লেজকাটা শেয়ালের দেশে / সায়ীদ আবুবকর

এত শেয়াল, লেজকাটা, চারদিকে! গায় তারা একই গান
তাদের বাপের মতো: ‘ভাইসব, বড় বেমানান
ওই লেজ। সুতরাং কেটে ফেলুন না একসাথে
লেজগুলো; সুন্দর লাগবে তাতে।’

লেজের নিষ্প্রয়োজনীয়তার উপর তারা বলে যায় কথা
অনর্গল। তাদের কথার যথার্থতা
উপলব্ধি করে কেউ কেউ। কেউ কেউ এতদূর পর্যন্ত ভাবতেও থাকে,
কেটে ফেলবে শেষমেশ তাদের বাহুল্য লেজটাকে।

শুধু এক বয়োজ্যেষ্ঠ শেয়াল খেয়াল করে, লেজহীন তারা;
এরকম দিশেহারা
হয়ে তাই লেজঅলাদের ’পরে
পেতে দিয়ে ইবলিশী কূটজাল, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ করে।

ধরে ফেললে সে চালাকি তাদের, পড়ে যায় তোলপাড়;
সমস্ত শেয়াল তখন আক্রোশে যেই লেজহীনদের ঘাড়
ধরে কামড়িয়ে, সাথে সাথে বেঁধে যায় এক রণ
ভয়াবহ। সমানে সমানে তারা লড়ে যায় প্রাণপণ।

কিন্তু এত শেয়াল, লেজকাটা, চারদিকে! লেজকাটা
শেয়ালের দলই আজ ভারি। লেজ নিয়ে তাই তো কঠিন হাঁটা
পথেঘাটে। হে লেজঅলারা, যদি থাকবার ইচ্ছে থাকে এই গাঁয়ে,
কেটে ফেলুন না সব লেজ; তা না হলে কাপুরুষদের পায়ে

এখনই পালিয়ে যান, যেভাবে পালিয়ে গিয়েছিল নপুংসক লক্ষণ সেন;
তা না হলে, মনে রাখবেন,
একটাই পথ আছে শুধু খোলা-মৃত্যু কিংবা লড়াই; কী অর্থ সে-বাঁচার-
শৌর্য নেই, বীর্য নেই, নেই পাহাড়ের মতো খাড়া মেরুদণ্ড যার?

৬.৬.২০১৪ মিলনমোড়, সিরাজগঞ্জ