হে প্রেম / আবুল হাসান

তাছাড়া নেই তো এই হৃদয়ের শিলামুখে সমুদ্র গর্জন।
নেই ভেজা চোখ, ছোঁয়া নক্ষত্রের আলো,
কী দারুণ নির্জনতায় শুধু সেই বিষণ্ন আকাশ
অপ্রতিভ কী যে কাঁদে, সূর্য জ্বালায়।

সে কখন উদ্ধৃত্ত শষ্যে গোলাঘর, সমুদ্রের মত
সুলীল আকাশে কেঁপে চলে গেছে অস্থির অভাবে!
সব ক্লান্তি অশ্রু আর উম্মথিত পাঁজরের ক্ষোভে,
অভ্রের বিষের ছোঁয়া, ছড়ায় বিদীর্ণ ক্লান্তি।
উইঢিপি বাড়ে শুধু পশ্চাতের মোহে।

ওরা তো বোঝেনা এই প্রকোষ্ঠের ঘনীভূত জ্বালা
শুধু ছন্নছাড়া গানে অমৃতে ও মৃতে
বাজায় ডুগডুগি আর অস্তি¡ত্বের পরমহংস লোভে
ছড়ায় সস্তা কথা,
বৈচিত্রে আহারে যৌবন সঞ্চয় চায়, রক্তের তাপে!

নিয়তই অন্ধকারে উম্মিলিত প্রণয় উৎসারে
পাখীর পাখার শব্দ, ঘননীল সমুদ্রের ঢেউ
এবং নিয়নে জ্বেলে রক্ত, ক্লান্ত, পিপাসার আলো,
জংঘায় তাড়িয়ে দেয় অন্ধকার ভাষা।

দ্যাখোনি ফেরারী চোখে অবসতা?
অলস ঈর্ষায় বোঝনি কি তুমি নয়, অপ্রেমের খোড়লে বাঁচে
এই রক্ত- নৃত্য নটী ভ্রুভঙ্গিমায়
লাভালাভে ধার দেয় যৌবনের তাপ?

হে প্রেম, লুণ্ঠিত শব্দ,তোমাকে এখনও চিনি
তুমি হেঁটে হেঁটে পৃথিবরি বিষণ্ন দেয়ালে
স্বত্তার প্রাচুর্য্যে আঁকো, উজ্জ্বল সূর্য, ফুল পাখীর পালক!
তোমাকে তাছাড়া আমি হরপ্পার
চাপা দেওয়া যাদুঘরে, নিরব ক্যাসকেটে সেই জীর্ণ হাড়ে
কঙ্কালের অবুঝ আঙ্গুলে দেখে, শুনি তবু
তুমিই আবার, বিরহে বিষাদে আর সূর্যালু চোখে
সমুদ্রের গন্ধ দাও- মরা মানুষের হাতে
পাঠাও নির্জন শান্তি, দেবতার বর।

হে প্রেম, গোলাপ আর পাখীর কাকলী,
তোমাদের গন্ধ নিয়ে আজো আমি বেঁচে আছি।
আজো ঐ সুনীল আকাশে রাখি,
সব ক্লান্ত জীবনের কথা?

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান