সুখ অদ্ভুত / সাইফ আলি

০১
:কয়টা বাজে?
:কি জানি, তিনটা চারটা বাজবে হয়তো।
:ঘড়িটা দেখনা-
:ওটা দেখার জন্য না, দেখানোর জন্য।
:ও আচ্ছা, তোর এই ব্যপারটা আমার ঠিক মাথায় আসে না।
:কোনটা?
:এইযে, নষ্ট ঘড়ি পরে আছিস, লোকদেখানোর মধ্যে এতো মজা পাস তুই…
:তুই পাস না।
:না।
:মিথ্যা বলিস না, তুইও পাস; অন্যভাবে। রাখ সে কথা, তোর দিনকাল যাচ্ছে কেমন? অফিস কি এখনো তেমন চাপে রাখে।
:আগের চেয়ে বেশি। বেতন দেয়ার খোঁজ নেই, কাজের বেলায় মন ভরে না।
:কি করবি বল, সর্বচ্চ এতটুকু করতে পারিস; ভালো কোনো অফার থাকলে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে চলে যাস।
:দু’মাসের বেতন আটকে রেখেছে। ইচ্ছে করে…

বহুদিন পর ওদের দেখা, চাচাতো ভাই না বলে বন্ধু বলাটাই ভালো হবে। পড়াশুনা শেষ করে চাকরিতে ঢুকেছে শাওন। আর সরল এখনো কিছু করে না। লোকে বেকার বলে তবে তাতে ওর কিছু যায় আসে না। বেকার তো আর গালি না। আর জীবনের একটা সময় সবাইকেই এই উপাধিটা নিতে হয়। বিলের এদিকটা শান্ত। লোকজনের বিশেষ যাতায়াত নেই। এটা এখন মৌসুমী বিল। শুধুমাত্র বর্ষাকালেই পানি হয়। বাদবাকি সময় ধান চাষ হয়। এখন ধানের সময়, সবুজ ধানখেতগুলো বাতাসে দুলছে। সেদিকে তাকিয়ে শাওন বললো, মাঝে মাঝে মনে হয় চাকরি-বাকরি ছেড়ে এখানে চলে আসি। এই খোলামেলা মাঠ, নীল আকাশ, পাখিদের ডাকাডাকি; কে চাই এসব ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমাতে। একটা বিষয় লক্ষ করেছিস, আমরা কেমন হঠাৎ করেই বদলে গেছি। ঘুম থেকে উঠে অফিস আর অফিস থেকে ফিরে কোনোরকমে বিছানায় পিঠ রাখতে পারলে হয়।
:হুমম, তোর ভেতরে কাব্য প্রতিভা জাগ্রত হচ্ছে।
:সেটা আমার থেকে তোর ভেতরে বহুগুণ বেশি। ছেড়ে দিয়েছিস নাকি?
:না, লেখি মাঝে মাঝে, কিন্তু লেখে কি হবে, কেউ কি ওসব পড়ে?
:না পড়ুক, তুই তোর মতো লেখতে থাক। নিজের জন্য লেখ, সবকিছু অন্যের জন্য করে লাভ কি?
:এ জন্যই তোকে আমার এতো ভালো লাগে। তাহলে এই সুযোগে তোকে একটা কবিতা শুনিয়ে দিই, কি বলিস।
:এটার জন্য তুই কখনো অনুমতির তোয়াক্কা করেছিস বলে তো মনে পড়ে না। বল শুনি-

:আমি এক অদ্ভুত সুখে আছি জানো
সময়ের রঙড়ঙা পরিচয় নেই
ব্যথা আছে, কিন্তু কোনো দুঃখ আমাকে স্পর্শ করে না
স্বপ্ন আছে, কিন্তু কোনো ব্যস্ততা আমাকে তাড়া করছে না
আমি এক অদ্ভুত সুখে আছি বেঁচে!

বৃক্ষকে দেখো অভিযোগ ছাড়া
কি দারুণ আকাশের দিকে উঠে যায়
যেনো তার ওটাই ঠিকানা!

আমি এক অদ্ভুত স্রোতে ভেসে আছি
যেই স্রোত কোনোদিন ভাসায়নি আমাকে
অদ্ভুত নদী, সাগরের দিকে তার গতী নেই!

আমি এক অদ্ভুত সুখে আছি জানো…

:বাহ কথাগুলো দারুণ। অদ্ভুত সুখ তাই না, আসলেই কবিতাটা আমার জন্যেও খাটে। আসলে সবার জন্যেই খাটে। সন্ধ্যা হয়ে আসছে।
:তাতে কি, জ্বিন-ভূতের ভয় আছে নাকি।
:তা যে একেবারেই নেই বলবো না। তবে…
:তবে?
:তোর মতো একটা ভূত পাশে থাকতে জ্বীন ভুতের ভয় কোত্থেকে আসবে।
:হা হা হা… ভালো বলেছিস।

০২ (চলবে)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s