিলাস!
যা কিছু পাবো না, কিংবা যাকে কাম্য বলে ভাবি
শত চেষ্টায়ও সেই কস্তুরী নাভীর প্রাপ্তি আমার কখনো নয়,
অপহৃত শব্দে শুধু চতুর্পার্শ্বে খোলা হচ্ছে বিজ্ঞ বিজ্ঞাপন,
আঁকা হচ্ছে কড়ি ও কোমলে যত কারুকাজ!
শোভন বুকের মধ্যে খোঁড়া হচ্ছে প্রেমের খন্দক!
তবু এই সত্যটিকে যদি অন্ধকারে দেখি
আর ধরে নিই, সেই অন্ধকার শুধু স্বপ্নের রাত্রিকে নিয়ে,
তবে এই এতদিন পরে, চারপাশে পাখীর মাংসল শীষ,
গোলাপের মিহিগুচ্ছে, রাত্রির বিলাপ আর ইচ্ছার শ্রান্তিকে তুমি
কি কোরে রাখবে বলো, নষ্ট নীবি, আঙ্গুলের ফাঁকে?
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান