লোকটা / সায়ীদ আবুবকর

লোকে বলে, ‘লোকটা মাতাল
কারণ সে আকাশপাতাল
ভাবে সারাদিন;
পৃথিবীর সব দেশই তার দেশ-লিবিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল কি চীন।’

লোকে বলে, ‘লোকটা কপট-
লম্বা আলখাল্লা গায়ে, মাথায় সাধুর জট,
মানুষের দুঃখ দেখে, সে-মানুষ স্কটিশ, মঙ্গোলিয়ান, ইরাকী, জাপানী,
কপট দুচোখে তার খেলে যায় পানি।
আসলে এসব আসল ক্রন্দন নয়,
ক্রন্দনের অভিনয়।’

লোকে বলে, ‘ফিলিস্তিন, মিয়ানমার, লিবিয়া, ইরাকে মানুষ মরে-
কী হয়, বলুন, তারা তার? বাপদাদা? মামুখালু? তবু সে ভণিতা করে
বক্ষ তার ভেঙে খানখান, শোকে-তাপে-ক্ষোভে পারে না সে খেতে-শুতে
সেসব মৃত্যুতে।

‘বিশ্বের যেখানে যা-ই হোক, তাই নিয়ে
ইনিয়ে বনিয়ে
ঝটপট লেখা চাই তার কতিপয় কপট কবিতা;
এমনই ভণ্ড সে, মিষ্টির প্রলেপ দিয়ে কথাবার্তা কয়-টকটক, তিতা তিতা।’

আমি বলি, ‘ভাইসব,
যখন লাশের পর লাশ দেখে বিশ্বময় কপটেরা করে যায় খুনীদের স্তব;
যখন খয়েরখাঁতে ভরে গেছে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম;
হায়েনার হুংকারে ভয়ে হয়ে যায় হিম
সভ্যতার সমস্ত রুধির; আর মানুষের কান্না শুনে কেটে পড়ে তারই ভগ্নি-ভ্রাতা
চুপচাপ; তখন এ লোকটাই সভ্যতার শেষ বাতি, মানুষের একমাত্র ত্রাতা।’

৩১.১০.২০১২ নাটোর