কল্পনা তোর নাগাল পেলেই আকাশে বেলুন ছুড়ি।
ফুঁ দিয়ে সেখানে ইথারে আয়নে বাজাই অলীক চুড়ি।
বস্তুত; এই নিষ্ক্রিয় পথে, ছায়ারোদ কারবারে,
কল্পনা তোর হাত ধরে শেষে চলে যাই পারাপারে।
মিথ্যে যেখানে মুখোশ সবার রক্তের উৎপাতে
কল্পনা তোর ভাড়ার মূল্য কমে নাকি উৎখাতে?
স্বপ্নকে নিয়ে হাত ধরে ধরে এগিয়ে যেখানে যাই
ছায়াপথ নয়, বিলাস চেতনা, সঞ্চয় তাতে নাই।
উড়ো চিল ডাকে জানি ওর ডাকে সূর্য পোড়েনা কোনো
কল্পনা তবু ঘনসন্ধ্যায় আর কেন তারা গোনো?
যাকে চেনো তার নগ্ন কথার মিথ্যে সোহাগে আর
কল্পনা আনো পানকৌড়ির আচানক ব্যবহার?
কল্পনা তোকে রঙিন আলোর পিরান পরিয়ে তাই
সারাক্ষণ চলি, যাতে আর সেই মুখোশ না পায় ঠাঁই।
স্মৃতি স্বপ্নের গায়ে মেখে মেখে কান্না রক্ত জল
কত চেনা পাখী, চেনা শীষ ফেলে হারিয়েছে সম্বল!
স্বপ্ন যেখানে উল্লাসে হাসে -অগভীর প্রার্থনা,
কল্পনা হায়, সেখানে কি আর কেউ গান গায়তোনা?
মৃত্যুকে জানি ঘনশ্যাম, তার রূপের বিপুল বিভা
জীবনে প্রথম তাই জানলাম তোমাকে স্বপ্ন, রেবা!
পৃথিবীর সব ঘটনাকে ঢেলে যা কিছু মূল্যবান
তার পরিধিতে ডুব দিয়ে দেখি সকলই তোমার দান।
কল্পনা তবে পদে পদে এই সাপের নিঃশ্বাস কেন?
কল্পনা তুমি নাগফণা থেকে রত্ন কুড়াতে জানো?
পূর্বপুরুষ জানতো সবার হাসি আর কান্নাকে
কল্পনা তুমি ঊষর স্নায়ুতে খুঁজে কি রাখবে তাকে?
যৌবনে যার রক্তকে চিনি সেই কেন অপঘাতে
কুষ্ঠরোগীর নিঃশ্বাস রাখে ঘনরাত পরিখাতে?
সত্যকে চিনি ধ্রুব কল্যাণ তার দু’চোখের আলো,
বস্তুত; নেই সত্যভাষণ, স্বপ্ন কেন বা জ্বালো?
উড়া পাখী ভাসে চাঁদের নদীতে, নখরে মাটির দাগ,
কল্পনা তবে আকাশী সোয়ার তোমাতে উৎস পাক।
জন্মদিনের উৎসবে দেখি শরতের চাঁদ হাসে
কল্পনা তোকে পাঠাই আকাশে যাতনার উদ্ভাসে।
কল্পনা তবে মাটিতে এবার বীজ ছড়াবার পালা,
কল্পনা তুমি বৃষ্টির জলে ভোলো ফসলের জ্বালা!
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান