রবীন্দ্রনাথকে / আবুল হাসান

আমার রক্তকে বলি তোমার গানের মত পরম্পর গভীরে ছড়াতে
স্বাস্থ্যের শিরায় তোমার ভাষ্যের শীষে কলিক নীবিতে রেখে বিদেহী বিলাপ
বুঝিনা অমৃত কার, বুঝিনা কেননা এই প্রতিম বিকাশ
তোমার সকল গানে মিশে নিয়ে হারায় নিজেকে।

কৃতজ্ঞতা ভুলে গেছি, কৃতজ্ঞ কখনো নই; কাঙাল মুখের ছাপে
মেখে দেই তবুও তো তোমার প্রাণের ভাষা, মুঠে পুরে প্রশান্তির কড়ি!
পৃথিবীকে চিনেছি কি? সুনীল আকাশ পুরে বুকের বিবরে
বুঝেছি কি তোমার মতন কোরে গভীর মমতা? চৈতন্যের বিষাদে ও শীতে
দেখি অহরহ: তুমিই সামনে আস!

মরমী তোমাকে আমি কী কোরে যে হৃদয়ের প্রেম দেব।
চারপাশে জড়িয়ে রেখেছি আমি অপ্রভিত যন্তণাকে !
যার ইতর শব্দে ভাঙে নিবেদিত প্রাণের পুতুল!

সব পাখী গান গায়, তবু তোমার পাখীর মতো সম্মুখে হয়না আর কথা,
তুমি প্রাচীন বৃক্ষের স্বরে খুঁজেছিলে নিবিড় নি:শ্বাস।
বৃষ্টির বাউল তোমার চিকন শ্বাসে ছুঁয়েছিল বোধির কাঁপন।
স্পর্শকাতর নারী তোমাতেই জন্ম দিল প্রেমের দরদ!

আমার দু’হাতে কাঁপে অশ্লীলতা ,
জানিনা তোমাকে আর;
কী কোরে হৃদয় ছেচে বসাই আবার সেই অবধূত তোমার প্রতিক?

ঘুমের বাগানে যদি গোলাপের গন্ধ ভাসে , যদি
বাচাল মিথ্যে শব্দ চাটি মেরে, শুষে নেই আবার তোমার গান।
-শুষে নেব? ইচ্ছার বরফ কেঁচে শুষে নেব
কী কোরে সাধক?
জিহ্বার গ্লান্ডে ভরা শুধু আজ মড়ালের বিষ!

স্বপ্নের মণিতে তীক্ষ্ন ক্লান্তি এসে অনীহার ছানি গাঁথে।
তবু আজো দেখি, আমার রক্তের স্বরে তোমার পরিধি বাড়ে শুধু!

ঝেটিয়ে ক্ষোভের প্রেত, সজ্জন লাবণ্যে তাই
তোমার সুরের শব্দে জল ঢালি নিজের বাগানে!