আত্মার ফোঁকর থেকে / আবুল হাসান

না, না ওকে জাগাবোনা! এই অন্ধকারে
যখন সূর্যের তালা বন্ধ করে ফিরেছেন রাগী ঈশ্বর
যখন সেগুন ডালে দু’একটা বোবা পাখী চিৎকারে ফাটায় আকাশ
ব্যঙ্গ করে তৈলহীন দীপাধার আমার টেবিলে,
তখন, কী কোরে জাগাবো তাকে? ঈশ্বর বড় অকরুণ!

ও বরং একতোড়া যন্ত্রণা নিয়ে শীতল ঘুমের মোহে
শুয়ে থাক! ওর ঐ রং গলা আলাপ সালাপ
উচ্ছলিত হাসি আর ঠোঁটের বিকারে চাপা কথা-কিংবা
উত্তাপে চড়া ধমনীর ক্রুদ্ধ আঁতাত- কিছুতেই সহ্য কোরে
নিতেই পারেনা এই শেলফের বৃদ্ধ বই, টেবিলের ম্যাগাজিন
গলা মোমবাতি আর মায়ের হাতের দেওয়া কয়খানা ধর্মীয় পুস্তক!

মা বড় ভালোবাসতো এই মুখর নৈঃশব্দে বসে
ঈশ্বরের সমর্থ সভায়, হৃদয়ের রং ভাঙা দু’একটা প্রাচীন কথায়
নিজেকে ছড়িয়ে দিতে!

না-না, যদি সেই প্রাচীন বিশ্বাস ভাঙে!
সব পাখী, ফুল আর জলের শব্দ শুনে
যদি ওর মুঠো খুলে না ঝরে সে মায়ের প্রসাদ!
তবে আরণ্যক বিদ্ধ হবে আমার এ স্নায়ুগত
যত আছে, সব!

না-না, ওকে জাগাবো না! তীব্র নিঃশ্বাসেে
একা ঈশ্বরের স্বপ্ন নিয়ে শীতল ঘুমের মোহে
ও ঐ আত্মার কোটরে থাক শুয়ে!