দেখো আমার মুখের দিকে।
মনে হবে নোনা তরঙ্গের উপর ডানা মেলে দিয়েছে এক গাঙচিল।
মনে হবে ফেনার আলোড়নের মধ্যে আমার জন্ম
মনে হবে মাটি নয় তরঙ্গই আমার আবাস।
আমি জানি ঢেউয়ের ভেতর শুয়ে আছে
আমার কত পূর্বসূরি
ঢেউয়ের ভেতর আমি তাদের চোখ, চোখের মণি
মুক্তা হয়ে যেতে দেখেছি
তাদের হাড়গোড় এখন প্রবাল
তাদের কত স্বাদ ছিল, স্বপ্ন ছিল
কত বন্দরে তারা প্রেমের নোঙর ফেলেছিল
এখন তাদের হাড় প্রবাল হয়েছে নুনের মধ্যে
বলো নাবিকের উত্তরাধিকার কী? স্বপ্ন ছাড়া আর কিছু নয়।
দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর কিছু নয়।
নাবিকের লাশ মাটি পায় না
তরঙ্গে ভেসে যায় তার অবশেষ
কোনো অবসন্নতা নেই যেমন সমুদ্র ঘুমায় না।
উদয় ও অস্তের দৃশ্য দেখার জন্য
তীরের মানুষেরা সমুদ্রের কাছে আসে।
কী তারা দেখতে পায়? অনিঃশেষ লবণ
ফেনিল তরঙ্গ তুলে অনন্তকাল ধরে নাচছে।
সমুদ্র হলো এই পৃথিবীর একটি পরম সত্য
মানুষ যখনই ক্ষুধার্ত হয়
পৃথিবী যখন আর তার আহার যোগাতে পারে না
তখন সাগর তার পেট খুলে দেয়।
কত প্রলোভন একজন নাবিককে ডাকে
ক্ষণস্থায়ী আনন্দ বন্দরে বন্দরে নগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে
কিন্তু একটি বিশাল দীর্ঘশ্বাস নোঙর তুলে নিয়ে আবার ভেসে পড়ে
কারণ দরিয়া কোনো দিগন্ত মানে না
কে এই আদি হাতছানির আদি স্রষ্টা
শুধু অসীমের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া
এ প্রশ্নের কোনো জবাব নেই।
অতৃপ্ত প্রেম নিয়ে বন্দরে বন্দরে আমরা রেখে আসি আমাদের অশ্রুজল
যা সমুদ্রের মতোই নোনা এবং অদৃষ্টের মতোই সীমাহীন।
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান