একদিন এক জ্ঞানী পিঁপড়ে চললো
ছুটে, ছয় পায়ে, তার কওমের কাছে। গিয়ে সে বললো:
‘মানুষগুলো কি অমানুষ দ্যাখো! যেখানেই পায়, আলোয় কি অন্ধকারে,
দানবের মতো দুপায়ে পিষ্টিয়ে তারা মারে আমাদের। মারে
আগুনে পুড়িয়ে কিংবা কেরোসিন ঢেলে। শয়ে শয়ে
পিঁপড়ারা পড়ি মারা, কখনও বা লাখে লাখে, যেন ভয়াল প্রলয়ে
উল্টে যায় মুহূর্তে অদৃষ্ট আমাদের। আমাদের বীভৎস মৃত্যুতে
কাঁপে না তাদের বুক, বরং আনন্দে যায় শুতে
আমরা কোথাও আর নেই বলে। অথচ এ মানুষেরা, ভাইসব,
নিজেদের মৃত্যু নিয়ে এত বেশি হৈ চৈ কলরব
করে বিশ্বময়, করে শোকসভা, মিছিল, মিটিং; আর পত্র-পত্রিকায়
গরম গরম নিউজের বন্যা বয়ে যায়।
এদের এ হেন জঘন্য ভণ্ডামি
দুচোখে দেখেছি আমি।
দেখি আজ ভোরে তিনজন লোক মরে পড়ে আছে রাজপথে পুলিশের গুলি
খেয়ে। সেই ক্ষোভে দেশের মানুষ ক্ষেপেছে এমন, পারলে সরকারের খুলি
এখনই উল্টিয়ে দেয়। অথচ যখন নিশ্চিহ্ন করতে থাকে
ঝাড়েবংশে আমাদের, তখন মানবতাকে
কোথায় লুকিয়ে রাখে তারা? তাই আর কোনো দয়ামায়া নয়, যেখানেই পাও
ভণ্ড এইসব মানুষের দেখা, সর্বশক্তি দিয়ে সাথে সাথে প্রচণ্ড কামড়াও।’
শুনে তার কথা বলে উঠলো সমস্বরে মারমুখী তার বিপ্লবী কওম:
‘মানুষ দেখতে পাবে আজ থেকে কিরকম আমরা তাদের জীবনের যম।’
৯.১১.২০১৩ মিলনমোড়, সিরাজগঞ্জ
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান