আজকের এই সকালবেলাটা গতিহীন হোক
ছবি হয়ে থাক রৌদ্র-ছায়ার হাওয়ার বেলা
আমি বিছানায় শুয়ে বসে থেকে উপভোগ করব সকাল।
আমার ডানের জানালা- আমার পৃথিবী দেখার চোখ।
কেউ জানবে না, কি যে ভালোলাগা; কী গাঢ় বাতাস
উদোম উঠোন, কি নীল আকাশ- আশ্বাসে মন ভরে যায়।
বিছানায় শুয়ে দেখতে পাচ্ছি ডালিমের প্রাচুর্য
সবুজের ফাঁকে সুন্দরীদের লজ্জায় ফেটে পড়া গাল
বুলবুলি আর চড়ুই এসেছে হয়ে যেতে সব গানের মাতাল।
আমার ইচ্ছে হলো, আমি হয়ে যাই এইসব গানের তাল।
আমি পাশ ফিরি, আমার চোখও পাশ ফিরে বা পাশের
খোলা জানালায়- নিম সজনের পাতায় ছায়ায় রোদ্দুরে।
ওপাশে একটা বাড়ি, কি মজার শিশু আর একজন দাদু।
বারান্দায় কি আনন্দে খেলা করছে প্রাচীন আর
সবুজ নতুন! ইচ্ছে করছে আমি গিয়ে মাঝে দাঁড়াই।
এইবার পাশ ফিরে উঠে বসি। চোখ সামনের জানালা
দিয়ে চলে যায় রাস্তায়- কত লোকজন, চলাচল
কোলাহল। তার ওপাশে দোতলা- একটি জানালা, শিশু
আর মা। মা হাত বাড়িয়ে আকাশ, পাখি উড়বার দৃশ্য
দেখালেন। আর টেলিফোন তারে বসে থাকা একা দোয়েল।
কি যে আনন্দ, দু হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সে, কি যে চেষ্টা
পাখিটা ধরার। বাইরে যাবার। অথচ শিশুটি সারাদিন
ঘরময় ঘরে। ঘর শুধু ঘর। আহ্ আমি যদি সিন্দবাদ
হতে পারতাম- শিশুটিকে নিয়ে ঘুরে আসতাম বিশ্বময়।
আমার শিয়রে আমার দরজা। এবার মা আসলেন
দুপুর যে হয়ে এলো, এখনও ঘরে বসে? ওঠ্, ওঠ্!
কী করে যে মাকে বোঝাই আমি এ সকালটা ধরে রাখতে
চেয়েছিলাম। কী করে বলি- আমি, পারলাম না, মা!
কিন্তু আমি যা পেলাম তা শুধু নিরন্তরের, বোধের।
১১.০১.২০০২
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান